কুমিল্লায় কয়েক শ লোকের সামনে একজনকে কুপিয়ে হত্যা

প্রতীকী ছবিপূর্বশত্রুতার জেরে কুমিল্লা নগরের চাঙ্গিনী এলাকায় কয়েক শ মানুষের সামনে আক্তার হোসেন (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন, তাঁর ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় আক্তারকে বাঁচাতে গিয়ে আরও অন্তত ছয়জন আহত হন।

শুক্রবার বেলা ১টা ৫০ মিনিটে চাঙ্গিনী মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনের তিন ভাইকে আটক করেছে। নিহত আক্তার হোসেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রয়াত আলী হোসেনের ছেলে। তিনি হোটেল ও মাটির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী অন্তত পাঁচজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নগরের চাঙ্গিনী এলাকার আক্তার হোসেন ও কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন সম্পর্কে চাচাতো ভাই। আক্তারদের ঘরের পাশের একটি জায়গা নিয়ে কাউন্সিলরের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব রয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ নিয়ে আক্তার ও কাউন্সিলরের এক ভাইয়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর কাউন্সিলর আলমগীর, তাঁর পাঁচ ভাই, ভাতিজা ও পরিবারের সদস্যরা মসজিদের কাছে নামাজের আগে লোহার রড, পাইপ ও চাপাতি মজুত করেন। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে চাঙ্গিনী মসজিদে জুমার নামাজ পড়া শেষে মুসল্লিরা একে একে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। তখন আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে তাঁর ভাই ও ভাতিজারা মসজিদ থেকে আক্তারকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনেন। এরপর কয়েক শ মানুষের সামনে আক্তারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। আক্তারকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলায় আহত হন শাহজালাল আলাল, মো. হোসাইন, রেজাউল করিম, মো. সোহাগ, মনির হোসেন ও মো. শাকিল। পরে দ্রুত তাঁদের নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কুমিল্লা নগরের মুন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আক্তার হোসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনের তিন ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন, তফাজ্জল হোসেন ও আমির হোসেনকে আটক করেছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে লোহার পাইপ জব্দ করা হয়। কাউন্সিলরের পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যান।

চাঙ্গিনী এলাকার অন্তত তিনজন ব্যক্তি বলেন, প্রকাশ্যে শত শত লোকের সামনে আক্তারকে হত্যা করা হয়। কাউন্সিলর আগাম প্রস্তুতি নিয়ে পরিকল্পনা করে এ হামলা চালান।

আক্তারের ছেলে মো. সোহাগ হোসেন বলেন, ‘কাউন্সিলর, তাঁর ভাই, ভাতিজা ও পরিবারের সদস্যরা আমার বাবাকে মসজিদ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে সবার সামনে হামলা করেন। এরপর তিনি মারা যান। সবার সামনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। আমি এর বিচার চাই। আমিও বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হই।’

জানতে চাইলে কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আক্তারের সঙ্গে জায়গা নিয়ে বিরোধ আছে। এ ছাড়া আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার চালায় আক্তারের লোকজন। এই কারণে নামাজের পর ঝামেলা হয়। আমি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম।’

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কাউন্সিলর আলমগীর ও তাঁর ভাইয়েরা প্রকাশ্যে আক্তারের ওপর হামলা চালায়। মসজিদের নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান কাউন্সিলরের পরিবার। এ ঘটনায় তাঁর তিন ভাইকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে দুই পক্ষের মধ্যে জায়গা নিয়ে বিরোধ ছিল। আমি তখন মিটমাট করে দিই। এরপর আবার তারা মামলায় জড়ায়। লাশ দাফনের পর মামলা হবে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: