সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

সুরমা নদীর তীর উপচে পানি ঢুকছে সুনামগঞ্জে শহরে। নবীনগর এলাকায় শুক্রবার দুপুরে। ছবি: প্রথম আলোসুনামগঞ্জে গত দুদিন ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ৬৭ সেন্টিমিটার। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বাড়ছে জেলার অন্যান্য নদ-নদী ও হাওরে।

জেলায় গত ২৫ জুন থেকে বন্যা দেখা দেয়। জেলার ১১টি উপজেলার চারটি পৌরসভা ও ৮২টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১৩৭টি। সহস্রাধিক পরিবার এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। এরপর মাঝখানে কয়েক দিন বৃষ্টি কম হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কিন্তু দুদিন ধরে আবার ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে উজান থেকে ব্যাপক পরিমাণে পাহাড়ি ঢল নামায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন করে সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এসব উপজেলায় পানি বাড়ায় নতুন করে পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের নবীননগর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সুরমা নদীর তীর উপচে সড়কের ওপর দিয়ে পানি ঢুকছে। ওই এলাকার কিছু কিছু বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া শহরের উত্তর আরপিননগর, মাছবাজার, বড়পাড়া, উকিলপাড়া ও মল্লিকপুরে সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বন্যায় সড়কের ক্ষতি হওয়ায় এখনো জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর ও শক্তিয়ারখলা এলাকা আবার নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। এই দুই স্থানে লোকজন নৌকায় পারাপার হচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী প্রীতম পাল জানান, সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও বৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে ব্যাপক পরিমাণে পাহাড়ি ঢল নামছে। এতে সুরমাসহ জেলার বিভিন্ন নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে। পানি আরও বাড়বে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ জানান, সুনামগঞ্জে আরও তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টি হবে। এতে বন্যার পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: