পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ

বিদেশে পড়াশোনাঅনলাইনে ক্লাস ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্দেশনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আর শিক্ষার্থীদের মঙ্গল নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশের প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে এবং আসন্ন শরৎকালীন সেশনে ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।

একটি সূত্র জানায়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন অথবা অন-ক্যাম্পাস পদ্ধতিতে ক্লাস নিতে পারে। এ বিষয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি অন-ক্যাম্পাস পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়া হয় তবে শিক্ষার্থীদের কোনও সমস্যা হবে না।’

অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেশ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত যদি শেষ পর্যন্ত বলবৎ থাকে তবে শিক্ষার্থীরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে অন-ক্যাম্পাস পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে সেখানে ট্রান্সফার নিয়ে যেতে পারবে।’ এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও শিক্ষার্থীর মানের ওপর ভিত্তি করে ট্রান্সফার হয় বলে তিনি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সাত হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ে  ট্রান্সফার করার নিয়ম অনেক সহজ জানিয়ে আরেকটি সূত্র বলেন, ‘সমমান বা যেকোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ট্রান্সফার পদ্ধতি আছে। এগুলো নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ আছে।’

হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত আগামী শরৎ (ফল) সেশনের জন্য অর্থাৎ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর থাকবে বলে তিনি জানান। 

তিনি জানান,  ‘ইতোমধ্যে হার্ভাড ও এমআইটি শিক্ষার্থী চলে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আশা করা হচ্ছে এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে।’

বিভিন্ন দেশের সরকারও এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী ওইদেশে পড়াশোনা করে। সম্প্রতি একটি বৈঠকে তারা এই উদ্বেগের বিষয়ে জানালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বিশ্বের ২৫টি দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মার্কিন অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবদান ছিল প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী হচ্ছে চীনের। এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত।

আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘৯/১১ এর পর বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী ভিসা দেওয়া কমে গেলে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়া শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এবারেও যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীদের চলে আসতে হয় তবে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অন্যদেশে পড়াশোনা করবে।’

 

 

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: