চাহিদার দেড়গুণ গরু-ছাগল প্রস্তুত, বিক্রি ও দাম নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

কোরবানির জন্য প্রস্তুত গরুকোরবানির ঈদকে ঘিরে দিনাজপুরের হিলিতে চাহিদার দেড়গুণের বেশি গরু ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ার আশায় শেষ মুহূর্তের গরু-ছাগল পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। তবে করোনা মহামারির কারণে গরু ছাগল বিক্রি করা এবং ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারিরা। তাছাড়া ভারত থেকে বৈধ-অবৈধ পথে গরু এলে পুঁজি হারানোর আশঙ্কা করছেন তারা। আর লোকসান হলে চাকরি হারানোর ভয়ে রয়েছেন খামারের শ্রমিকরা।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে হাকিমপুর উপজেলায় ২ হাজার ৫৪৭ জন ছোট বড় খামারি—যারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ বাড়িতে দুটি বা তিনটি; কেউ কেউ তারও বেশি গরু-ছাগল লালন পালন করছেন। উপজেলায় ৩ হাজার ৯২১টি ষাঁড়, ৫২৬টি বলদ, ৯৭৮টি গাভী, ৩ হাজার ৬৩৫টি ছাগল, ১২৮টি ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলায় এবার চাহিদা রয়েছে ৬ হাজার ৬৫০টি গরু-ছাগলের। তাতে করে চাহিদার অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩৮টি গরু-ছাগল-ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। 

কোরবানির জন্য প্রস্তুত গরুহিলির ছাতনি গ্রামের খামারি মাহফুজার রহমান ও ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন খামারি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এ বছরও কোরবানির জন্য লাভের আশায় গরু-ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুষি, খুদের ভাত খাওয়ায়ে গরু-ছাগল মোটাতাজা করা হচ্ছে। কেউবা উন্মুক্ত মাঠে চরিয়ে গরু ছাগল লালন পালন করছেন। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় শেষ সময়ে গরু ছাগলের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে; যেন বাড়তি দাম পাওয়া যায়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে আমরা গরু নিয়ে চিন্তিত। বাইরে থেকে ক্রেতা ঠিকমতো আসতে না পারায়, ঠিকমতো হাটও লাগতে পারছে না। যাও বা ব্যাপারি আসছেন, দাম কম বলছেন। এ কারণে গরু বিক্রিও করতে পারছি না।’

কোরবানির জন্য প্রস্তুত গরুতারা আরও বলেন, ‘গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের গরু ছাগল পালনে আগের চেয়ে খরচ বেশি হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে দাম কম হওয়ায় গরু বিক্রি করে কোনও পড়তা হবে না বলে মনে হচ্ছে। আমাদের খরচ উঠবে না। এরপর যদি ভারত থেকে গরু আসে, তাহলে গরুর দাম আরও কমে যাবে; তাতে করে লাভ তো দূরের কথা, আমরা পুঁজি হারিয়ে ফেলতে পারি। বাজারের চাহিদা আমাদের উৎপাদিত গরু ছাগল দিয়েই মেটানো সম্ভব। তাই আসন্ন কোরবানিকে ঘিরে ভারত থেকে যেন কোনোভাবেই বৈধ বা অবৈধপথে দেশে গরু না আসতে পারে, এ ব্যাপারে সরকারকে পদক্ষেপ দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। ভারত থেকে গরু না এলে আমরা দাম ভালো পাবো। খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণে উৎসাহী হবেন।’

মাঠে চরে বেড়াচ্ছে গরুখামারে কর্মরত শ্রমিক লিটন হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা পাঁচ জন শ্রমিক গরুর খামারে কর্মরত আছি। আমরা গরুর খাবার দিই, খড় কাটি, গোসলসহ নানারকম যত্ন ও দেখাশোনার কাজ করি। কিন্তু কোরবানির জন্য গরু লালন পালন করলেও করোনার কারণে যদি বিক্রি করতে না পেরে লোকসান হয়, তাহলে তো মহাজন আমাদের বেতন দিতেও পারবেন না। খামার বন্ধ হয়ে যাবে। এতে করে কাজও হারাতে হবে।’ 

কোরবানির জন্য প্রস্তুত গরুহাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোরবানি উপলক্ষে ভারতীয় সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলাতে খামারিরা গবাদিপশু মোটাতাজা করেছেন। নিবিড় তত্ত্বাবধানে আমরা তাদের এই কার্যক্রম তদারকি করছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু ছাগল মোটাতাজা করা হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য রাখছি, অসাধু কোনও উপায়ে অথবা ক্ষতিকারক কোনও হরমন বা স্টেরয়েড জাতীয় ট্যাবলেট খাওয়ায়ে যেন গরু মোটাতাজা করা না হয়। আমাদের খানা জরিপে এবারে কোরবানির চাহিদার তুলনায় যোগান বেশি রয়েছে। করোনাকালীন খামারিদের সবচেয়ে বেশি সমস্যা মার্কেটিং বা বিপণনে। এ জন্য আমাদের দফতর থেকে একটি গ্রুপ পেজ খুলেছি। এতে খামারিদের বিক্রয়যোগ্য পশুর ছবি, ওজন অনুযায়ী মূল্য ও খামারিদের মোবাইল নম্বর আপলোড করা হচ্ছে। ক্রেতারা সংশ্লিষ্ট খামারিদের সঙ্গে কথা বলে বাড়িতে বসেই পশু ক্রয় করতে পারবেন। এতে করে খামারি ও ক্রেতা—উভয়েই লাভবান হবেন বলে আমরা মনে করি।’

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: