ক্ষমতায় এলে ডব্লিউএইচও নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বাতিলের ঘোষণা বাইডেনের

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন দেশটির আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। মঙ্গলবার টুইটারে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেছেন, ভোটে জিতলে দায়িত্ব গ্রহণের ‘প্রথম দিনই’ ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত বাতিল করবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ফের ডব্লিউএইচও-তে যোগ দেবে।

টুইটে জো বাইডেন বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নিয়োজিত থাকলে আমেরিকানরা অপেক্ষাকৃত বেশি নিরাপদ থাকবে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার প্রথম দিনই ফের ডব্লিউএইচও-তে যোগ দেবো এবং বিশ্বমঞ্চে আমাদের নেতৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবো।’

২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন। নিজ দলের আরেক শক্তিমান নেতা বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে সমর্থ হওয়ায় তাকে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনি জরিপগুলোতেও ট্রাম্পের চেয়ে ১০ পয়েন্টেরও বেশি ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।

এদিকে মঙ্গলবার ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে এতে মার্কিন তহবিল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের এক মুখপাত্র ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিলেও ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পুরোপুরি বেরিয়ে যেতে এক বছর সময় লাগবে। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২১ সালের ৬ জুলাই সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।

এক মাসেরও বেশি আগে ট্রাম্প ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে তিনি তহবিল বন্ধ করে তা অন্য খাতে কাজে লাগানোর ঘোষণা দেন। সংস্থাটির সবচেয়ে বড় দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ৪০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে থাকে।

মার্কিন কংগ্রেসের ১৯৪৮ সালের এক যৌথ রেজুলেশন অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য এক বছরের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে আর্থিক সহযোগিতাও দিয়ে যেতে হবে। ডব্লিউএইচও’র ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত ২০০ মিলিয়ন ডলার এখনও পায়নি। সূত্র: বিবিসি।

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: