কুষ্টিয়ায় বেড়েছে সংক্রমিত ও মৃত্যুর সংখ্যা

করোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্স১৫ দিনের টানা লকডাউনেও কুষ্টিয়ায় রেড জোন এলাকাগুলোতে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ভেড়ামারা পৌর এলাকার আটটি ওয়ার্ডে সংক্রমণ কিছুটা কমলেও কুষ্টিয়া পৌরসভা এলাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল ও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। লকডাউনের মধ্যেই রোগী আগের থেকে বেড়েছে দেড় শতাধিক।

এদিকে রোগী বাড়তে থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের সব শয্যাতেই রোগী রয়েছেন। রোগী বাড়লে অতিরিক্ত শয্যার প্রয়োজন হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় প্রতিদিন রোগী বাড়ছে। গত ২৫ জুন লকডাউন শুরুর পর ৭ জুলাই, অর্থাৎ লকডাউনের শেষ দিনে রোগী বেড়েছে ১৫৩ জন। পৌর এলাকায় এই মুহূর্তে রোগীর সংখ্যা আড়াই শতাধিক। আর জেলায় রোগীর সংখ্যা ৮১৫ জন। এর মধ্যে জুন ও জুলাই মাসে রোগী বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত জেলায় ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন। রোগী বাড়তে থাকায় হাসপাতালে শয্যা ও অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে।

সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে গত এক মাসে মারা গেছেন ১০ জনের বেশি। এ পর্যন্ত জেলায় সুস্থ হয়েছে ৩৮৩ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৮ জন।

রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকলেও তুলে নেওয়া হয়েছে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার লকডাউন। টানা ১৫ দিন পর এ লকডাউন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গতকাল বুধবার থেকে শহরের সব দোকানপাট-বিপণিবিতান সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া শহরে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গত ২৪ জুন গোটা পৌর এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে জেলা প্রশাসনকে চিঠি পাঠানো হয়। পরদিন ২৫ জুন থেকে কুষ্টিয়া শহর তথা পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। বিধি অনুযায়ী ওষুধসহ কিছু নিত্যপণ্যের দোকান সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শহরের মোড়ে মোড়ে তল্লাশিচৌকি বসিয়ে পুলিশ প্রশাসন শহরে যানবাহন প্রবেশ সীমিত করে দেয়। টানা ১৫ দিন লকডাউন চলার পর গত মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জরুরি বৈঠক (ভার্চ্যুয়াল) করে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। সভায় সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকেরা কুষ্টিয়া শহরে রেড জোন বহাল রাখার পরামর্শ দেন। তবে প্রশাসন রাতে লকডাউন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন, ১৫ দিন ধরে চলা এ লকডাউন কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, লকডাউন চলাকালে করোনা রোগী কমার চেয়ে বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। গত ২৫ জুন থেকে গতকাল ৭ জুলাই পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরে ১৫৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ হার লকডাউন শুরুর আগের তুলনায় অনেক বেশি।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আওতাধীন আরপিটিআইয়ের হোস্টেলের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ড রোগীতে পরিপূর্ণ। সিভিল সার্জন এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, লকডাউন দিলেও সাধারণ মানুষ সচেতন না হওয়ায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে মৃত্যুও। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা করোনা প্রতিকার কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, লকডাউন দিয়েও প্রত্যাশিত ফল আসেনি। সবার মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানুষকে সচেতন করতে প্রশাসন মাঠে কাজ করছে। পুলিশ প্রশাসন সব সময় মাঠে রয়েছে। তারপরও রোগী কমছে না। বিষয়টি চিন্তার।





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: