বগুড়ায় ২ শতাংশ ভোট পড়লেও উপনির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে: সিইসি

বগুড়ায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা

 

 

প্রধান নির্বাচন কশিমনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, সাংবিধানিক কারণে এ করোনাকালে আগামী ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বগুড়া-১ আসনের নির্বাচনের তারিখ পেছানোর সুযোগ নেই। বাধ্য হয়েই নির্বাচন করতে হচ্ছে। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়, বৃষ্টি হলেও হলেও নির্বাচন চলবে। এমনকি ২ শতাংশ ভোট পড়লেও উপনির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে। সংশ্লিষ্টরা সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন ও নির্বাচন গ্রহণের চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। আর পরিবেশ ও প্রস্তুতি ভালো তাই এ নির্বাচন সুন্দর হবে। তিনি শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভা শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে নির্বাচন ৯০ দিন নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পারে। তাই করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৯ মার্চ বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। এখন আর তারিখ পেছানোর সুযোগ নেই, আগামী ১৪ জুলাই নির্বাচন করতেই হবে। বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে গেলেও ব্যালটে তার নাম ও প্রতীক থাকবে।

এরপরও নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইন হলে পরিবর্তনের সুযোগ থাকে; কিন্তু সংবিধানের ওপর কথা নেই। নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করতে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে সংশোধন করতে হয়। তাই বন্যা, বৃষ্টি, করোনা মাথা রেখেই নির্বাচন করতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ইতালি, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, রুয়ান্ডাসহ বিভিন্ন দেশের নির্বাচনের উদাহরণ দেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে সিইসি বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মাইকিং করবেন। আর জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নাগরিক অধিকার পালন করতে কেন্দ্রে যাবে। কত শতাংশ ভোট সংগ্রহ হলে নির্বাচন হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। ২ শতাংশ ভোট গ্রহণ হলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে।

ভোট দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনও ভোটার মারা গেলে তার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন নিবে কিনা? এর উত্তরে সিইসি বলেন, ভোটার নিজ দায়িত্বে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট দিতে যাবেন। তার কিছু হলে কেউ দায়িত্ব নেবে না। কেন্দ্রে করোনা মোকাবিলার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু থাকবে।

এর আগে নবাগত বগুড়া জেলা প্রশাসক জহুরুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায় নির্বাচন নিয়ে ব্রিফ করেন, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মাহবুব আলম শাহ্।

সভায় গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির সরে গেছেন। তাই বিএনপির ভোটাররা স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক মার্কা) ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজের পক্ষে কাজ করবে। নির্বাচন স্থগিতের আগে বিএনপি ও আওয়ামী প্রার্থী সাহাদারা মান্নানের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া বিএনপি প্রার্থী সোনাতলা উপজেলায় গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে। ওই কর্মকর্তা সিইসিকে আশ্বস্ত করেন, বর্তমানে তেমন হুমকি নেই।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিজিবি ১৬ নওগাঁ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল একেএম আরিফুল ইসলাম, এনএসআই’র উপপরিচালক মুজাহারুল ইসলাম মামুন, পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা, সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়া, সোনাতলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শফিকুর আলম, র‌্যাব-১২ বগুড়ার স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মেহেদী হাসান প্রমুখ।

আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন চৌধুরী, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ, ডিজিএফআই’এর জেনারেল স্টাফ কর্নেল নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।

পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। 





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: