শিশুদের ইন্টারনেট-মোবাইল ফোনে উৎসাহিত করা উচিৎ


ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার উপযুক্ত মানব সম্পদ তৈরিতে শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে ডিজিটাল শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৭ সালে কম্পিউটারকে শিক্ষার উপকরণ হিসেবে দেখছে। ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতি প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির চেয়ে সহজ ও আনন্দদায়ক হওয়ায় শিশুদের মনন ও মেধা বিকাশে কার্যকর ও ফলপ্রসূ একটিপদ্ধতি।

মন্ত্রী গতকাল শনিবার রাতে ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার, সারা বাংলা নামের ফেসবুক গ্রæপের সাথে আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যত শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার এবং বিজয় ডিজিটাল এর প্রধান নির্বাহী জেসমিন জুই বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রী বলেন, শিশুকাল হচ্ছে তাদের আগামী দিনের সুযোগ্য করে গড়ে তোলার উৎকৃষ্ট সময়। প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে শিশুদের ভবিষ্যত ভিত তৈরির সূতিকাগার। তারা কাঁদা মাটির মতো তাদের যে ভাবে গড়তে চান সেভাবেই তারা তৈরি হবে। শিশুদের তৈরি করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশী। শিশুরা তাদের মা বাবার চেয়ে শিক্ষকদের পরামর্শ বেশী অনুসরণ করে। শিক্ষকদের নির্দেশনাই তাদের পাথেয়। তিনি বলেন,দক্ষ জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধু দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করার জন্য যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়েও প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেছিলেন।

জনাব মোস্তাফা জব্বার শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে ১৯৯৯ সাল থেকে তার অর্জিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন. এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা একবছরের পাঠ্যক্রম দুইমাসের মধ্যে শেষ করতে সক্ষম। এই ক্ষেত্রে তিনি দুটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডিভাইস এবং ডিজিটাল কনটেন্ট শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের অন্তরায়। ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন এবং পঞ্চম শ্রেণির কনটেন্ট তৈরির কাজ চলছে বলে উল্লেখ কওে মন্ত্রী বলেন, বিজয় ডিজিটালের তৈরি এই কনটেন্ট গুলো শিক্ষার্থীরা অনল্ইান থেকে বিনা টাকায় ডাউন লোড করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে। কনটেন্টে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ইন্টারনেটেরও দরকার হয় না। তিনি বাচ্চাদেরকে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে তাদেরকে উৎসাহিত করা উচিৎ বলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন. ইন্টারনেটের ভাল দিকটাই দেখতে হবে। খারাপ দিকটা বর্জন করতে হবে । সেজন্য প্যারেন্টাইল গাইড প্রয়োগ করে শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব। ইন্টারনেট নিরপদ রাখতে সরকার ইতোমধ্যে ২৬হাজার সাইট আমরা বন্ধ করেছি। শিশুদের জন্য ইন্টারনেট নিরাপদ রাখতে সম্ভাব্য সব কিছু করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার বলেন, শিশুদের দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ডিজিটাল শিক্ষার বিকল্প নেই। আজকের শিশু আগামী দিনের দেশ গড়ার প্রকৃত কারিগর হিসেব গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর ব্যাপক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

জেসমিন জুই বলেন. ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিশুরা খেলার ছলে তার পাঠপুস্তক সহজে নিজে থেকে আয়ত্ত¡ করতে পারে। এই পদ্ধতিতে নিজেরাই খেলার ছলে পাঠ্যপুস্তকের পড়া শিখে নিতে পারে। একবার কৌশলটা দেখিয়ে দিলে তাকে ডিভাইস থেকে সরানো কঠিন। তিনি বলেন, কনটেন্ট তৈরির জন্য পাঠধারার সাথে সামঞ্জস রেখে শিশুদের চাহিদা তাদের ভাল লাগা ইত্যাদি অনেক মনস্তাত্বিক বিষয় নির্মাতাকে মাথায় রেখে কাজ করতে হয়। গত দশবছরে আমরা অত্যন্ত সফলতার সাথে তা করতে পেরেছি। করোনাকালে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমাদের প্রচেষ্টার বিরাট একটা সফলতা দেখছি।

অনুষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার সারা বাংলার সদস্যরা অংশ গ্রহণ করেন। তারা প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে ফ্রি ওয়াইফাই সংযোগ প্রদানের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর কাছে তাদের দাবি তুলে ধরেন।



আরও পড়ুন Techzoom এ

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: