সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশনে বড় মনোযোগ পেয়েছে স্বাস্থ্যখাত

জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবিবাজেট অধিবেশন শেষ হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন। করোনা পরিস্থিতির কারণে মাত্র ৯ কার্যদিবসেই আজ দুপুরে স্পীকার শিরীন শারমীন চৌধুরী অধিবেশনের সমাপ্তি টানেন।

করোনা মহামারির মধ্যেই ১০ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। পরিদন ২০২০–২১ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হয়। এরপর বাজেটের ওপর আলোচনা হয়েছে মাত্র দুদিন। এ ছাড়া সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা হয় একদিন। দুই দিন শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। অতীতে বাজেটের ওপর ৪০ থেকে ৬৫ ঘণ্টার মত আলোচনা হয়েছে। এবার আলোচনা হয়েছে মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৮ মিনিট।

এবার সংসদের রুটিন কার্যক্রমের বাইরে সবচেয়ে আলোচনায় ছিল করোনা পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা। বিরোধী সাংসদদের কথায় উঠে এসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও কেনাটাকাটায় দুর্নীতির বিষয়। রিজেন্ট হাসপাতালের জালিয়াতি, করোনায় মোকাবিলায় নিম্নমানের সরঞ্জাম কেনার বিষয় উঠে আসে সংসদের আলোচনায়। ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অপসারণের দাবি ওঠে বিরোধী দলের সাংসদদের কাছ থেকে। এর বাইরে সাংসদ শহীদ ইসলাম ওরফে পাপুলের কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টিও তোলেন বিরোধী দলের সাংসদেরা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে অধিবেশনের সমাপনী সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আদেশ পড়ে শোনান স্পিকার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপরই তিনি অধিবেশনের সমাপ্তি টানেন। স্পিকার বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিশেষ পরিস্থিতিতে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে এ অধিবেশন পরিচালনা করা হয়েছে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সঙ্গে অধিবেশন চালানো হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করে অধিবেশন পরিচালনা করা হয়েছে।সব মিলিয়ে সফলভাবে অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এবার বাজেট অধিবেশনের মধ্যেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মারা যান সাংসদ ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ একজন প্রতিমন্ত্রী। আক্রান্ত হন বেশ কয়েকজন সাংসদ। সাংসদদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলে সব সাংসদের করোনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় সংসদ সচিবালয়।

এর আগে সংসদ অধিবেশন সংশ্লিষ্ট সংসদ সচিবালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনা পরীক্ষা করানো হয়। এতে ৯৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিদিন সকালে অধিবেশন শুরু করা হয়।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বিকেলে অধিবেশন হলে নামাজের বিরতি দিতে হয় বেশি। আর বিরতি মানেই সাংসদদের একে অপরের সঙ্গে মেলা–মেশার সুযোগ বেশি হওয়া। এ জন্যে সকালে একটানা বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এবার অধিবেশনে সামাজিক দূরত্ব মেনে বসানো হয় সংসদ সদস্যদের। এ জন্য অধিবেশনে আইনপ্রণেতাদের উপস্থিতি ৮০-৯০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। সংসদে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ ছিল বন্ধ।

এবার ১৫ জুন মাত্র এক ঘণ্টা আলোচনার মাধ্যমে সম্পূরক বাজেট পাস হয়। ২৩ ও ২৯ জুন দুদিন আলোচনার পর অর্থবিল পাস হয়। পরদিন ৩০ জুন বাজেট পাস হয় সংসদে। মোট ১৮ জন সংসদ সদস্য পাঁচ ঘণ্টা ১৮ মিনিট বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। বিল পাস হয় পাঁচটি।





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: