সিনেমার পোস্টারটি দেখে কি ধারণা করা যায়, শাবানা আসলে ব্রাজিলের সাপোর্টার?

ফেসবুকে সম্প্রতি একটি পুরোনো সিনেমার পোস্টার অনেকেরই চোখে পড়েছে। অনলাইনে ঘুরতে থাকা পোস্টারের এই চুম্বক অংশে সিনেমার নাম জানা যায় না। তবে সেখানে দেখা যাচ্ছে, নেইমারের মতো মাটিতে লুটিয়ে পড়া শাবানা আর্জেন্টিনার জার্সি পরা ভিলেনরূপী (হাবভাবে মনে হয়) রাজীবকে সর্বশক্তি দিয়ে ডিফেন্ড করছেন। ছবিতে শাবানার পরনে ব্রাজিলের পতাকার রঙের সবুজ শাড়ি আর রাজীবের ম্যারাডোনা টাইপ হেয়ারস্টাইল দেখে মনে হয়, সম্ভবত ফুটবলীয় পটভূমিতে নির্মিত কোনো সিনেমারই পোস্টার।

পোস্টারটি বিশ্লেষণ করে সিনেমাটির মূল কাহিনী নিয়ে eআরকি করি গ্রুপে চলেছে নানান গবেষণা। গবেষক রুদ্র প্লাবন রাহাত জানান, এটি আসলে জনপ্রিয় ফুটবলার নেইমারের বায়োপিক। নেইমারের চরিত্রে অভিনয় করছেন শাবানা। নেইমার যেমন মার খেয়ে একটু পরপর ভূপাতিত হন আর কান্নাকাটি করেন, শাবানা অভিনীত চরিত্রগুলোও তো তেমনই। তাই নেইমার চরিত্রে শাবানাই সেরা কাস্টিং। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা ভিলেন আসলে নেইমারের বাংলাদেশি হেটারদের মেটাফোর।’

ছবিতে আরেকটি বড় রহস্য হলো, রাজীবের বেশভূষা ম্যারাডোনার মতো হলেও তার হাতে গোলকিপারের গ্লাভস। এটাকে কেউ কেউ বলছেন কয়েক যুগ আগে থেকেই করোনা সচেতনতা, কেউ আবার দাবি করছেন ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অফ গডি’ ঘটনার প্রতি বিদ্রুপ বলে।

eআরকিক: মাইনুল ইসলাম মাহি

অনেকে আবার বলেছেন, এটা আসলে ম্যারাডোনার বায়োপিক। তবে ম্যারাডোনাকে এখানে দেখানো হয়েছে নেতিবাচক চরিত্র হিসেবে (ইয়ে, দেখানোর কিছু নাই অবশ্য, তিনি নিজেই নিয়মিত দেখিয়ে থাকেন)। শাবানা এখানে ব্রাজিল সাপোর্টারদের মেটাফোর, যাদেরকে ম্যারাডোনাভক্তরা বিভিন্ন সময়ে সেভেন আপ-সেভেন আপ বলে ঠাট্টা, মানে লেগ পুল করে থাকেন।

সিনেমা গবেষক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের মতে, ‘এক দিকে রাজীব বাংলাদেশের (নাকি আর্জেন্টিনার?) একমাত্র আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলোয়াড়, অন্যদিকে শাবানার দেশি খেলা হাডুডু ছাড়া অন্য কিছুতে মন বসে না। সিনেমাটি মূলত ডার্কের মতো এই দুই জগতের এক বিন্দুতে মিলে যাওয়া নিয়ে একটি ‘সাইন্স ফিকশন স্পোর্টস’ ফিল্ম।

অনেকে আবার বলছেন, শাবানা ব্রাজিল নন, বরং নাইজেরিয়া। প্রতি বিশ্বকাপে নাইজেরিয়া কীভাবে আর্জেন্টিনাকে ঠেকানোর চেষ্টা করে, সেই নিয়েই গল্প। চৌধুরী এম রায়হান খুঁজে বের করেছেন এই দৃশ্যে লুকোনো সংলাপ-

রাজিব: শাবানা, এবার কাপ জিতবই।
শাবানা: দূরে সরে যা! ৩২ বছর ধরে এক কথা শুনতে আর ভালো লাগে না।

তবে এ ব্যাপারে কিছু ইয়ে, মানে পার্ভার্ট টাইপ গবেষক ‘রাজীব গোল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন আর শাবানা ডিফেন্ড করছিলেন’ এমন ডাবল মিনিং ভাবনার কথাও জানান। অন্যদিকে জাহিদ হাসান শুভ বলেছেন, এমন কড়া ট্যাকলের জন্য শাবানাকে লাল কার্ড দেওয়া হোক।





আরও পড়ুন eআরকিতে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: