ওয়াকারেরও দু:খ, বিশ্বকাপে পাকিস্তান কেন ভারতের কাছে হারে বারবার

ওয়াকার ইউনিস- ফাইল ছবিব্যতিক্রম শুধু আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ২০১৭ ফাইনালসহ মুখোমুখি হওয়া পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে পাকিস্তান হারিয়েছে ভারতকে, বাকি দুই ম্যাচ জিতেছে ভারত। এ ছাড়া আইসিসির বৈশ্বিক কোনও টু্র্নামেন্ট যাতে ‘বিশ্ব’ কথাটা যুক্ত থাকে, কোনও এক অজ্ঞাত কারণে পাকিস্তান ভারতের কাছে শুধু হেরেই চলেছে। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও দেশটির সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার ওয়াকার ইউনিসের কাছে এটি খুব দু:খের। ওয়াকার এই হারের যে কারণ খুঁজে বের করেছেন, সেটি জটিল কোনও বিজ্ঞান নয় বা কোনও তুকতাকের ব্যাপারও নয়। ভারত পাকিস্তানের চেয়ে ভালো খেলে!

এমনিতে ওয়াকারের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় দু:খটা হলো পাকিস্তানের একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী দলটির (১৯৯২) অংশ হতে না পারা। দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি সেই সময়, কিন্তু বিশ্বকাপের আগে পড়লেন চোটে। আর সেটাই তাকে খেলতে দিলো না অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে।

১৯৯৬ বিশ্বকাপে সুযোগ এসেছিল ওয়াকারের সামনে। কিন্তু অজয় জাদেজার কাছে বেধড়ক পিটুনি খেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয়ে যায় সেবারের স্বপ্ন। ১৯৯৯ বিশ্বকাপেও ভারতের কাছে হেরেছে পাকিস্তান, যদিও সেবার দলে ছিলেন না ওয়াকার। আর ২০০৩ বিশ্বকাপে তো পাকিস্তানের অধিনায়কই ছিলেন তিনি। নিজেই সাক্ষী বড় স্কোর করেও কীভাবে শচীন টেন্ডুলকারের কাছে ধুলিস্যাৎ হলো আরেকটি আশা। এরপর থেকে গত বিশ্বকাপ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপেই ভারতের কাছে নিয়তির মতো হার মেনেছে পাকিস্তান-২০১১, ২০১৫, ২০১৯।

টুইটার প্ল্যাটফর্ম অ্যাট গ্লোফ্যানস অফিসিয়ালে  ভক্তদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ওয়াকার এর পেছনে যে কারণটা বলেন তাহলো, শ্রেয়তর দল হিসেবেই জেতে ভারত। ‘গত কয়েকটি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে জিততে পারেনি, এটাই সত্য। আমরা অন্য ফরম্যাটে ভালো করি, টেস্টে ভালো করেছি। কিন্তু যখনই বিশ্বকাপ ও ওয়ানডে আসে ভারত সবসময়ই আমাদের চেয়ে ভালো করে। তারা যোগ্যতর দল হিসেবেই জেতে। আমি মনে করি তারা আমাদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলে’-বলেছেন ওয়াকার।

বর্তমান পাকিস্তান দলের ৪৮ বছর বয়সী বোলিং কোচের পর্যবেক্ষণ, পাকিস্তান ম্যাচের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে হঠাৎই তা হারিয়ে ফেলে এবং চাপের মুহূর্তটি সামলাতে পারে না বলেই হেরে যায়। ‘ব্যাঙ্গালোর (১৯৯৬) এবং ২০০৩ প্রিটোরিয়ার দুটি ম্যাচেই আমি খেলেছি। সেই হিসেবে বলবো, তারা (ভারত) খুব ভালো দল ছিল। ওই বিশেষ দুটি দিনে তারা খুব ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে নেমেছিল, ভালো ক্রিকেট তো খেলেছিলই, তারচেয়েও বড় কথা, পরিস্থিতি বিবেচনায় খেলেছিল বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট। ম্যাচটা আমাদের হাতে থাকলেও আমরা পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে পারিনি। ২০১১ বিশ্বকাপের কথা মনে করুন, মনে করুন ১৯৯৬ বিশ্বকাপের কথা, ম্যাচ আমাদের হাতেই ছিল। কিন্তু আমরা স্রেফ হাত থেকে ম্যাচ ফেলে দিয়েছি। কোন জায়গাটায়, ঠিক কী কারণে আমরা হারি, এটা বল কঠিন। তবে যেহেতু এটা এতবার ঘটেছে, এটা সত্যি করে বললে মনস্ততাত্ত্বিক চাপের ব্যাপার। আমরা ওই চাপটাই জয় করতে পারি না’-বলেছেন ওয়াকার।

পাকিস্তান ভারতের কাছে ওয়ানডে ম্যাচের বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়া সাত ম্যাচেই হেরেছে। ২০ ওভারের বিশ্বকাপ টি-২০ বিশ্বকাপেও পাঁচবার মুখোমুখি হয়ে হেরেছে সব কবার। যদিও ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছিল ‘বোল আউটে’। ওটাকে ধরা হয় ‘টাই’। 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: