জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে মিত্র দেশগুলোর ভাষণ

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড এবং তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ২৫ আগস্টের ঘটনা।)
বাংলাদেশের জাতিসংঘ অন্তর্ভুক্তি প্রতিরোধ করার জন্য চীন বিশ্বনেতৃত্বকে অগ্রাহ্য করে ভেটো প্রয়োগ করে। এর আগে অবিলম্বে বাংলাদেশের জাতিসংঘভুক্তি ঠেকানোর উদ্দেশে উত্থাপিত চীনের প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদ প্রত্যাখ্যান করে বলে জাতিসংঘ থেকে প্রেরিত এএফপির খবরে জানানো হয়। এইদিনে পরিষদে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বন্ধুরাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশ বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরে।
এর আগে নিরাপত্তা পরিষদ বাংলাদেশের আসন লাভের প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশ সময় রাত দেড়টায় বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের এই পূর্ণাঙ্গ বৈঠকেই জাতিসংঘে বাংলাদেশের সব সম্পর্ক ভোটাভুটির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশ সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য দেশ চীনা খসড়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে সুদান বাংলাদেশের জাতিসংঘভুক্তির অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না।

ভারতের অবস্থান

পরিষদের আলোচনাকালে জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি সমর সেন অবিলম্বে জাতিসংঘে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তির পক্ষের জোরে ভাষণ দেন। বাংলাদেশের জাতিসংঘভুক্তির চীনা প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, কোনও রকম পূর্বশর্ত ছাড়াই বাংলাদেশের আবেদন বিবেচনা করতে হবে। দাবির সমর্থনে তিনি ১৯৪৮ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বলা আছে, জাতিসংঘের নতুন সদস্যের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে জাতিসংঘ সনদের চতুর্থ ধারায় বর্ণিত সদস্যদের জন্য ঘোষিত যোগ্যতা ছাড়া কোনও বিষয়ে শর্ত আরোপ করা যাবে না। সমর সেন অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, জাতিসংঘ সনদের চতুর্থ ধারায় উল্লেখিত যোগ্যতা বাংলাদেশের আছে।

সোভিয়েতের অবস্থান

সোভিয়েত প্রতিনিধি এইদিনের ভাষণে বলেন, জাতিসংঘের আসন লাভের উপযোগী বাংলাদেশ যে সকল যোগ্যতার অধিকারী সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশকে ইতিমধ্যে জাতিসংঘের ৮৭টি সদস্য দেশ কূটনীতিক স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বাংলাদেশকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পূর্ণ সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের একটি শান্তিকামী ও জোটনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে স্বীকৃত।

বঙ্গবন্ধু এখনো কিছুটা দুর্বল

স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য জেনেভায় অবস্থানরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও কিছুটা দুর্বল বোধ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক নুরুল ইসলাম কর্তৃক প্রকাশিত এক স্বাস্থ্য বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়, জেনেভায় বঙ্গবন্ধুর অবস্থান দীর্ঘায়িত করা বাঞ্ছনীয়। আরও বলা হয়, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য অত্যন্ত উদগ্রীব। তিনি এক বা দুই সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশের কোনও এক স্থানে স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য অবস্থান করতে সম্মত হয়েছেন।

খাদ্যসংকট প্রবল, সরকারের আশ্বাস

১৯৭২ সালের এই সময় হঠাৎ বাজারে চালের মণ ১০০ থেকে ১১০ টাকা পৌঁছে। ফলে বহু অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের লোক দু’বেলা আটা খাচ্ছে বলে খবরে প্রকাশ করা হয়। সাধারণ লোকের দুর্দশা কল্পনা করা যায় না উল্লেখ করে বলা হয়, সংশোধিত রেশনে চলতি মাসের প্রথম পক্ষকালের মাথাপিছু মাত্র কয়েক ছটাক চাল বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু তারপর দ্বিতীয় পক্ষের কোনও চাল বরাদ্দ হয়নি। যশোরের জেলা খাদ্য কন্ট্রোলারকে তার অফিসে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে বাসা থেকে জবাব দেন খাদ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানেন না।

এদিকে অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম গতকাল দেশের খাদ্য সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় সংকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার দেশের একটি লোক, কেউ অনাহারে মরতে না দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আদমজীনগরে সান্ধ্য আইন

১৯৭২ সালের ২৫ আগস্ট আদমজী জুটমিলে পুনরায় দুটি বিবদমান শ্রমিক দলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে ২ জন নিহত ও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাত নয়টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সান্ধ্য আইন জারি করে রক্ষীবাহিনী মোতায়েন করা হয়। উল্লেখ্য, শ্রমিক নেতৃত্ব, আঞ্চলিকতাবাদ ও দাবি-দাওয়ার বিষয়ে অনেকদিন ধরে আদমজী জুটমিলে শ্রমিক অসন্তোষ বিরাজ করছিল।





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: