ক্ষতি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্য ভারসাম্যের কৌশল নিয়েছে সরকার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে ভারবাম্য বজায় রেখে সরকার সমন্বিত জনস্বাস্থ্য প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কৌশল গ্রহণ করেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার প্রভাবে সারাবিশ্ব স্থবির হয়ে পড়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের দেশে এর প্রভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে অনেকগুলো প্রতিরোধ/প্রতিকারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। দ্রুততম সময়ে সঠিক কৌশল অনুসরণ করায় এ পর্যন্ত দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।’

তিনি বলেন, করোনা মহামারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে এক অভূতপূর্ব সংকটের সম্মুখীন করেছে। উন্নত দেশসমূহ এ ভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস মোকাবিলায় কোনও কার্যকর টিকা বা চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি। তাই এ রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ এবং বিস্তার রোধে মাস্ক ব্যবহার, কাশি শিষ্টাচার, শারিরীক দূরত্ব, হোম কোয়ারেন্টিন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন মেনে চলা ও সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকেই মূল কৌশল হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা বিস্তাররোধে লকডাউন কার্যকর কৌশল হলেও এই পরিস্থিতি দীর্ঘকাল অব্যাহত থাকলে কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক শৃঙ্খলাও ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে কর্মহীনতা ও দরিদ্রতা লাগামহীন হারে বেড়ে অন্যান্য কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় এ দু’য়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সমন্বিত জনস্বাস্থ্য প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

ভোলা -২ আসনের আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট দুর্যোগে আমরা বিস্তৃত পরিসরে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। এ পর্যন্ত সারা দেশে দুই কোটি ৩৫ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫টি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় দুই লাখ ১১ হাজার ১৬৭ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ২৫ কোটি ৮৬ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা  বরাদ্দ করা হয়েছে। এতে উপকারভোগী জনসংখ্যা ১০ কোটি ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ জন মানুষ। শিশু খাদ্য বিতরণে ২৭কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপকারভোগী শিশুর সংখ্যা ১৪ লাখ ২৭ হাজার ৭৮ জন।

বগুড়া-৫ আসনের হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের সংকট নিরসনে সরকার বহুপক্ষীয় বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশি শ্রমিক ও অভিবাসীদের অধিকার সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তাদের খাদ্য চাহিদা নিশ্চিত ও অন্তত ৬ মাস চাকরিচ্যুত না করতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ করেছি। অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার অনুরোধ করা হয়েছে।

যশোর-৩ আসনের কাজী নাবিল আহমেদের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, করোনার কারণে বিভিন্ন দেশে কর্মহীন হয়ে পড়া বাংলাদেশি কর্মীরা যেন করোনা পরবর্তী সময়ে পুনরায় কাজে নিয়োগ পেতে পারে সেজন্য সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি জানান, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে (১২ জুন পর্যন্ত) ১৪ হাজার ৯৫৭ জন প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অধিকাংশ প্রবাসী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ ও সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত এসেছে।

 

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: