শিশু এমরান হত্যামামলার ৩য় আসামি অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার

এমরান হোসেন

নোয়াখালীতে শিশু এমরানকে পাশবিক কায়দায় বলাৎকারের পর হত্যার ঘটনার প্রায় সাড়ে ১০ মাস পর মামলার তৃতীয় আসামিকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার আসামির নাম জাফর (২০)। জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানি ইউনিয়নের খালিশপুর এলাকা থেকে সম্প্রতি তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় তার কাছ থেকে ১টি পাইপগান ও ১ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত জাফর (২০) একই ইউনিয়নের লক্ষনপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়া ওরপে বাবুর ছেলে। সে পিকআপ এর হেলপার ছিল। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক ছিল।

এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ছয়ানি বাজার থেকে আটক করে প্রধান আসামি ওয়াসিম আকরাম (২০) কে। সে একই ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ওরপে মহিনের ছেলে। এছাড়া, এ ঘটনায় রনি নামে এক আসামিকে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ফেনী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রনি ওয়াসিম আকরামের পুরনো বাড়ি (বরন্দাজ বাড়ি) এর মানিক ড্রাইভারের ছেলে। সে পেশায় পিকআপ এর ড্রাইভার।

নিহত এমরান হোসেন একই এলাকার ছোট শরীফপুর গ্রামের গজারী বাড়ীর সামছুল হক এর ছেলে এবং ছয়ানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, শিশু এমরানকে পাশবিক কায়দায় বলাৎকারের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের মামলার আসামি জাফরকে ছয়ানী ইউনিয়নের খালিশপুর এলাকা থেকে গত রবিবার ১টি পাইপগান ও ১ রাউন্ড কার্তুজসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার ৪ আসামির মধ্যে মূল আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিও ধরা পড়বে।

এর আগে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর মামলার প্রধান আসামি ওয়াসিম আকরাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং তার সঙ্গে আরও ৩ জন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সেসময় শিশুটিকে ধরে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত একচালা টিনের ঘরে পালাক্রমে পাশবিক বলাৎকার করে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা জানায় ওয়াসিম। এরপর মৃতদেহটি প্লাস্টিকের মাছের ঝুড়িতে ভরে ওই ঘরে লুকিয়ে রাখে সে কথাও বলে।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ চৌধুরী আসামিতে গ্রেফতারের কথা জানিয়ে বলেন অপর আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। এঘটনায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম জানান, মামলা এখন চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য রয়েছে।

এমরানের মামা মিজানুর রহমান জানান, ৪ জন আসামির মধ্যে ৩ জন গ্রেফতার হয়েছে। বাকি আসামিকে যত দ্রুত সম্ভব গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে আমাদেরকে নায্য বিচার পেতে সহায়তা করতে প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাই।

এমরানের মা রাফিয়া আক্তার দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন।         

উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ আগস্ট নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানি ইউনিয়নের ছয়ানি বাজারের বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি শিশু এমরান। পরে তার বিকৃত মরদেহ খুঁজে পায় পরিবার। ২৬ আগস্ট এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

 

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: