বাংলা ট্রিবিউনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিসহ ছয় সাংবাদিকের হাত পা কেটে নেওয়ার হুমকি

বাংলা ট্রিবিউন এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি উজ্জল চক্রবর্তী।

সংবাদ প্রকাশ সংক্রান্ত ঘটনায় বাংলা ট্রিবিউন-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি উজ্জল চক্রবর্তীসহ স্থানীয় ছয় সাংবাদিকের হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। জেলার কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওছার ভূঁইয়া জীবন ও পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছায়েদুর রহমান মানিকের পক্ষ নিয়ে এ হুমকি দেওয়া হয়।

তবে এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কসবা থানায় ছায়েদুর রহমানের করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) তিনি উল্লেখ করেছেন, হুমকি দেওয়া আইডিগুলো ফেক। এসব আইডি’র বিষয়ে তিনি অবগত নন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার তালিকায় অনিয়ম নিয়ে কসবার একাধিক জনপ্রতিনিধি ও এডিপি’র কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশিত হয়। এরই জের ধরে ‘জীবন ভাইয়ের সৈনিক’, ‘মানিক চেয়ারম্যানের সৈনিক’ নামে দুটি আইডিতে থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঁচ জন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব দীপক চৌধুরী বাপ্পী, আখাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া, দেশ রূপান্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি মো. মনির হোসেন, বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি এবং সময় টিভির ব্রাহ্মণবাড়িয়া অফিসের ব্যুরো প্রধান উজ্জল চক্রবর্তী, এনটিভির নিজস্ব প্রতিবেদক শিহাব উদ্দিন বিপু, কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবুকে কসবায় পেলে হাত-পা কেটে রেখে দেওয়া হবে বলে এসব আইডি থেকে উল্লেখ করা হয়।

উপজেলা চেয়ারম্যানের জিডি

ছায়েদুর রহমান ওই জিডিতে উল্লেখ করেন, ‘সজিবুর রহমান নামে একটি আইডি থেকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওছার ভূঁইয়ার নামেও অপপ্রচার চালানো হয়। তার নামের যে আইডি থেকে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

এদিকে বিষয়টি জানার পরপরই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবাইল ফোনে কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল কাওছার ভূঁইয়া জীবনের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে বলেন।

কসবা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঠিকাদার এমদাদুল হক পলাশ বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও অন্যান্য চেয়ারম্যানের বিরোধ সৃষ্টির জন্য কোনও একটা পক্ষ সুযোগ নিতে এ ধরনের কাজ করেছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজেই জিডি করার উদ্যোগ নিয়েছেন।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব দীপক চৌধুরী বাপ্পী বলেন, ‘ফেসবুকে এসব হুমকি-ধমকি কাপুরুষদের কাজ। হুমকি-ধমকির কারণে সত্য সংবাদ প্রকাশ থেকে আমরা কেউ পিছপা হবো না। প্রেসক্লাবের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করছি।

সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কসবা থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা হুমকিদাতা দ্রুত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: