ছাউনিতে ভারতীয় গরু, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দেশিগুলো!

ছাউনিতে রাখা ভারতীয় গরু

উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লাখো মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে রযেছে। তবে গরু চোরাকারবারিদের জন্য বর্ষায় ঢল যেন আশীর্বাদ। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উজানের ঢলে গরু ভাসিয়ে দিচ্ছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। আর হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করে সেই গরু দেশের জলসীমা থেকে তুলে নিচ্ছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। এসব গরু কোরবানির হাটেও উঠেছে। বৃষ্টি আর রোদ থেকে বাঁচতে ভারতীয় গরুর জন্য আলাদা শেড বা ছাউনি তৈরি করা হলেও দেশি গরুর জন্য তেমন কোনও ব্যবস্থা রাখেনি হাট কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টি আর কাদা-পানিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবের মধ্যে আছে দেশি গরু। কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার যাত্রাপুর হাটে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

সরজেমিনে হাটে দেখা গেছে, হাটের দক্ষিণ প্রান্তে টিন ও কংক্রিটের খুঁটি দিয়ে বিশাল আকারে শেড তৈরি করে সেখানে ভারতীয় গরু রাখা হয়েছে। গরুর বিশ্রাম ও খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই শেডের পাশেই হাটের উত্তর প্রান্তে উন্মুক্ত মাঠে দেশি গরু-মহিষ বিক্রির নির্ধারিত স্থান। সেখানে শেড তো দূরের কথা কাদা আর বৃষ্টির পানিতে দাঁড়িয়ে থাকাই দায়। তার মধ্যে পশু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন খামারি ও গৃহস্থরা। পছন্দের দেশি গরু কিনতে ক্রেতারাও বাধ্য হচ্ছেন কাদা মাড়িয়ে সেখানে যেতে।

কাদা-পানিতে রাখা হয়ে দেশি গরু
নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ থেকে আসা আব্দুর রব বলেন, ‘কাদায় গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। কিছুক্ষণ পরেই পা চুলকাতে থাকে। অনেক গরু পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকায় অনেক সময় কোনও গরু পা ঝটকালে গোবর মাখা কাদা পানি গায়ে এসে পড়ে। সঙ্গে মশা-মাছির উপদ্রব তো আছে।’

গরু কিনতে আসা নাজির হোসেন বলেন, ‘এত কাদা পানিতে গরু কিনবো কেমন করে? হাঁটাই যায় না, কর্তৃপক্ষ এসব দেখে কিনা কে জানে।’
পশুর বিক্রির স্থান নিয়ে কেন এমন বৈষম্য– জানতে চাইলে হাট ইজারাদার আনোয়ার হোসেন কোনও সদুত্তোর দিতে পারেননি। তবে জানান, পরবর্তী হাট থেকে দেশীয় গরু বিক্রির স্থানে বালু ফেলে কাদা দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাদা-পানিতে রাখা হয়ে দেশি গরু

তিনি বলেন, ‘এই হাট অনেক বড় হলেও সেখানে গরু বিক্রির পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বিষয়টি নিয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। বৃষ্টিতে কাদা পানির জমে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী হাটে কিছু বালু ফেলে তা দূর করার চেষ্টা করা হবে।’

খামারিরা কষ্ট করে কাদা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকলেও ইজারাদারের প্রতিনিধিদের উঁচু স্থানে বসে পশু বিক্রির ইজারার টাকা সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।

কাদা-পানিতে রাখা হয়ে দেশি গরু
সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘কাদা পানিতে পশু বিক্রির বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ঈদকে সামনে রেখে হাটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করতে হাট কমিটির মিটিং ডাকা হয়েছে। হাটের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ রক্ষা ও কাদা-পানি দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে করে ক্রেতা-বিক্রেতার পাশাপাশি গবাদি পশুর ভোগান্তি দূর হয়।’

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: