সিরাজগঞ্জে ছাত্রলীগ-যুবলীগের দু গ্রুপে সংঘর্ষ, যুবলীগ সা. সম্পাদকসহ আহত ২০

সিরাজগঞ্জে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে শহরের এস এস রোডে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।

জেলা ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক বিজয়ের মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে হঠাৎ করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জ শহর। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের এস.এস.রোডে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শহরের চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সংঘর্ষে যুবলীগও যোগ দেওয়ায় আওয়ামী লীগ অফিসের আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

মঙ্গলবার বাদ আসর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বিজয়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ছাত্রলীগ। সেখানে কতিপয় নেতাকর্মীর হট্টগোলকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সংঘর্ষে এক গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ বিন আহম্মেদ, অন্য গ্রুপে ছিলেন একই

সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবিব খোকা। জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ইউসুফ জুয়েল ও তার সমর্থকরা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ বিন আহম্মেদকে সমর্থন দেন। অপরদিকে, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান হাবিব খোকা ও তার সমর্থকদের পক্ষে সমর্থন দেন।

সংঘর্ষে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক একরামসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহত একরামুল হক একরামের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এসময় লাঠিসোঁটা, ইট পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে দলীয় প্রতিপক্ষরা পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের মোড়ে মোড়ে উত্তেজনা দেখা যায়।

মঙ্গলবার সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৮/১০ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন বলে জানান সদর থানার ওসি হাফিজুর রহমান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফোরকান শিকদার সন্ধ্যায় বলেন, দলীয় কার্যালয়ে বিজয়ের রুহের মাগফেরাত দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষ কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তা নিয়ন্ত্রণ করলেও শহরে উত্তেজনা রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, ‘সদ্য প্রয়াত ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক বিজয়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় মঙ্গলবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ছাত্রলীগ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। মঙ্গলবার বাদ আসর নামাজ শেষ না হতেই দলীয় কার্যালয়ের পেছনে থাকা জেলা ছাত্রলীগের কতিপয় উশৃঙ্খল নেতাকর্মীর আকস্মিক গণ্ডগোল শুরু করে। পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে গেলে কর্মসূচি তাড়াতাড়ি শেষ করে সিনিয়র নেতারা যে যার মতো দলীয় অফিস থেকে চলে আসি।

তিনি আরও বলেন, এনামুল হক বিজয়ের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আমরাও গভীর শোকে শোকাহত। কিন্ত, এ ঘটনায় নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ও রক্তপাতের বিষয়টিও অনাকাঙ্ক্ষিত।’

উল্লেখ্য, দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে কামারখন্দ হাজী কোরপ আলী সরকারী ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সহ সাধারন সম্পাদক এনামুল হক বিজয়কে গত ২৬ জুন শহরের বাজার স্টেশন মোড়ে বিজয়ের ওপর হামলা করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ দিন পর বিজয়ের মৃত্যু হয়।

এদিকে, সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত মুন্না মঙ্গলবার বিকেলে এনামুল হক বিজয়ের বাড়িতে গিয়ে বাবা, মা, ভাই, বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: