তারকাদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন মারিয়া! (ভিডিও)

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অন্য অনেকের মতো ঘরেই থাকছেন উপস্থাপক-মডেল-অভিনেত্রী মারিয়া নূর। যদিও বাসায় থাকতে তার ভালোই লাগে। লকডাউনে সারা রাত ছবি দেখে, গান শুনে, বই পড়ে সময় কাটে তার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাত ৪টায় ঘুমাতে যান। পরদিন বিকাল ৩টায় জেগে ওঠার পর শুরু হয় দিন। এভাবেই কেটেছে তিন মাস।
লকডাউনে বসে থেকে থেকে এখন মারিয়ার মনে হয়েছে, ভক্ত-দর্শকরা তাকে পর্দায় দেখতে চায়। এটা ভেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অনুষ্ঠান শুরু করেছেন তিনি। এর নাম ‘মারিয়া চ্যালেঞ্জ’। গত ২৭ জুন এ আয়োজনের প্রথম পর্বে অতিথি ছিলেন অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ। গতকাল ছিলেন সাফা কবির।
যদিও লাইভ অনুষ্ঠান করার ইচ্ছে হচ্ছিল না মারিয়ার। কারণ, লকডাউনে লাইভের হিড়িক দেখেছেন তিনি। “লেট’স টক উইথ বাংলা ট্রিবিউন” অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “দর্শকদের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকে ‘মারিয়া চ্যালেঞ্জ’ শুরু করেছি। আর আমি যেটাতে ভালো সেটাই করতে চেয়েছি, অর্থাৎ অন্য মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া বা আড্ডাধর্মী অনুষ্ঠান উপস্থাপনা। প্রতি শনিবার রাত ৯টায় আমার ফেসবুক পেজে এটি দেখতে পারবেন।”
শনিবার (৪ জুলাই) বাংলা ট্রিবিউনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে আড্ডা অনুষ্ঠান “লেট’স টক উইথ বাংলা ট্রিবিউন”।
মারিয়া চ্যালেঞ্জ’-এ অতিথিকে অভিনয় করতে বলেন মারিয়া। অনুষ্ঠানটির অবয়ব প্রসঙ্গে তার বর্ণনা এমন, ‘করোনা মহামারিতে স্বাভাবিকভাবেই সবাই সিরিয়াস। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। মানুষের ভেতর আতঙ্ক, হতাশা, অবসাদ কাজ করছে। তাই এমন কিছু করতে চেয়েছিলাম, যেন কিছুক্ষণের জন্য হলেও দর্শকদের মজার সময় কাটবে। তাই তারকাদের সঙ্গে গেমস খেলার কথা ভেবেছি। প্রতিটি পর্বের আগে তারকাদের নিয়ে গবেষণা করে নিচ্ছি। এক পর্বের প্রশ্ন যেন পরেরটাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখছি। হাতে তো এখন সময় আছে, তাই যতটা সম্ভব মজার করতে গবেষণায় মনোযোগ দিচ্ছি।’
মারিয়া মনে করেন, ‘লকডাউনটা আমাদের সবাইকে মেনে নিতে হবে। আমরা ঘর থেকে বের হলে নিজেদের যেমন ক্ষতির মুখে ফেলবো, অন্যদের জন্যও তা সংক্রমণের কারণ হতে পারে। আমি সাবধানতা পালন করলাম, কিন্তু আমার চারপাশে যারা আছেন তারা যদি সচেতন না থাকেন তাহলে কিন্তু লাভ নেই। তাই বাসায় থেকে নিজের সময়টুকু যতটা উপভোগ করা যায়, সবার সেই চেষ্টা করুন।’

মারিয়া নূর/ ছবি: সংগৃহীতরেডিও জকি হিসেবে যাত্রা শুরুর পর চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের মাধ্যমে ছোট পর্দায় অভিষেক মারিয়ার। এখন তো বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ মানেই তিনি টিভিতে হাজির! ২০১৪ সাল থেকে নিয়মিত ক্রিকেট বিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। ক্রিকেটের বাইরে ‘লেট নাইট কফি’ উপস্থাপনা ছিল তার কাছে সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য। এর কারণ শুনুন তার মুখে, ‘ওখানে আমি নিজের মতো থাকতাম। আলাদা কোনও ব্যক্তি হয়ে বসতো হতো না। প্রশ্ন ও গেমস সব আমি বানাতাম। তাই কাজটা আমার খুব মজা লাগতো।’
মডেল-অভিনেত্রী হিসেবে টুকটাক কাজ করেছেন মারিয়া। গত ভালোবাসা দিবসে একটি নাটকে অভিনয়ের পর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়ে ভাবলেন, দর্শকদের জন্য রোজার ঈদে কয়েকটা কাজ করবেন। চারটি নাটক চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে সব ভেস্তে গেলো।
এখন আবারও শুটিং শুরু হয়েছে। কিন্তু ঈদুল আজহার জন্য প্রস্তাব পেলেও সামাজিক দূরত্বের কথা ভেবে মারিয়া আপাতত অভিনয় করবেন না। তার যুক্তি, ‘নিজের ভেতরে যদি অস্বস্তি থাকে তাহলে তো ঠিকঠাক কাজ করতে পারবো না। আমাদের শোবিজের মানুষদের জড়তা থাকলে চলে না। কিন্তু এখন শুটিংয়ে ফিরলে আমার মধ্যে একটা জড়তা কাজ করবে। তাই মনে হয়েছে আরেকটু সময় নিই। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যখন কমে আসবে, নিজেকে যখন সাহস দিতে পারবো, তখন অভিনয়ের কথা আবার ভাববো। এখন না।’
মারিয়া কেবল দুটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন—‘ঝালমুড়ি’ ও ‘ফাইভ ফিমেল ফ্রেন্ডস’। অভিনয়ে নিয়মিত হতে চান না বলেই এই সংখ্যাটা কম। তার কথায়, ‘সিরিয়াল মানে তো অভিনেত্রী খেতাবটা নিয়ে নিলাম! সেটা আমি চাই না। বিশেষ দুই-একটা কাজ হলে ঠিক আছে।’
সাংবাদিক জনি হকের সঞ্চালনায় “লেট’স টক উইথ বাংলা ট্রিবিউন” অনুষ্ঠানে টোয়েন্টি-টোয়েন্টি তথা র‌্যাপিড ফায়ারে মজার মজার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মারিয়া নূর। যেমন—সাম্প্রতিক সময়ে কোন তারকাকে দেখে প্রেমে পড়েছেন, কোন ক্রিকেটারের পাশে বসে খেলা দেখতে চান, কোন বিখ্যাত ছবিতে কাজ করতে পারলে ভালো লাগতো ইত্যাদি।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় দুই অভিনেতা আফরান নিশো নাকি অপূর্ব, কাকে বেশি পছন্দ? মারিয়ার উত্তর, ‘দুজনই আমার প্রিয়। তবে আমার কাছে অপূর্বকে রোমান্টিক চরিত্রে বেশি ভালো লাগে। আর একটু পাগলাটে বা বিন্দাস চরিত্রে নিশোর অভিনয় বেশি উপভোগ করি।’
মারিয়া মনে করেন, উপস্থাপনায় সৌন্দর্যের চেয়ে দক্ষতা ও বুদ্ধি বেশি জরুরি। নতুন প্রজন্মের তরুণীদের জন্য তার পরামর্শ, ‘কাউকে অনুকরণ না করে নিজের মতো হওয়ার চেষ্টা থাকলে ভালো।’মারিয়া নূর/ ছবি: কাজী আহনাফ আকিব





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: