সিরাজগঞ্জে সরকারি দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিব্রত ‘হাইকমান্ড’, চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পেলেন নেতারা

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞপ্তি

সিরাজগঞ্জে সরকারি দলের গুটি কয়েক নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব ও ‘কর্মকাণ্ড’ নিয়ে বিব্রত দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড। করেনায় সরকারী স্বাস্থ্যবিধি না মেনে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর সাম্প্রতিক ক’টি বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ স্থানীয় প্রশাসনও বিব্রত। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র ক’জন নেতাকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। সেখানে সরকারের দু’টি মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তাদের বিশেষভাবে সতর্ক করেন। করোনার এই সময় দলীয় কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভবিষ্যতে আবারও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এসব নেতাকে। ওই বৈঠকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ এ তথ্য স্বীকার করেছেন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে বুধবার অনুষ্ঠিত ওই সভায় আলোচিত বিষয়সমূহ ছিল ‘করোনার মধ্যে জেলার তাঁত সমৃদ্ধ বেলকুচির জোকনালা-সগুনা গ্রামে সামাজিক দরবার-সালিশের দ্বন্দ্বে গত ৬ জুন আওয়ামী লীগ-যুবলীগের কতিপয় নেতাকর্মীর সংঘর্ষ, গত ১৮ জুন সরকারি স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে বেলকুচিতে হাজারো যুবলীগ নেতাকর্মীর প্রকাশ্যে সমাবেশ, ২৬ জুন বাজার স্টেশনে কামারখন্দ কোরপ আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এনামুল হক বিজয়কে মারপিট, পরে তার অকাল মৃত্যু। সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের দোয়া মাহফিলে যোগদান করার পথে জেলা ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে এনামুলকে প্রকাশে মারপিট করে তার সহকর্মীরা। এনামুলের মৃত্যুর ঘটনার জেরে জেলা শহরে চরম উত্তেজনা। ৭ জুলাই করানোর মধ্যে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও দফায় দফায় সংঘর্ষে আইন শৃঙ্খলার অবনতি। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হকসহ বেশ ক’জনকে মারপিটের ঘটনা নিয়ে পরবর্তী সময়ে শহর চরম উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজমান। রায়গঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হান্নানকে মারপিট।’

সিরাজগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক বিজয়। তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ প্রতিবেদককে বলেন, সিরাজগঞ্জে চলমান করেনার মধ্যে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব ও সাম্প্রতিক ক’টি আলোচিত বিষয় নিয়ে স্বরাস্ট্রসহ সরকারি দু’টি গুরত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র কয়েক জন নেতাকে নিয়ে ওই আলোচনা করা হয়। আগামীতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন কোনোরূপ অবনতি না হয়, সে বিষয়েও নেতাদের বিশেষভাবে অবগত করা হয়। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলে তাদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়।’

সিরাজগঞ্জে এনামুল হক বিজয়কে হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের সংঘর্ষ, যাতে জড়িয়ে পড়ে যুবলীগও।

এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, সিরাজগঞ্জে সরকারি দলের কতিপয় নেতাকর্মীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে শুধু প্রশাসন নয়, মন্ত্রণালয় ও দলের হাইকমান্ডও বেশ বিব্রত। বুধবার জেলা প্রশাসক আমাদের ডেকে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে সতর্ক করেছেন। চলমান করেনার মধ্যে রাজনৈতিক জনসমাবেশ বা সংঘাতের চেষ্টায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কেউ চেষ্টা করলে, দল তার দায়িত্ব নেবে না, প্রশাসনকে বলা হয়েছে। দলীয় লিখিত বিবৃতিতে করোনাকালে জেলা আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের জনসমাবেশ না করার জন্য বলা হয়েছে।

পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে কর্মসূচি গ্রহণের আগে সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করতে অনুরোধ করা হয়েছে।





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: