‘কোরবানির পশু পাঠাতে চালু হচ্ছে বিশেষ ট্রেন, বাড়বে চামড়ার দাম’

নাটোরে প্রাণী সম্পদ সচিবের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানি পশু বিক্রির জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ ট্রেন। রাজশাহী, রংপুর, খুলনাসহ বিভিন্ন বিভাগের খামারিরা এই ট্রেনে করে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের পালিত পশু বিক্রি করতে নিয়ে যেতে পারবেন। এছাড়া এবারে কোরবানির চামড়ার দাম বাড়ানোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন এ কথা বলেছেন।

তিনি শনিবার (১১ জুলাই) নাটোর রাজবাড়ি আনন্দভবনে জেলা প্রাণী সম্পদ দফতর আয়োজিত কোরবানি পশুর চামড়া বাজারজাতকরণ, কসাই প্রশিক্ষণ, চামড়া বাজারজাতকরণ ও লাম্ফি স্কিন ডিজিজ বিষয়ে নাটোর, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে  কাজী ওয়াছি উদ্দিন আরও বলেন, গতকাল তিনি খুলনায় এবং আজ জয়পুরহাট ও রাজশাহীতেও মতবিনিময় করেছেন। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নাটোরে আড়াই লক্ষাধিক, পাবনায় ২ লাখ ২০ হাজার, সিরাজগঞ্জে ৩ লাখ ২৯ হাজার ও বগুড়ায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত দাবি করে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এসকল পশু বিক্রি করা নিয়ে খামারিরা পড়েছেন বেকায়দায়। অথচ এই কোরবানির পশু বিক্রি না হলে দেশের চামড়া শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসকল বিষয় মাথায় রেখে তিনি ইতোমধ্যেই রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে কোরবানির পশু বিক্রির সুবিধার্থে ঈদের আগেই বিশেষ ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।

এছাড়া যে সকল কারণে গত বছর চামড়ার দাম কম হয়েছিল তা চিহ্নিত করে এবারে চামড়ার দাম বৃদ্ধির জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কোরবানির পশুর চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য নাটোরে ১৫৫ ও বগুড়ায় ১৩৮ জন কসাইকে ইতোমধ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়া ও সচেতন করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ভাবে যারা চামড়া ছাড়াবেন তাদেরও এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।

আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নাটোরে ১১ টি স্থায়ী ও ১৭ টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে দাবি করে তিনি আরও বলেন, এর বাইরেও প্রতি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাণী সম্পদ দফতর এবারে অনলাইনে পশু বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন।

যে সকল এলাকায় ট্রেন স্টেশন রয়েছে তারা ট্রেনে কোরবানির পশু বাজারজাতের সুবিধা পাবেন উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, যারা এই সুযোগের আওতাভুক্ত নয় তারা যাতে ট্রাকযোগে কোরবানির পশু হাটে নিয়ে যেতে পারেন সেজন্য পুলিশ প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করবেন। তবে করোনা সংক্রমনের বিষয়টি মাথায় রেখে হাটের পরিধি সম্প্রসারণ করা হবে জানিয়ে তিনি সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাজশাহী বিভাগীয় কৃত্রিম প্রজনন বিষয়ক সহকারী পরিচালক ডাক্তার ইসমাইল হকের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ এবং প্রাণী সম্পদ সম্প্রসারণের পরিচালক একেএম আরিফুল ইসলাম।

 

 





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: