গান আর চাকরির মধ্যে গানকেই বেছে নিয়েছিলেন যিনি

লতা মুঙ্গেশকরের শেষ লাইভ অনুষ্ঠানটা উপস্থাপনা করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। কয়েক দশক আগে কি! এক পর্যায়ে লতার পরিচয় দিতে গিয়ে বললেন- ‘আমি যখন প্রতিবেশি দেশের কারো সাথে আড্ডা দেই, তখন তারা সব সময় বলে ভারতের প্রায় সব কিছুই আমাদের দেশে আছে। দুটি জিনিস কেবল নেই- তাজমহল আর লতা মুঙ্গেশকর।’

সত্যিই তাই, শিল্পী ও শিল্পের কোনো তুলনা হয় না। পড়াশোনা শেষে অনেকদিন ঘুরে একটা চাকরি জোগাড় করতে পেরেছিলেন কিশোর। চাকরির ইন্টারভিউ দিতে ঢুকতে যাওয়ার ঠিক আগে কি মনে করে পাবলিক ফোন বুথ থেকে সত্য সাহাকে ফোন করেছিলেন খবর দিতে৷ সত্য সাহা তাকে বললেন, ‘আরে তুই, তোকে খুঁজে পাচ্ছি না। এখুনি আয়, গান রেকর্ড করতে হবে।’

এন্ড্রু কিশোর ইন্টারভিউয়ের কথা বলায়, সত্য সাহা কড়া ভাষায় বলেছিলেন- এটাই সিদ্ধান্তের সময়, গান নাকি চাকরি! এক মুহূর্ত দ্বিধা করেননি কিশোর।

বোন ক্লোজ আপ ওয়ানের হয়ে আমেরিকা গেল। ফিরে এসে একরাতে এন্ড্রু কিশোরের গল্প করলো। বললো, ‘ভাইয়া হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে রাতে পৌঁছেছি। জেটল্যাগ আছে। তাই বেলা পর্যন্ত আমরা জুনিয়ররা ঘুমিয়েছি, আর কিশোরদা সকাল ৬টায় উঠে রেওয়াজ করে জুস, ভর্তা বানিয়ে আমাদেরকে খাওয়ার জন্য ডেকেছেন।’

যেখানে গানের জগতে ল্যাং মারামারি- সেখানে বোনের মুখেই শুনেছি- কোনো গানের সুর বা কথা শুনে এন্ড্রু কিশোর নাকি মাঝে মাঝে নিজে গান না গেয়ে মিউজিক ডিরেক্টরকে বলতেন, এটা অমুককে দিয়ে গাওয়ান, ওর গলায় আমার চেয়ে ভালো আসবে। এভাবে প্রচুর ভালো গান তিনি ছেড়েছেন জুনিয়র আর্টিস্টদের জন্য।

আমি খুব গর্ব ভরে অমিতাভ বচ্চনকে বলতে পারি, ঠিকই আছে আমাদের লতাজি নেই। তবে আমাদের এন্ড্রু কিশোর ছিলেন। এবং আছেন। এবং থাকবেন। আমরা তাকে নিয়েও খারাপ ছিলাম না।

লেখা: তন্ময় ইমরান





আরও পড়ুন eআরকিতে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: