অনলাইন শপিং সাইট ইভ্যালির অফার ফাঁদ; পড়ূন কাষ্টমার রিভিউ

0 58
Loading...

গত ০৭/১১/২০১৯ তারিখে ইভ্যালি নামক একটি অনলাইন মার্কেট থেকে একটি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় যে, Motorola e5 plus মোবাইলের উপর প্রায় ৫০% ডিসকাউন্ট দেয়া হচ্ছে। সেখানে ‘প্রায়’ শব্দটি উল্লেখ থাকার কারণে সম্পূর্ণ ফিফটি পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট থাকা সত্বেও তারা বর্তমান বাজার মূল্য পনেরো হাজার(১৫,০০০) টাকার মোবাইলটি সাত হাজার ছয়শ নব্বই (৭,৬৯০) টাকা দামে দিচ্ছে।

আমি সেই বিজ্ঞাপনটি দেখে অনলাইনের মাধ্যমে তিনটি মোবাইল অর্ডার করি এবং তিনটি মোবাইলের জন্য তেইশ হাজার সত্তর (২৩,০৭০) টাকা বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করি। উল্লেখ থাকে যে তারা সেই মোবাইল গুলি(motorola e5 plus) ১৫ দিনের মধ্যে ডেলিভারি করবে, কিন্তু সাত থেকে আট দিন পরে তারা একটি ফেসবুক লাইভে এসে জানায় যে তাদের সেই মটোরোলা মোবাইলটি স্টকে নেই, এই কারণে তারা ওই মোবাইলটি দিতে পারছে না এবং সেই মোবাইল না দেওয়ার কারণে তারা কি সিদ্ধান্ত নেবে,তা আরো দুইদিন পরে জানানো হবে।

অতঃপর তারা দুইদিন পরে জানায় যে, যারা motorola e5 plus মোবাইলের জন্য যারা টাকা পেইড করে ফেলেছেন, তাদের টাকাটি রিফান্ড করা হবে অথবা যারা রিফান্ড নিতে চান না,তারা (mi Redmi Note 7S) নামক মোবাইল ফোনটি নিতে পারবেন কিন্তু তার জন্য আরও তিন হাজার করে টাকা জমা দিতে হবে। তাদের রিফান্ড আবার এক বুজুরকির নাম, যেমন রিফান্ডক্রিত টাকাটি তাদেরই ভারচুওয়াল অ্যাকাউন্টে জমা হবে,যা আমি শুধু দেখতে পারবো কিন্তু সেই টাকা দিয়ে কিছুই করতে পারবোনা, একমাত্র তাদের কাছে থেকে যদি কোন প্রোডাক্ট কেনা হয় তাহলেই কেবল সেই টাকাটি ব্যবহার করা যাবে।

আর ঐ টাকাটি যদি, আমি যেই মাধ্যমে দিয়েছি সেই মাধ্যমে ফেরত পেতে চাই তাহলে তাদের রিফান্ড এর শর্ত থাকে যে,যেহেতু তাদের কাছে অনেক অর্ডার জমা হয়েছে তাই তাদের সেই টাকা রিফান্ড করতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এইজন্য আমি চিন্তা করি যে এত সময় অপেক্ষা না করে আরও তিন হাজার করে নয় হাজার টাকা জমা দিয়ে আমি তিনটি মোবাইল নিয়ে নেই, যেহেতু আমার তিনটি মোবাইলরই দরকার ছিল।

সেজন্য আমি আরও নয় হাজার(৯০০০) টাকা বিকাশের মাধ্যমে তাদেরকে পেমেন্ট করি এবং তারা আমাকে অদ্য ২২/১১/২০১৯ তারিখে ‘পেপারফ্লাই’ নামক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মোবাইল ফোন ডেলিভারি করে,কিন্তু ডেলিভারিকৃত মোবাইল ও তার মানি রিসিপ্ট দেখে আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরে।

কেননা তারা আমাকে যে ফোনটি ডেলিভারি করেছে সেখানে মাত্র একটি ফোন ছিল এবং আমি অর্ডার করেছিলাম তিনটি ফোন এবং সেই ডেলিভারি ফোনের মানি রিসিপ্টে ছিল সেখানে তারা আমার তিনটি মোবাইল ডেলিভারি দিয়েছে ও তিনটি ফোনের টাকা আমার পেইড হয়েছে বলে উল্লেখ থাকে।

তখন আমি চিন্তা করি যে, এই ফোন যদি আমি রিসিভ করি তাহলে আমাকে বলা হবে আমি তিনটি ফোনই রিসিভ করেছি। সেই জন্য আমি তাৎক্ষনিক ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারে ফোন দেই এবং তাদের কাছে জানতে চাই যে আমার সাথে কেন এটা করা হয়েছে? তারা বলে যে যারা যারা অর্ডার করেছিলেন প্রত্যেককে একটি করে ফোন দেওয়া হবে আর আপনি তিনটি মোবাইল অর্ডার করেছিলেন তাই আপনাকে একটি মোবাইল দেওয়া হবে ও বাকি দুইটি মোবাইলের টাকা রিফান্ড(বুজুরকির রিফান্ড) করা হবে। কিন্তু এই কথাটি তারা আমাকে আগে জানায়নি যখন আমি মটোরোলা(motorola e5 plus) মোবাইলটি না পেয়ে আরও তিন হাজার করে টাকা পেমেন্ট করি।

তখন যদি তারা আমাকে এই জিনিসটি উল্লেখ করত তাহলে অবশ্যই আমি একটি মোবাইলের জন্য তিন হাজার (৩০০০) টাকা পেমেন্ট করতাম এবং বাকি টাকা নেওয়ার জন্য আমি চেষ্টা করতাম।উল্টো তারা জালিয়াতি ভাবে তিনটি মোবাইলের মানির রিসিপ্ট দেখিয়ে একটি মোবাইল হাতে ধরিয়ে দিতে চেষ্টা করে। দু-একটা জিনিস আমি পয়েন্ট আকারে বলতে চাই, ১। প্রথমত Motorola e5 plus মোবাইলটি ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে, ১৫ দিন সময় নিয়ে তারা সে কমিটমেন্ট পূরণ করেনি এমনকি যে মোবাইলটি দেওয়ার কথা ছিল সেটাও দেয়নি।

২। তারা কোনপ্রকার পূর্বশর্ত ও কোনপ্রকার পূর্বে অবগত ছাড়াই টাকা আটকে রাখছে ও হেনস্তা করছে, তারা রিফান্ড এর নামে বিভিন্ন ছলচাতুরির মাধ্যমে জনগণের টাকা মাসের পর মাস আটকে রেখে জনগণকে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এক কথায় তাদের কাছে জিম্মি করে ফেলছে।

৩।এখন আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, তাদের এই স্টক শেষ হয়ে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনা বা অনিচ্ছাকৃত কোন ভুল নয়, বরং তারা এই টাকা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখে মানুষের টাকা দিয়ে ব্যবসা করছে। জনগণকে এভাবে আর্থিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করার কোন অধিকার তাদের থাকতে পারে না ।

৪।আনুমানিক একটি গাণিতিক হিসাব আমি দিতে চাইবো যে তারা কত টাকা জনগণের কাছ থেকে কিভাবে আটকে রাখে এবং কত দিন আটকে রাখলে কতো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটামুটি তার একটা আনুমানিক ধারণা করবো, অতঃপর,পরবর্তীতে অবশ্য আমি আমার সেই মোবাইলটি রেখে দিই এবং ডেলিভারি বয়ে’র কাছ থেকে সাক্ষী স্বরূপ ভিডিও ফোটেজ রেখে দিই, এমনকি মানি রিসিপ্টে উক্ত বক্তব্য উল্লেখ করে ডেলিভারি বয় এর স্বাক্ষর রেখে দিই,কেননা আমি ভাবলাম যে,এই মোবাইলটিও যদি আমি ফেরত দিয়ে দিই তাহলে আরো না পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

আমার এখন জানতে চাওয়ার বিষয়বস্তু হচ্ছে আমি এবং আমার মত ভোক্তভোগীর স্বীকার সাধারন জনগণ কিভাবে এই আধুনিক জালিয়াতি ও প্রতারনার হয়রানির হাত থেকে বাঁচতে পারি? আমি কোথায় গেলে এর সঠিক বিচার পাবো ও আমি কিভাবে আমার বাকি টাকা গুলো অল্প সময়ের মধ্যে ফেরত পেতে পারি??

আমি আমার হয়রানির কিছু প্রমাণাদি, যেমন ভিডিও,কিছু স্ক্রিনসট ও মানি রিসিপ্টের ছবি আপলোড দিয়ে দিচ্ছি।

Posted by Shamim Rafi on Friday, November 22, 2019

Loading...

মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More