মিয়ানমারের বিমান হামলায় বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনা যুদ্ধাপরাধের শামিল: অ্যামনেস্টি

মিয়ানমারের রাখাইন ও চিন প্রদেশে দেশটির সেনাবাহিনীর ‘নির্বিচার’ বিমান হামলায় এক শিশুসহ ১৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বুধবার (৮ জুলাই) সংগঠনটির এক প্রতিবেদনে এ হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি বলা হয়, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বেসামরিকদের হত্যা ও তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করতে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি।

রাখাইনের একটি গ্রামে অগ্নিসংযোগের ছবি

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ ও এপ্রিলে ও চিন প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীরা। বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়। তবে এতে মারা যায় বেসামরিক লোকজন।

মার্চের মাঝামাঝি পালেতওয়া উপশহরে এক হামলার প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নেয় অ্যামনেস্টি। ওই ব্যক্তি জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ফেলা বোমায় তার চাচা, তার ভাই এবং ভাইয়ের ১৬ বছর বয়সী বন্ধু নিহত হয়। একই এলাকার আরেক পরিবার জানায়, বোমা হামলায় সাত বছরের এক শিশুসহ পরিবারটির নয়জন সদস্য নিহত হয়েছে। শিশুটির বাবা অ্যামনেস্টিকে বলেন, আমার পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

এপ্রিলে পালেতওয়ায় আরেকটি বিমান হামলায় ৭ জন বেসামরিক লোককে হত্যা করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শী এক কৃষক জানান, ওই ঘটনায় আরও ৮ জন আহত হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিম রাখাইন ও চিন প্রদেশে বেসামরিকদের ওপর নিপীড়ন চালানোর পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করছে সেনাবাহিনী। অ্যামনেস্টির এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক পরিচালক নিকোলাস বেকোয়েলিন বলেন, ‘মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যখন কোভিড-১৯ ঠেকাতে জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে, তখন এর সেনাবাহিনী ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে, বেসামরিকদের হত্যা করছে।’

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: