এবার তাহলে আতলেতিকোর বছর?

আতলেতিকো মাদ্রিদ- ছবি:টুইটারশুক্রবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র কোনও দলের কাছে উচ্ছ্বাসের কারণ হয়ে আসে সে হলো আতলেতিকো মাদ্রিদ। ড্রয়ে যে পথটা এবার তারা সামনে পেয়েছে, তাতে বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে ড্যাং ড্যাং করে ফাইনালে উঠে যাওয়ার মতো।

স্পেনের ক্লাবটি গতবারের অমিত শক্তিধর চ্যাম্পিয়ন  লিভারপুলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বসে আছে। পর্তুগালে অনুষ্ঠেয় একমাত্র ম্যাচের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ আর বি লাইপজিগ। শেষ আট পেরোলে সেমিফাইনালে তাদের সামনে পড়বে ইতালির আতালান্তা বা নেইমারদের পিএসজি। কী সৌভাগ্য যে শেষ চারের পথে চ্যাম্পিয়নস লিগের রাজা রিয়াল মাদ্রিদ বা অভিজাত বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও জুভেন্টাসের সামনে পড়তে হচ্ছে না।

লাইপজিগ বুন্দেসলিগায় এবার তৃতীয় হয়েছে। কিন্তু তাদের সমস্যা হলো, এ মৌসুমে ৪৫ ম্যাচে ৩৪ গোল করা ফরোয়ার্ড টিমো ভারনারকে ছাড়াই খেলতে হবে। ৭ আগস্ট চ্যাম্পিয়নস লিগ আবার শুরু হওয়ার আগেই ভারনার হয়ে যাবেন চেলসির। দলবদল সম্পন্ন হওয়ার পর চ্যাম্পিয়নস লিগে আর খেলতে পারবেন না। এ অবস্থায় আতলেতিকোর সম্ভাবনা অবশ্যই বেশি। সমর্থকেরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তবে আতলেতিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনি সতর্ক। স্প্যানিশ দৈনিক মার্কাকে বলেছেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যায়ে আপনাকে সবসময়ই ভালো দলের মুখোমুখি হতে হবে, এখানেও ব্যাপারটি তাই। আমি নিশ্চিত, এটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে। আমি দুই দলেরই ৫০-৫০ সম্ভাবনা দেখছি।’ রাস্তা যতোই সহজ হোক না কেন একজন কোচকে সবসময় সতর্কই থাকতে হয়। সিমিওনি যোগ্য কোচের মতোই কথা বলছেন!

সেমিফাইনালে উঠলে লস কোলচোনেরোদের পড়তে হবে আতালান্তা বা পিএসজির সামনে। আতালান্তা কোয়ার্টার ফাইনালের আগ পর্যন্ত এই চ্যাম্পিয়নস লিগের বিস্ময়। গোলের পর গোল করেছে। কঠিন প্রতিপক্ষই বটে। কিন্তু এই টুর্নামেন্টের ওপরের দিকে যেতে হলে যে অভিজ্ঞতা লাগে সেটি যে তাদের নেই। এবারই ইতালির দলটি উঠেছে শেষ আটে।

বাকি থাকলো নেইমার-এমবাপ্পেদের পিএসজি। অবশ্যই তারা দুর্দান্ত। কিন্তু সেই মার্চ মাস থেকে করোনাভাইরাস-নির্বাসনে থাকা ফ্রেঞ্চ লিগ আর মাঠে নামেনি। খেলা শেষ না হলেও পিএসজিকে শিরোপা দিয়ে শেষ টেনে দেওয়া হয়েছে লিগের। খেলোয়াড়েরা যতই প্রতিভাবান বা সামর্থবান হোন না কেন, এতদিন খেলার বাইরে থেকে ভালো কিছু করাটা দুঃসাধ্য। তাছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ওঠার রেকর্ডই তো তাদের নেই।

সুতরাং ২০১৪ সালের পর আবার লিসবনের ফাইনালে ওঠার ভালোই সম্ভাবনা আছে  আতলেতিকোর। সেই ফাইনালে ৪-১ গোলে হেরেছিল তারা নগর প্রতিদ্বিন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। কে জানে, এ বছরটি হয়তো তাদেরই হবে। তিনবার ফাইনালে উঠে পরাজিত দল আতলেতিকো চতুর্থবার নিশ্চয়ই ব্যর্থ হবে না!





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: