করোনা ও উপসর্গে চার জেলায় ১০ জনের মৃত্যু

করোনাভাইরাসকুমিল্লা, বগুড়া, রাজশাহী ও সাতক্ষীরায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৫ জন, বগুড়ায় দুই জন, রাজশাহীতে একজন এবং সাতক্ষীরায় দুই জন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে শনিবার (১১ জুন) সকালের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তাদের মৃত্যু হয়। আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

কুমিল্লা

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে করোনা পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে একজন এবং করোনা ইউনিটের আইসিইউতে চার জন মারা গেছে। এরা সবাই পুরুষ। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান,  কুমেক হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে একজনের করোনা পজিটিভ ছিল। বাকি চার জনের করোনা উপসর্গ ছিল। বর্তমানে করোনা পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১১৮ জন।

উল্লেখ্য, মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে এ পযর্ন্ত মারা গেছেন ১৯০ জন। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিল ৬৮ জন এবং করোনার উপসর্গ ছিল ১২২ জনের। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সূত্র মতে, কুমিল্লা জেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন চার হাজার ৩১০ জন, সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ২১৭ জন এবং আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১২১ জন।

বগুড়া

বগুড়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আবদুর রাজ্জাক (৫০) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ২টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যা কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের আইসোলেশনে মারা যান। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্যরা শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মরদেহ প্রস্তুত, জানাজা ও সাবগ্রামে পরিবারিক গোরস্থানে দাফন করেছেন। শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ এ তথ্য জানান।

এদিকে, জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মো. রঞ্জু (৪৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে মারা যান তিনি। শুক্রবার সকালে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্যরা তার মরদেহ প্রস্তুত ও জানাজা শেষে দাফনের জন্য পরিবারকে দিয়েছেন।

শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, পেশায় কাঠমিস্ত্রি রঞ্জু সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চালাভরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বগুড়ার ধুনট উপজেলার মাধবডাঙ্গা গ্রামে বসবাস করতেন। তিনি করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় শজিমেকের আইসোলেশনে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ৩টা ৪০মিনিটে মারা যান।

রাজশাহী

রাজশাহীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক পরিবহন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় তার মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তির নাম মনোয়ার হোসেন মিলন (৩৯)। তার বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর আসাম কলোনিতে। বাবার নাম সাইদুর রহমান। মিলন পেশায় জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের চেইন মাস্টার ছিলেন।

মৃতের খালাতো ভাই আতাউর রহমান বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে মিলন জ্বর-কাশিতে ভুগছিলেন। তাই পাঁচ দিন আগে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এতে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তারপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিউতে নেওয়া হয়েছিল। সেখানেই তিনি মারা গেলেন।

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনায় মিলনের মৃত্যুর বিষয়টি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে জানানো হয়েছে। তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা মরদেহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফনের ব্যবস্থা করছেন।

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনায় এবং উপসর্গ নিয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকালে মেডিক্যালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। তারা হলেন— সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া মাঠপাড়া এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে করোনা আক্রান্ত মাহমুদ হোসেন (৩৮) এবং সদর উপজেলার বাঁকাল শেখপাড়া এলাকার মৃত গোলাম মোক্তাদির ছেলে আব্দুস সাত্তার (৭৮)। তিনি করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। 

সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৮ জুন জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মেকিক্যাল  কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন মাহমুদ হোসেন। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সকালে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ৩টার দিকে তিনি মারা যান। তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে তিনি জানান।

এদিকে, করোনার উপসর্গ নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে শুক্রবার দুপুরে ভর্তি হন আব্দুস সাত্তার। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে তিনিও মারা যান। 

মেডিক্যালটির তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার রফিক আরও জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা।

এ নিয়ে সাতক্ষীরায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: