লর্ডসের মাঠে সিলেটিদের সাথে আমার খেলা দেখার অভিজ্ঞতা

১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে নর্দাম্পটনের ওই ম্যাচটা কেন স্মরণীয়, সেটি না বললেও চলছে। তবে বিশ বছর পর, ২০১৯ বিশ্বকাপে ওই পাকিস্তানের বিপক্ষেই আরেকটি ম্যাচও আমার কাছে কেন স্মরণীয় হয়ে আছে, কারণটা না বললে কেউই তা বুঝতে পারবেন না। আগের ছয়টি বিশ্বকাপে এত এত ম্যাচ দেখেছি, স্মরণীয় ম্যাচের তালিকা করলে সেটি হাতখানেক লম্বা তো হবেই। তবে এর সবই দেখা প্রেসবক্সে বসে। দর্শক গ্যালারিতে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখেছি ওই একটাই। এই অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার কারণেই লর্ডসে ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি আমার কাছে একটু আলাদা হয়ে আছে। এতটাই যে, ঘুম থেকে ওঠার পরই মনে পড়েছে, আজ ৫ জুলাই না? আরে, গত বছর এই দিনেই তো লর্ডসের গ্যালারিতে ছিলাম।

প্রেসবক্স থেকে কেন গ্যালারিতে—সে এক লম্বা গল্প। সেটি পরে কোনো এক সময় বলা যাবে। আপাতত শুধু এটুকু বলি, বিশ্বকাপের মাস দুয়েক আগে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরও প্রথম আলোর হয়েই দুই সেমিফাইনাল ও ফাইনাল কাভার করতে যাওয়ার কথা ছিল। এই তিনটি ম্যাচের সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ দুটি ম্যাচও যোগ করে নিয়েছি বলে ৩০ জুন রাতে আমার প্লেনে ওঠার কথা। প্লেনের টিকিট কাটা হয়ে গেছে, বার্মিংহামের হোটেল বুকিংও। হঠাৎই মাথায় যে কী ভুত চাপল, চাকরিটা যেমন হুট করে ছেড়ে দিয়েছিলাম, ৩০ জুন দুপুরে তেমনি হুট করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, এবার আর বিশ্বকাপ কাভার করতে যাবই না। সারা জীবনই ঝোঁকের মাথায় চলেছি। মন যা বলেছে, সেটিই করেছি। তবে এখন মনে হয়, সেবার বোধ হয় একটু বেশিই করে ফেলেছিলাম। নইলে সেই রাতেই কেন আবার মনে হবে, সাংবাদিক হিসাবে না-ই গেলাম, দর্শক হিসাবেই একটা বিশ্বকাপ দেখে আসি! নিজের টাকায় যাব। লেখা-টেখার ঝামেলা নেই। ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়াব। শেষ রাতে এমিরেটসের ওয়েবসাইটে গিয়ে লন্ডনের টিকিটও কেটে ফেললাম। একেবারেই ভিন্ন সেই সফরের গল্প পরে কোনো এক সময় করা যাবে, এখন লর্ডসের গ্যালারিতে ঢুকে যাই।

লর্ডসের বিখ্যাত টেরাকোটা প্যাভিলিয়নের পাশে ট্যাভার্নে আমার সিট। যেখানে বসার পর বারবার দৃষ্টি চলে যাচ্ছে উল্টো দিকের স্পেসশিপ সদৃশ প্রেসবক্সের দিকে। একটু আফসোসও হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য মনে হতে শুরু করল, যা হয়েছে, ভালোই হয়েছে! ওই প্রেসবক্সে কী হচ্ছে, সেটি তো আমার জানাই, গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার এই অভিজ্ঞতাটা একেবারেই নতুন। প্রেসবক্সে এই বিনোদন আমি কোথায় পেতাম!

কয়েক সারি সামনে মুশফিকুর রহিমের বাবা-মাকে দেখলাম। আমার সামনের সারিটাও বাংলাদেশিদের দখলে। তবে পুরো গ্যালারি হিসাব করলে পাকিস্তানিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। আমার পেছনে বসা ষাট-পয়ষট্টি বছর বয়সের এক বাংলাদেশি ভদ্রলোকের ননস্টপ কথা বলে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ বোলিং করছে। তিনি বোলার-ফিল্ডারদের করণীয় বলে দিচ্ছেন। ‘উইকেট দরকার…বাবর আজমকে আউট কোরো….ডেঞ্জারাস ব্যাটসম্যান…।’ প্রথমে ভেবেছিলাম, পাশের কারও সঙ্গে কথা বলছেন। পেছন ফিরে দেখি, সঙ্গীসাথী কেউ নেই। মাঠের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে নিজের সঙ্গে নিজেই কথা বলছেন। আমার এমন মজা লাগল যে, কান খাড়া করে শুনছি। মাশরাফি বোলিংয়ে আসতেই বললেন, ‘আজ যদি মাশরাফি ২ উইকেট নেয়…..।’ নিলে কী হবে, সেটি অবশ্য আর বললেন না। বাবর আজম একটা সিঙ্গেল নিতেই বললেন, ‘রান তো নেবেই। তবে মিসফিল্ডিং কোরো না, ক্যাচ ফেলো না…।’ মেহেদী হাসান মিরাজ ডাইভ দিয়ে একটা বল আটকালেন। সঙ্গে সঙ্গে শুধু ক্রিকেটার নয়, মানুষ হিসাবেও চারিত্রিক সার্টিফিকেট, ‘মেহেদী গুড ফিল্ডার। বাচ্চা ছেলে…গুড বয়।’

মাঠে বসে খেলা দেখার অভিজ্ঞতাই অন্যরকম!

এতক্ষণ সাধারণ ক্রিকেট দর্শকই ভেবেছিলাম। সেই ধারণা একটু ধাক্কা খেতে শুরু করল, যখন দেখলাম, বাংলাদেশের মানুষ হয়েও পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের ভালো শটও তাঁর বাহবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না। মান অনুযায়ী ‘গুড শট’, ‘ভেরি গুড শট’, ‘গ্রেট শট’ স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। একটু পর মোস্তাফিজের বোলিংয়ের সময় যখন বললেন, ‘গায়ে বোলিং কোরো….বাদশা ভাইয়ের মতো’; তখন নিশ্চিত হয়ে গেলাম, এই ভদ্রলোক সাবেক ক্রিকেটার না হয়েই যান না! ‘বাদশা ভাই’ মানে নির্ঘাত জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা। সাবেক ক্রিকেটার বা সংগঠক অথবা ঢাকার ক্রিকেটের পাঁড় দর্শক না হলে তাঁর কথা কেন মাথায় আসবে? জানবেনই বা কীভাবে? এই কৌতুহল থেকেই কথা বলতে গিয়ে জানলাম, আমার অনুমান সত্যি। বাংলাদেশের পুরনো দিনের বিখ্যাত সব ক্রিকেটারের সঙ্গে সখ্যের কথা জানিয়ে স্বগত সংলাপের ওই ভদ্রলোক নিজের পরিচয় দিলেন, ‘সূর্যতরুণের টিপু বললেই ওরা আমাকে সবাই চিনবে।’

‘সূর্যতরুণের টিপু’র ওপর থেকে অবশ্য দ্রুতই মনোযোগ সরিয়ে নিতে হলো। কারণ ম্যাচ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশের জার্সি পরে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে আমার পাশে এসে বসা দশ-বারোজনের একটা দল খেলার চেয়েও বেশি বিনোদন সরবরাহ করতে শুরু করেছে। দলটির মধ্যমণি পায়জামা-পাঞ্জাবি এক ভদ্রলোক। হাবভাবে মনে হচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা গোছের কেউ হবেন। সেই ধারণা কিছুক্ষণের মধ্যেই সত্যি বলে প্রমাণিত হলো, যখন ওই দলের একজন ফেসবুক লাইভে গিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলতে শুরু করলেন, ‘সিলেট জেলা আওয়ামী লিগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী সাহেব আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।’ সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক মৃদু হেসে অদৃশ্য জনতার উদ্দেশে দিকে হাত নাড়ালেন। বাকিটা সময় তাঁর কথাবার্তা ও আচরণে পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ গাম্ভীর্য বজায় থাকল। কিন্তু তাঁর সঙ্গীসাথীরা রীতিমতো উৎসবের মেজাজে আছেন। কথাবার্তা শুনে খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে, এদের অনেকেই সম্ভবত মাঠে বসে এই প্রথম ক্রিকেট খেলা দেখছেন। একেবারেই মৌলিক নানা বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলছেন, মাঝেমধ্যেই নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ হচ্ছে। তবে একটাই ভালো ব্যাপার, তর্কাতর্কি হলেও বৃহত্তর জাতীয় চেতনা থেকে দ্রুতই তা মিটে যাচ্ছে।

একটা বিষয়ে অবশ্য সবাইকে একমত দেখলাম, যেটি সিটে বসতেই বসতেই একাধিক কণ্ঠে ঘোষিত হয়েছে, ‘আজকাই ফাইনাল, জিততেই হইব।’

একজন আবার সবাইকে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে বলেছেন, ‘আইজ পাকিস্তানের পরাজয় অবধারিত।’ পাকিস্তানের পরাজয় অবধারিত হলে বাংলাদেশের জয় নিয়ে কোনো সংশয়ই থাকার কথা না। কিন্তু কেন যেন সেই তিনিই আবার একটু পর বলছেন, ‘বাংলাদেশ আজ জিতব আশা করি।’

একটু পরপরই একেকজনের মনে একেক প্রশ্ন উঠছে। সেটি প্রকাশ করতেও কেউ কোনো দ্বিধা করছেন না। ঘণ্টাখানেকেরও বেশি খেলা দেখার পর যেমন একজন ‘পাকিস্তানের আইজকা খবরই আছে’ ঘোষণা করার পর জানতে চাইলেন, ‘উইকেট একটাও পড়ছেনি?’ উত্তর শোনার আগেই বললেন, ‘উইকেট একটা লই লো…’। বাবর আজমের ক্যাচ পড়তেই একটা হাহাকার উঠল, ‘এইডা কিতা করলি রে বা…’

এ সব মজাই লাগছিল। সমস্যা হচ্ছিল একটাই। আমার পাশে বসে থাকা তরুণ কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই কখনো ‘কাম অন বাঘের বাইচ্চা’, কখনো বা ‘সাবাস বাংলাদেশ’ বলে বিকট চিৎকার করে উঠছিলেন। আমি একবার চমকে উঠে তাঁর দিকে একটু খরদৃষ্টিতে তাকাতেই সারল্যমাখা একটা হাসি দিয়ে বললেন, ‘স্যরি ভাই, জোশ উঠি যায়, কিতা করতাম?’ আমি মৃদু হেসে ‘উঠি যাওয়া জোশ’-এর ব্যাপারে কোনোরকম আপোস না করার পরামর্শ দিলাম। দিয়েই বুঝলাম, বড় একটা ভুল করে ফেলেছি। চিৎকারের তীব্রতা এবং ফ্রিকোয়েন্সি দুটোই অনেক বেড়ে গেল এরপর।

চিৎকারের পরপরই রাজনৈতিক সচেতনতার প্রকাশ ঘটছে। কেউ না কেউ অবধারিতভাবে বলছেন, ‘ক্যামেরা কই? টিভিতে দেখাইব না?’ ফুটবল মাঠে দর্শকের নিরবিচ্ছিন্ন চিৎকারের মাঝখানে বসে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে এই অভিজ্ঞতা এটাই প্রথম। সারাক্ষণই এই দলের কেউ না কেউ কথা বলছেন, কখনো একই সঙ্গে দুই/তিনজন এবং বেশির ভাগ সময়ই তা মাঠের খেলার সঙ্গে ঠিক সঙ্গতিপূর্ণ হচ্ছে না। টাইমিংয়েও বেশ গণ্ডগোল হচ্ছে। কখনো ভুল করে পাকিস্তানের চার-ছয়ে হাততালি দিয়ে ফেলছেন। একটা ঘটনা তো প্রায় নিয়মিতই হচ্ছে। ফিল্ডারকে ডাইভ দিতে দেখেই হয়তো কেউ ‘সাব্বাস বাঘের বাইচ্চা’ বলে লাফ দিয়ে উঠে চিৎকার করেই যাচ্ছেন, পাশের জন “চাইর হইয়া গেছে” বলে তাঁকে টেনে বসাচ্ছেন।

এরই মধ্যে আরেকটা মজার ঘটনা ঘটল। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের পুল সোজা স্কয়ার লেগ ফিল্ডারের দিকে যাচ্ছে, ২ রানের বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু একজন ‘চাইর হয়ি গেলো, চাইর হয়ি গেলো’ বলে মাতম শুরু করলেন। ফিল্ডার সাইফউদ্দিন তা শুনতে পেয়েই কি না মিসফিল্ডিং করে ঠিকই চার দিয়ে দিলেন!

সারা জীবন নোট নিতে নিতে খেলা দেখা অভ্যাস। মূলত সেই অভ্যাস থেকে এবং কিছুটা ‘পরে কাজ লাগতে পারে’ ভেবে আমি মোবাইলের নোটবুকে সব টুকতে শুরু করলাম। করেছিলাম বলেই এক বছর পরও হুবহু সব তুলে দিতে পারছি। সিলেটি ভাষার ব্যাপারে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি থাকতে পারে, সবাই সেটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা করি, বিশেষ করে সিলেটি ভাই-বোনেরা। কিন্তু ঘটনা যা বলছি, তার এক বর্ণও বানিয়ে নয়। সব বলার ধৈর্য্য নেই, হয়তো আপনার পড়ারও। তারপরও কয়েকটা ঘটনা মনে করে এখনো এমন হাসি পাচ্ছে যে, তা লেখাটা কর্তব্য বলে মনে হচ্ছে।

মোস্তাফিজ হারিস সোহেলকে আউট করতেই একজন হ্যাটট্রিক-হ্যাটট্রিক বলে উল্লাস শুরু করে পরক্ষণেই বললেন, ‘সাকিব হ্যাটট্রিক করবনি?’ মোস্তাফিজ যেখানে বোলিং করছেন, তখন সাকিবের হ্যাটট্রিক করার সম্ভাবনা নিয়ে কেন আলোচনা হবে—তা ভেবে যখন আমি যখন অবাক, আমাকে আরও অবাক করে দিয়ে ওই লোক পাশের জনের কাছে জানতে চাইলেন, ‘বোলিং কেঠা করে? রুবেল নি?’

পাশের জন দেখলাম, মোস্তাফিজকে চেনেন। কিন্তু ক্রিকেটে বোলারের নাম তো পরিবর্তনশীল। মোস্তাফিজ-সাকিব-রুবেলকে গুলিয়ে ফেলা ওই দর্শক মনে হয় তা জানেন না। নইলে পরের ওভারে সাইফউদ্দিন বোলিং করার সময়ও কেন বলবেন, ‘মোস্তাফিজ বল করে নি?’

সাইফউদ্দিন একটা নো বল করলেন। পরের বলটা ফ্রি হিট। কিন্তু সেটিতে উইকেট নেওয়ার অসম্ভব এক আবদার করে একজন চিৎকার শুরু করলেন, ‘উইকেট লই লো…, উইকেট লই লো।’ সেই অনুরোধ রাখা সাইফউদ্দিনের পক্ষে স্বাভাবিকভাবেই সম্ভব ছিল না, উল্টো সেই ওভারেই তিনি একটা ওয়াইড বল করে ফেললেন। এতক্ষণ প্রাণপণে উৎসাহ দিয়ে আসা একজন এবার খুব রেগে গেলেন, ‘নো দেয়, ফ্রি হিট দেয়, ওয়াইড দেয়…খাইয়া আইছে না?’

সেলফি না তুললে হয় নাকি!

খাইয়া আসা না-আসার সঙ্গে যে ক্রিকেটীয় দক্ষতার এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে, সেদিন গ্যালারিতে না বসলে এটি আমার জানাই হতো না। এর আগে-পরেও বাংলাদেশের কেউ মিস ফিল্ডিং করলেই মাঠে নামার আগে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া হয়েছে কি না, এ নিয়ে সংশয়ের কথা শুনেছি। জানা জিনিসগুলোও রিকনফার্ম করা গেছে ওই সিলেটি দলটির কল্যাণে। মোস্তাফিজ শাদাবের উইকেট নেওয়ার পর বাঘের মুখোশ পরা এক তরুণ যেমন বললেন, ‘নিজেই বল করছে, নিজেই ক্যাচ ধরছে…কট অ্যান্ড বোল্ড যেঠারে কয়।’

ওই দলের সবাইকে এমন বৈপ্লবিক সব আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেওয়াটা ঠিক হবে না। অন্তত একজনের কথা শুনে মনে হলো, ক্রিকেট খেলাটা তিনি এই প্রথম দেখছেন না। নইলে সাইফউদ্দিন দারুণ এক ইয়র্কারে ওয়াহাব রিয়াজকে বোল্ড করে দেওয়ার পর কীভাবে বলবেন, ‘বুমরাহর ইয়র্কার…বুমরাহ ওভারের ছয় বলেই ইয়র্কার মারে।’

পাকিস্তানের ইনিংস জুড়ে উইকেট নেওয়ার দাবি বাংলাদেশের ইনিংসের শুরু থেকেই ছক্কার দাবিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ‘মার ছক্কা’ বলে চিৎকার উঠছে প্রতিটি বলেই। এরপরই দাবি পূরণ না হওয়ার সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে, ‘কী মারে, খাইয়া আইছে না?’

এর মধ্যে স্লিপে সৌম্যর ক্যাচ পড়ল। এতক্ষণ বলে-বলে ছক্কার দাবি তোলা তরুণই অবলীলায় বললেন, ‘শান্তিতে খেলাও…মারার কী দরকার…’ ছক্কা মারতে পারা না-পারার সঙ্গে ভালোমতো খাওয়াদাওয়া করা না-করার যৌক্তিক সম্পর্ক আবিষ্কার করা তরুণ যোগ করলেন, ‘ধরিয়া খেলাও রে, ধরিয়া খেলাও…।’ বলার পরই তাঁর মনে প্রশ্ন জেগে উঠল, ‘ব্যাট করে কারা?’

পেছন থেকে একজন বললেন, ‘তামিম আর সৌম্য’। এরা দুজনই যে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, এই নিয়ে বিস্ময়টাকে খুব জেনুইন বলে মনে হলো। সেটি আরও বেড়ে গেল পাশ থেকে একজনের যোগ করা তথ্যে। এরপর যিনি নামবেন, সেই সাকিবও বাঁহাতি, এটা শুনে তিনি জানতে চাইলেন, ‘বাংলাদেশের সবাই বাঁ হাতে ব্যাট করবনি?’





আরও পড়ুন eআরকিতে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: