বর্ষায় আউশ ধান দেখাচ্ছে সোনালী স্বপ্ন

রংপুরের কৃষকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে আউশ ধান

বর্ষায় আউশ ধান দেখাচ্ছে রংপুরের কৃষকদের সোনালী স্বপ্ন। ধানের সবুজ গাছগুলো পরিণত শীষসহ এখন বাতাসে দুলছে। অনেকেরই  সবুজ ক্ষেতে লেগে যাচ্ছে সোনালী আভা। আর এক মাসের মধ্যেই মাঠজুড়ে বইবে সোনা রঙের ঢেউ। শুরু হয়ে যাবে আউশ ধান কাটার মৌসুম। উঁচু এসব জমিতে বন্যার পানি লাগার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। আর কিছু পানি জমলে বরং চাষকাজেই সুবিধা। তাই বর্ষার শেষ লগ্নকে সমস্যা ভাবছেন না কৃষক।

গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম রংপুরে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। রংপুর অঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা করে পানির অপচয় রোধের লক্ষ্যে ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করাতেই এই সাফল্য এসেছে।

এবছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তায় কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের আউশ ধানের বীজ সরবরাহ ও সার সরবরাহ করা হয়। ফলে রংপুর অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ ৬৩ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান হয়েছে। আউশ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ৩ দশমিক ৭ মেট্রিক টন। যা বোরো ধানের চেয়ে অনেক বেশি।

জমিতে পানি সেচ দিতে না হওয়ায় এবং সার কীটনাশক কম লাগায় কৃষকরাও আউশ ধান চাষে উৎসাহিত হয়েছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে আউশ ধান ঘরে তুলবেন কৃষকরা। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন। ফলন দেখে মহাখুশি কৃষকরা।

পীরগাছা উপজেলার কল্যানী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোরো ধান চাষ করে কাঙ্ক্ষিত ফলন এবার হয়নি। আলু তোলার পর ওই জমিতে আউশের চারা রোপণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ তাদের ধান বীজসহ অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করেছে।

কৃষক মোতালেব ও ছকিনা বেগম জানান, আউশ ধান চাষে জমিতে পানি সেচ দিতে হয় না, বৃষ্টির পানিতেই এ ধান হয়। ভরা বর্ষা মৌসুমে আউশ চাষ করায় কোনও সমস্যা হয়নি। ধান গাছের অবস্থা দেখে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।

একই কথা পীরগঞ্জ উপজেলার কাবিলপুর গ্রামে কৃষক সানোয়ার আলীসহ অনেকের।

গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই ব্যাপক সংখ্যক জমিতে আউশ ধান চাষ করেছেন রংপুরের কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানায়, শষ্যভাণ্ডার বলে পরিচিত রংপুরের পাঁচ জেলা রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে শত শত বছরের পুরাতন আউশ ধানের চাষাবাদ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কৃষকরা বোরো ধান চাষে উৎসাহিত হলেও এ ধান চাষে জমিতে ধানের চারা রোপন থেকে শুরু করে গাছ পুষ্ট হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৩ মাস শ্যালো ও ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে পানি দিতে হয়। এতে করে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ে, অন্যদিকে অতিরিক্ত পানির ব্যাবহারের কারণে এ অঞ্চলে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। ফলে অনেক এলাকা মরুকরণের কবলে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে কৃষি বিশেষজ্ঞরা উন্নত জাতের আউশ ধানের বীজ উদ্ভাবন করে। এ ধানের চারা মূলত বর্ষা মৌসুমে রোপণ করতে হয়। বৃষ্টির পানিতেই সেচের কাজ হয়ে যায়।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক সরোয়ারুল আলম জানান, আউশ ধান চাষের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। পানির অপচয় না করে বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে আউশ ধান চাষে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করায় গত ২০ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আউশের চাষ হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে কৃষকরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে ২ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ধান দেশের খাদ্য চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে।





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: