দক্ষিণ সিটির বাজেট বেড়েছে সাড়ে ৬৮ শতাংশ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় পরিষদের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বাজেট প্রস্তুত করেছেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে গত অর্থবছরের চেয়ে ৬৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬ হাজার ১১৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছেন তিনি। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ২ হাজার ৪৮৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা বেশি। তবে বাজেটের প্রায় ৭৬ শতাংশই সরকারি ও বৈদেশিক উৎস থেকে ধরা হয়েছে। গত ৭ জুলাই ডিএসসিসির দ্বিতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বোর্ড সভায় এই বজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আর গত অর্থবছরে বাজেট ছিলো ৩ হাজার ৬৩১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৫২৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
বাজেট আয়

বাংলা ট্রিবিউনের হাতে অনুমোদিত বাজেটের একটি কপি পৌঁছেছে। তাতে দেখা গেছে, বাজেটে আয়ের অন্যতম খাত ধরা হয়েছে- সরকারি ও বৈদেশিক উৎস থেকে। এ খাতে আয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯১৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। যা গত অর্থবছর ছিল দুই হাজার ৪৪৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আর সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৮৭০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬ কোটি ২ লাখ টাকা। যা গত অর্থবছর ছিল ৯৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর অন্যান্য আয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। যা গত অর্থবছরে ছিল ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এটি সংশোধিত বাজেটে এসে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

বাজেট ব্যয়

বাজেটে পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা। আর উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার  ৪৫৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সমাপনি স্থিতি ধরা হয়েছে ২১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

বাজেট আয়ের বিস্তারিত

বাজেটে রাজস্ব আয়ের মধ্যে হোল্ডিং করা ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা, বাজার সালামী ১৬৫ কোটি; বাজার ভাড়া ৫০ কোটি; ট্রেড লাইসেন্স ১০০ কোটি, রিক্সা লাইসেন্স ফি ২৪ কোটি; প্রমোদ কর (সিনেমা) ৪০ লাখ; বিজ্ঞাপন কর ৫০ কোটি; বাস/ট্রাক টার্মিনাল ১০ কোটি; কোরবানি পশুর হাট ১২ কোটি; ইজারা ৪৫ কোটি; জবাইখানা এক কোটি; রাস্তা খনন ফি ৪০ কোটি; যন্ত্রপাতি ভাড়া ১০ কোটি; শিশু পার্ক ১৫ লাখ; বিভিন্ন ফরম বিক্রিয় এক কোটি ৫০ লাখ; কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া ৩ কোটি; কবরস্থান, শ্মশানঘাট ৫০ লাখ; সম্পত্তি হস্তান্তর কর ৬০ কোটি; ক্ষতিপূরণ (অকট্রয়) ৬ কোটি; পেট্রোল পাম্প ২ কোটি ৮৯ লাখ; অন্যান্য ভাড়া ২ কোটি; ইমরারত নির্মাণ এবং পূন নির্মাণের জন্য আমদানীর উপর কর ১ কোটি; নগরীতে ভোগ, ব্যবহার বা বিক্রয়ের জন্য পন্য আমদানীর উপর কর ১ কোটি;  নগর হতে পন্য রফতানির উপর কর ১ কোটি; টোল জাতীয় কর ১২ কোটি; পেশা বা বৃত্তির উপর কর ১ কোটি; বিবাহ, তালাক, দত্তক গ্রহণ ও যিয়াফত বা ভোজের উপর কর ৬০ লাখ; পশুর উপর কর ৬ লাখ; জনসেবা মূলক কার্য সম্পাদনের জন্য রেইট ১০ লাখ; সরকার কর্তৃক আরোপিত করের উপর উপকর ১২ লাখ; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/ ট্রেনিংসেন্টার প্রভৃতির উপর কর ১ কোটি; মেলা, কৃষি প্রদর্শনী, শিল্প প্রদর্শনী, ক্রীড়া প্রতিরোগিতা এবং অন্যান্য জনসমাবেশের উপর ফিস ২০ লাখ; বাজারের উপর ফিস (ইজারা) ১ কোটি টাকা, টিউটোরিয়াল স্কুল, কোচিং সেন্টার ইত্যাদি নিবন্ধিকরণ ফি ৫ কোটি টাকা, প্রাইভেট হাসপাতাল, প্যারামেডিক্যাল ইনস্টিটিউট, ক্লিনিক, ডায়াগনোস্টিক সেন্টার ইত্যাদির নিবন্ধিকরণ ফি ১০ কোটি; করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত হোটেলে অবস্থানকারীর উপর নগর কর ১ কোটি ৫০ লাখ; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজে নিঝুক্ত পিসিএসপির নিবন্ধন ও বাৎসরিক ফি ৯ কোটি; ইউটিলিটি সার্ভিস প্রদানে রাস্তা ব্যবহারের ফিস ১২ কোটি ও অন্যান্য (ব্যাংকসুদ, মেট্রোরেল, পদ্মাসেতুসহ) ১২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬ কোটি ২ লাখ টাকা।

বাজেটে অন্যান্য আয়ের মধ্যে অপ্রয়োজনীয়, অব্যবহার্য সম্পদ বিক্রিয় ও অন্যান্য খাত থেকে ৫০ লাখ; ঋণ আদায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা, বেসরকারি দান/অনুদান এক কোটি টাকা, স্থায়ী আমানতের সুদ হতে প্রাপ্ত আয় ২ কোটি টাকা, বিলুপ্ত ডিসিসির স্থিতি হতে প্রাপ্ত ৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এই সেক্টর থেকে ৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

বাজেটে সরকার ও বৈদেশিক উৎস থেকে আয়ের মধ্যে সরকারি মঞ্জুরী (থোক) ৫০ কোটি টাকা, সরকারি বিশেষ মঞ্জুরী থেকে ১০০ কোটি টাকা এবং সরকারি ও বৈদেশিক মহায়তামূলক প্রকল্প থেকে চার হাজার ৭৬৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এবারের প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে ছয় হাজার ১১৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

বাজেট ব্যয়ের বিস্তারিত

কর্মচারীদের প্রতিদান (বেতন, ভাতা ও অন্যান্য) ২৬৪ কোটি টাকা; বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি ও গ্যাস ৪০ কোটি টাকা; মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ২৪ কোটি টাকা;  মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম (মনিটরিং/সার্ভাইলেন্সহ)  ৩৫ কোটি টাকা; সরবরাহ ২১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা;  ভাড়া, রেট ও কর ৩ কোটি টাকা,  কল্যাণমূলক ব্যয় ২০ কোটি ৫ লাখ টাকা; ভ্রমণ ও যাতায়াত ৫ লাখ টাকা; ডাক, তার ও দূরালাপনী ২০ লাখ টাকা; আতিথেয়তা এক কোটি টাকা; বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা; ফিস ২৪ কোটি টাকা; প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সংস্থার চাঁদা বীমা ৯০ লাখ টাকা; বীমা ২৫ লাখ টাকা; বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ ৮ কোটি টাকা; উচ্ছেদ কার্যক্রম ২০ লাখ টাকা; বিবিধ ব্যয় ১০ লাখ টাকা।

অন্যান্য ব্যয়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ/ডিএসএল/মামলা সংক্রান্ত দায় ও অন্যান্য ১ কোটি টাকা; সালামী ফেরত ৫০ লাখ টাকা; গৃহ নির্মাণ ও অন্যান্য অগ্রিম ৫০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

 উন্নয়ন ব্যয়

ডিএসসিসির নিজস্ব উৎস থেকে ৬৯১ কোটি ২৭ লাখ, সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তামূয়লক প্রকল্প থেকে চার হাজার ৭৬৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। সমাপনী স্থিতি ধরা হয়েছে ২১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এই অর্থবছরে ৬১১৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গত ৭ জুলাই ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসরে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ডিএসসিসির দ্বিতীয় পরিষদের দ্বিতীয় করপোরেশন সভায় এই বাজেট অনুমোদিত হয়। তবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

যা বললো ডিএসসিসি

জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেট চূড়ান্ত করেছি। তার মধ্যে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা। কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের মেয়র এই বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিবেন।

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: