জামিনে বের হয়ে হুমকি দিচ্ছে আসামিরা

পঙ্গু হাসপাতালের বেডে সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম চৌধুরীর হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান এবং তার বাহিনীর সদস্যরা কাজিয়াতল গ্রামে এ হামলা চালায়। এ সময় শরিফুলের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন চৌধুরী ও তার স্ত্রী, ছেলেকে রক্ষা করতে এলে তাদেরও মেরে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শাজাহান চেয়ারম্যানসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আব্দুল মতিন চৌধুরী। কিন্তু আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর ব্যথা-যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে দিনপার করছেন ভুক্তভোগীরা। 

মারধরের শিকার সাংবাদিক শফিকুল আলম এখন রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি রয়েছেন। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আমার চার হাত-পা অকেজো, শরীরে যে পরিমাণ ব্যথা-যন্ত্রণা তা থেকে মরে যাওয়াই ভালো ছিল।’

এদিকে, জামিন বের হয়ে এসে এলাকায় উল্লাস করতে দেখা গেছে হামলাকারীদের। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় বিভিন্নভাবে তারা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিক শরিফুলের ওপর হামলার আগে গত (৩০ জুন) মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. কুদ্দুছ মিয়াকেও শাহজাহান চেয়ারম্যানের লোকজন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। হামলাকারীদের ভয়ে ও আতঙ্কে কুদ্দুস মিয়া, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিজান ও একই গ্রামের সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিনসহ কাজিয়াতলে গ্রামছাড়া হয়েছে ১০টি পরিবার।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন চৌধুরী ও তার স্ত্রীজানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ শাহজাহান চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে। পরদিন রবিবার কুমিল্লার মুরাদনগর ভার্চুয়াল কোর্টে তিনি জামিন পান। এরপর গত মঙ্গলবার একই আদালতে আরও চার আসামি জামিন পায়। মামলার দুই আসামি এখন কারাগারে রয়েছে।

সাংবাদিক শরিফুলের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারা আমার ডান হাতে কোঁপ দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। তার মায়ের বাম হাত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে ফেলে। তারা শরিফুলের মাথায় কোপ দেয় এবং হাত-পা ভেঙে ফেলে। এখন আমার ছেলের পঙ্গু হওয়ার দশা। আর মামলার আসামিরা একে একে প্রায় সবাই জামিনে বেরিয়ে এলাকায় উল্লাস প্রকাশ করছে।’

মো. কুদ্দুছ মিয়া বলেন, ‘গত ৩০ জুন শাহজাহান চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। হাসপাতলে চিকিৎসা নিয়ে থানায় মামলা করি। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি। সাংবাদিক শরিফুলের ওপর হামলার মামলায়ও তারা কোর্ট থেকে জামিনে বের হয়ে এসেছে। এখন আমি ও আমার ভাইসহ এই গ্রামের ১০টি পরিবারের লোকজন গ্রামছাড়া। আমাদের অপরাধ শাহজাহান চেয়ারম্যানের নানা অনিয়ম নিয়ে দুদকসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া। আর শরিফুলের অপরাধ সে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেছে। এছাড়া দারোরা ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিজান ও একই গ্রামের সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিনও গ্রামছাড়া।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান শাহজাহান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি গাড়িতে, কথা বলা যাবে না। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকবেই।’

এ ব্যাপারে মুরাদনগর থানার সার্কেল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সাংবাদিক শরিফুলের ওপর হামলার ঘটনায় চেয়ারম্যান শাহজাহানসহ মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। কারাগারে পাঠানোর পর আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে এসেছে। এখানে আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে তাদের উল্লাস প্রকাশ, হুমকি, ১০টি পরিবারের গ্রাম ছাড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

 

 





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: