এন্ড্রু ফোন করে বলেছিল, ‘দোয়া কইরেন, যেন শান্তিমতো যেতে পারি’

আলম খান ও এন্ড্রু কিশোর১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ সিনেমায় ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্রথম প্লেব্যাক করেন এন্ড্রু কিশোর।

এরপর এই দুজনে সৃষ্টি করেন অনেক কালজয়ী গান। যার মধ্যে অন্যতম, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, ভুলি নাই তোমাদের মতো, হায়রে মানুষ, চাঁদের সাথে আমি দেবো না তোমার তুলনা, কারে বলে ভালোবাসা, আমি চক্ষু দিয়া, তোরা দেখ দেখ দেখরে চাহিয়া প্রভৃতি।
সেই এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুর খবর পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন দেশের আরেক কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক আলম খান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এন্ড্রু কিশোর নাই। আজ আমার শরীর যতটা খারাপ, তার চেয়েও অধিক খারাপ আমার মন। কিছু ভালো লাগছে না। শুধু দীর্ঘশ্বাস বের হচ্ছে।’
স্মৃতিকাতর আলম খান বলেন, ‘‘১৯৭৭ সাল। ‘মেইল ট্রেন’ ছবিতে এন্ড্রু কিশোর প্রথম গান গেয়েছিল। আমার সুর করা গান। এটি নিয়ে অনেকে আমার কাছে অনেক কিছু শুনতে চান। অনেক পুরনো কথা। ঠিক মনেও পড়ে না এখন। তারচেয়ে বড় কথা, এন্ড্রুর সঙ্গে তো আমার স্মৃতি অনেক। অভাব নাই। তাই প্রথম দিককার গানের কথাটা সেভাবে মাথায় আসে না।’’
আলম খান নিজেও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন কয়েক বছর ধরে। সোমবার সন্ধ্যায় নিজের হাতে গড়ে তোলা এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘অনেক গুণ ছিল এন্ড্রুর। গানের প্রতি কী যে নিষ্ঠা, সততা, তা বলে বোঝানোর নয়। মানুষ হিসেবেও সে অন্যরকম ছিল। কী যে ভোজন রসিক! তারচেয়ে বড় কথা সে ছিল ভালো মানুষ।’
আলম খান বলেন, ‘‘সে যখন অসুস্থ হলো, যাওয়ার আগে আমার কাছে বিদায় নিয়েছিল। এমনকি যখন চিকিৎসা চলছিল, এরমধ্যেও সে ফোনে আমার সঙ্গে কথা বলতো। এরপর বিষণ্ণ মন নিয়ে দেশে ফিরলো। রাজশাহী যাওয়ার পর আমাকে ফোন দিয়েছিল। সব বললো। তার কষ্ট আমি আর নিতে পারছিলাম না। কয়দিন আগে ফোনে বিদায় নেওয়ার মতো করে বললো, ‘দোয়া কইরেন যেন শান্তিমতো যেতে পারি।’ এটাই ছিল আমার সঙ্গে তার শেষ কথা!’’
ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটের দিকে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এন্ড্রু কিশোর।





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: