ত্রাণের অপেক্ষায় নীলফামারীর ২০ হাজার পানিবন্দি মানুষ

নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। পরে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার দিকে ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়। পাউবোর গেজ পাঠক (পানি পরিমাপক) নুরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশিদ জানান, ডিমলা, জলঢাকার প্রায় ১৫টি চর ও চরগ্রাম হাটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়েছে। উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে রাখা হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট।

ডিমলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ১৫টি চর ও গ্রামের পরিবারগুলো বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে । এখানকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি।

উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, গত দুই দিনের বন্যার চেয়ে শুক্রবার (১০ জুলাই) উজানের ঢলে পানির গতিবেগ অনেক বেড়েছে। ফলে এলাকার উঁচু, নিচু স্থানে নদীর পানি প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৪০ পরিবারের বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর মৌজাটি তলিয়ে গেছে। হুমকীর মুখে পড়েছে মাটির রাস্তাগুলো। রাস্তার ওপর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হওয়ায় এলাকাবাসী বালির বস্তা দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংশ্বর চরের বাসিন্দা বানভাসি হামিদুল ইসলাম বলেন, গত তিন দিন ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে পানিবন্দি। চাল চুলো জ্বালানোর কোনও উপায় না পেয়ে শুকনা খাবার খেয়ে ছেলে মেয়ে নিয়ে বেঁছে আছি। সুপেয় পানি ও গবাদী পশুখাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বানভাসিদের জন্য সামান্য বরাদ্দ কোনও কাজে আসছে না।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান, সোনাখুলী এলাকায় তিস্তা নদীর ডান তীরের প্রধান বাঁধের অদুরে ইউনিয়ন পরিষদের তৈরি করা মাটির বাঁধ হুমকীর মুখে পড়েছে।

বাঁধের ওপর দিয়ে তিস্তার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় দক্ষিণ সোনাখুলী কুঠিপাড়া গ্রামের বসত ঘর ও আবাদী জমিগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। বাঁধটি বিধ্বস্ত হলে এলাকাটি বিলীন হয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু জায়গায় আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার ফসলি জমি ও বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার বলেন, পূর্ব বাইশ পুকুর ও ছোটখাতা মৌজার ৫ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়িতে বন্যার পানি বয়ে যাচ্ছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, তার এলাকার দক্ষিণ খড়িবাড়ি ও পূর্ব খড়িবাড়ি, একতার চর, টাবুর চর মৌজায় তিস্তার বন্যার প্রবেশ করেছে। দুই সহস্রাধিক পরিবারের বসতবাড়িতে এখন বন্যার পানি। এসব পরিবারের দ্রুত ত্রাণ প্রয়োজন।

এদিকে, জেলার জলঢাকার শৌলমারী বান পাড়ায় ডানতীর গ্রাম রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম জানায়, পরিবার পরিজন নিয়ে খুব আতঙ্কে আছি। এই বাঁধ ভেঙে শুধু বান পাড়ায় নয়, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের ২০ হাজারেরও বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাবে।

অপরদিকে, ডিমলা চরখড়িবাড়ি এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধটি তিস্তার পানির স্রোতে ভেঙে গিয়ে এলাকার ২ হাজার পরিবার নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে আমরা সর্তকাবস্থায় আছি। শুক্রবার তিস্তার পানি সকাল ৬টায় বিপদসীমা অতিক্রম করে ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে বিকাল ৩ টায় বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় বলেন, কিছু মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। কিছু পানিবন্দি। ভানভাসিদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা এসএ হায়াত জানান, প্রথম দফা বন্যায় ১ দশমিক ৭৭০ মেট্রিকটন চাল, নগদ এক লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা ও ২০০ প্যাকেট শুকনা দেয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে বৈঠক করে দ্বিতীয় দফা বন্যায় কি পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে তা জানানো হবে।

 

 





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: