বিসিএসপ্রাপ্ত টিউটরকে নিজ হাতে আম কেটে খাওয়ালেন স্টুডেন্টের বড়বোন

স্ট্যাটাসের সাথে (ফেসবুকেরটা না) আপ্যায়নের বেশ গভীর একটা সম্পর্ক আছে আমাদের দেশে। আর কারো স্ট্যাটাস যদি বিসিএস ক্যাডার পর্যায়ের হয়, তাহলে আপ্যায়নের মাত্রা একটু ছাড়িয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি এমনই সীমা পরিসীমাবিহীন অভূতপূর্ব আপ্যায়নের ঘটনা ঘটেছে এক সদ্য বিসিএস ক্যাডার হওয়া প্রাইভেট টিউটরের সাথে।

স্টুডেন্টের বড়বোন নিজ হাতে আম কেটে খাইয়েছেন এই টিউটরকে। আম কেটে খাওয়ার ঘটনা হয়তো স্বাভাবিক। তবে এই ঘটনায় বিশেষ অস্বাভাবিকতার ছাপ রাখার পেছনে আমের বিশেষ শেপ আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এছাড়াও স্টুডেন্ট জানান, অন্যদিন তার বড়বোন ‘ভাইয়াকে নাস্তা দিয়ে আয়’ এমন কথা বললেও ঐদিন তিনি ‘উনাকে নাস্তা দিয়ে আয়’ এ ধরনের বাক্য ব্যবহার করেন।

জানা গেছে, ক্লাস ফাইভে পড়া ঐ স্টুডেন্ট ঘটনাটি বেশ স্বাভাবিকভাবে নিলেও অবাক হয়েছেন স্টুডেন্টের বাবা। নিজের বড় মেয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যে মেয়েকে কলা খেতে জিজ্ঞেস করলে কলার চামড়া ছাড়ানো নাকি জানতে চায়, আমার সেই মেয়ে আম কেটেছে তাও ঘরের বাইরের এক লোকের জন্য; বিষয়টি আমি ভাবতেই পারছি না। হুট করে মেয়েটার কি যে হলো!’

তবে স্টুডেন্টের মাকে এই বিষয়ে বেশ খুশিই দেখা গেছে। বড় মেয়ের আচরণের বেশ সন্তুষ্ট এই মা বলেন, ‘এতদিনে মেয়েটার বুদ্ধি হইছে। ঘরের কাজে মন দিচ্ছে। কোথায় আম দিতে হবে আর কোথায় আমের আঁটি মেয়েটা তাও বুঝতে পেরেছে।’

লাভ শেপের আম্রপালি আম খেয়ে কেমন আছেন ওই বিসিএস ক্যাডার টিউটর? এমন কৌতূহল থেকে তার খবর নিতে গেলে জানা যায়, খেতে খেতে ৮টি আম খেয়ে ফেলে আপাতত কিঞ্চিত অসুস্থায় ভুগছেন তিনি। তবে অসুস্থ অবস্থায়ই এই নব্য ক্যাডার বলেন, ‘৮টা টিউশনি করি ভাই। ৮টাতেই লাভ শেপের আম দিছে। কোথাও স্টুডেন্টের বড়বোন, কোথাও স্টুডেন্ট, কোথায় স্টুডেন্টের ফুফু। এক জায়গায় স্টুডেন্ট নিজেই! আমিও খুশিতে খেতে খেতে… আমাশয় হইল কিনা কে জানে!’

আমের বিশেষ শেপে কোন ইঙ্গিত বা মেসেজ পাচ্ছেন কি না, আমাদের এমন জিজ্ঞাসায় এই ক্যাডার বলেন, ‘কী যে বলেন! আমি আছি টেনশনে। সব বাসা থেকেই যদি অন্য কোনো প্রস্তাব আসে, তাহলে যেগুলা রিজেক্ট করবো সেই টিউশনিগুলাও গেলো, আর যেটা রিজেক্ট করবো না সেটা তো শিওর গেলো, মানে শ্বশুরবাড়িতে তো আর টিউশনি করা যায় না…’

এদিকে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঐ স্টুডেন্টের বড়বোন মূলত এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ঝুলে থাকা এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করার আশা নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন তিনি।





আরও পড়ুন eআরকিতে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: