রোহিঙ্গা সমস্যায় চীন-ভারতের সঙ্গে রফা করার সামর্থ্য সরকারের নেই: ফখরুল

BT-Newরোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারার জন্য পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারার জন্য সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও দুর্বলতাই দায়ী। এই রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্ত আছে এবং মিয়ানমারকে সমর্থন দিচ্ছে চীন ও ভারত। এই দুটি দেশের সঙ্গে কোনও রকমের রফা করার সামর্থ্য এই সরকারের নেই।’

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মুক্তিযোদ্ধা দলের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই সমস্যার বিষয়টাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী কোনও বিশ্বনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি, বিশ্ব সফর করেননি। জাতিসংঘে সেইভাবে গুরুত্ব সহকারে বিষয়টাকে তুলে ধরতে পারেননি তিনি। যার কারণে রোহিঙ্গা সমস্যার বিশাল একটা বোঝা এদেশের মানুষকে বহন করতে হচ্ছে।’

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনও সম্মান নেই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর নির্যাতন চলছেই। সরকার এখনও মুক্তিযোদ্ধাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এখানে যারা উপস্থিত আছেন সবাই খ্যাতনামা মুক্তিযোদ্ধা, রণাঙ্গনে তারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদেরও কারাগারে যেতে হয়েছে, নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। শুধু একটি কারণে, কারণ তারা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান।’

এ সময় সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত তারই অংশ ১৫ আগস্টের ঘটনায় জিয়াউর রহমানকে আর ২১ আগস্টের ঘটনায় খালেদা জিয়াকে জড়ানো হচ্ছে। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। বারবার এদেশে যারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন, নতজানু পররাষ্ট্র নীতিতে বিশ্বাস করে না, তাদের বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্র করেন।’

জিয়াউর রহমানের পরিবার এদেশের স্বাধীনতার পতাকাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।’

জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করার জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ১৫ আগস্টের ঘটনার সঙ্গে তাকে জড়ানোর একটি প্রচারণা-প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘এটা একটা ষড়যন্ত্র এবং তা প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনার বিচার হয়েছে এবং আসামিদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। সেখানে আবার নতুন করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম জড়ানো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা যখন বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশকেও তছনছ করে দিয়েছে, সেই সময়ে এই অবৈধ সরকারের সম্পূর্ণ উদাসীনতা ও অযোগ্যতা পরিস্থিতি ভয়াবহ করে তুলেছে। মানুষের জীবনের ও জীবিকার কোনও মূল্য না দিয়ে তারা দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছে। আজকের এই দুঃসময়ে জনগণের নিরাপত্তা ও মানুষের জীবিকা ও জীবনের নিশ্চয়তা দিতে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন– বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জয়নুল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান প্রমুখ।

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: