‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’ পদক পাচ্ছেন রিজেন্ট চেয়ারম্যান সাহেদ করিম

দেশের আরেকজন কীর্তিমান এবার ভূষিত হচ্ছেন আন্তর্জাতিক পদকে। স্পিলবার্গের হলিউড সিনেমা ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’ অবলম্বনে ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’ পদক পাচ্ছেন রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম। বছরের পর বছর শত শত প্রতারণার পরেও ধরা না পড়া এবং ক্ষমতাবানদের সঙ্গে ওঠাবসার এক চরম স্বীকৃতি হতে যাচ্ছে বিরল এই পদকটি। এর আগে লবিং করে তিনি অন্যান্য নানান পদক পেলেও, লবিং বাদে নিজের কীর্তি দিয়ে জিতে নেয়া পদক এটিই প্রথম।

সদ্য র‍্যাবের হেফাজতে চলে যাওয়া রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে তিন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ। নমুনা পরীক্ষা না করেই করোনা রেজাল্ট ও চিকিৎসা, সরকারের কাছে ফ্রি চিকিৎসাসেবা দেয়ার কথা বলে রোগীদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা আদায় এবং ফ্রি চিকিৎসা দেয়ার কথা বলে সরকারের কাছেও উল্টো বড় অংকের বিল জমা দেয়া। তবে সাহেদ করিমের প্রতারণার ইতিহাস আরও অনেক দীর্ঘ। এক পুলিশ কর্মকর্তার মতে, সাহেদ একজন পেশাদার প্রতারক। শাহবাগ, লালবাগ, আদাবর, তেজগাঁওসহ বিভিন্ন থানায় তাঁর নামে প্রতারণার মামলা আছে।

সত্যিই তিনি পেশাদার, হেন দুই নম্বরি নেই যে তিনি করেননি! অথচ তবুও ক্ষমতাবানদের সঙ্গে ছবি তোলা, ওঠাবসা বাদেও বিভিন্ন সংস্থার সদস্য হিসেবে তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরেই। এতদিনে ধরা পড়েননি, শীঘ্রই হয়তো পাড়ি জমাবেন সিঙ্গাপুর, কানাডা কিংবা থাইল্যান্ডে।

প্রতারণার এমন পেশাদারি দক্ষতাই নজর কেড়েছে ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান সিনেমার পরিচালক স্টিফেন স্পিলবার্গের। সাহেদের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘যে বাটপারের জীবন অবলম্বনে সিনেমার গল্প লিখেছিলাম, সাহেদ তাকে কবেই ছাড়িয়ে গেছে! ওই লোকের তো এত ক্ষমতা ছিল না, প্রচুর রিস্ক নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। অথচ সাহেদকে দেখুন, কেমন দাপট নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দেখবেন, ঠিক চার্টার্ড প্লেনে করে সিঙ্গাপুর চলে যাবে, সেখানেও দাপিয়ে বেড়াবে।’

সাহেদকে আগে পেলে তাকে নিয়েই সিনেমা বানাতাম, এমন মতামত দিয়ে তিনি বলেন, ‘সিকুয়েল বানানোর ইচ্ছা এখনও আছে। উনার চেহারার সাথে মিল রেখে কোনো তামিল নায়ককে নেবো ভাবছি।’

সাহেদে মুগ্ধ ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান সিনেমার তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিয়োও। ফেসবুকে উনার আইডি লিংক খুঁজতে খুঁজতে বলেন, ‘উনার খোঁজ যদি সিনেমাটা করার সময় পেতাম, তাহলে চরিত্রের প্রস্তুতিটাও সঠিকভাবে নেয়া যেত। অস্কারটা মিস হতো না। যদি কখনো সিনেমার সিকুয়েলে অভিনয়ের সুযোগ পাই, উনার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে।’

এই পর্যায়ে সাহেদের কারাকীর্তির কথা চিন্তা করে শিহরিত হয়ে ডিক্যাপ্রিয়ো নিজের মনেই বলে ওঠেন, ‘ওরে বাটপার ওরে বাটপার’!

সিঙ্গাপুর না গিয়ে সাহেদকে হলিউডে চলে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সিনেমাটিতে পুলিশ চরিত্রে অভিনয় করা টম হ্যাংকস। সাহেদকে ‘ব্রো’ সম্বোধন করে তিনি লেখেন, ‘সিনেমায় তো শেষতক লিওনার্দোরে আমি ধরে ফেলেছিলাম। কিন্তু ভায়ে যে সেটাপ দিছেন, পুলিশ তো আপনাকে ধরতেও পারবে না, আটকাতেও পারবে না। ধান্দাবাজি করে যে পরিমাণ টাকা কামিয়েছেন, একবারে হলিউডেই চলে আসেন ভাই। নিজের টাকা দিয়ে নিজেই সিনেমা বানাতে পারবেন। আর এক দফা আড্ডাও দিতে চাই। আপনাকে একবার ছুঁয়ে দেখলেও ভালো লাগবে।’

আরও পড়ুন-

বাইচান্সের লাইসেন্স নাই, তাই আমাদেরও নাই: রিজেন্ট হাসপাতাল

রিজেন্ট হাসপাতাল যে ১২টি সম্ভাব্য ‘পদ্ধতি’তে করোনা পরীক্ষা করিয়েছে

রিজেন্ট হাসপাতালের মতো খাতা না দেখেই রেজাল্ট দেয়ার অনুরোধ জানালো শিক্ষার্থীরা

আরও পড়ুন eআরকি

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: