ফের অধস্তন আদালতে নালিশি মামলা দায়েরের সুযোগ উন্মুক্ত

সুপ্রিম কোর্টকরোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকার পর দেশের সব অধস্তন আদালতে ফের মামলা দায়েরের (নালিশি মামালা) সুযোগ উন্মুক্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এর ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধস্তন আদালতে মামলা দায়ের ও গ্রহণে আর কোনও বাধা রইলো না। রবিবার (১২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে অনুসরণ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল/চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করা যাবে। এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক/চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট আদালত নালিশি দরখাস্ত দাখিল পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।’

‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল/চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি দরখাস্ত দাখিল এবং অভিযোগকারী পক্ষকে পরীক্ষা করে জবানবন্দি গ্রহণের পদ্ধতি ও সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ ও সমন্বয় করবেন, যেন আদালত প্রাঙ্গণে ও ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ জনসমাগম না ঘটে। আদালত প্রাঙ্গণ ও এজলাস কক্ষে প্রত্যেককে কমপক্ষে ৬ ফুট দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং সব ধরনের জনসমাগম পরিহার করতে হবে।’

‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক/চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ এবং ভবনে জনসমাগম এড়াতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক নালিশি দরখাস্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন। এ বিষয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তার অধীন ম্যাজিস্ট্রেটদের আঞ্চলিক এখতিয়ার নির্ধারণ করে নালিশি দরখাস্ত গ্রহণ ও শুনানির ব্যবস্থা করবেন।’

‘নালিশি দরখাস্ত শুনানিকালে শুধু উক্ত দরখাস্ত সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও অভিযোগকারী পক্ষ এজলাস কক্ষে উপস্থিত থাকবেন। অভিযোগকারীকে আইনানুযায়ী পরীক্ষা করে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অভিযোগকারীর স্বাক্ষর গ্রহণ ও আদেশ দেওয়া হবে। আদেশের পর উক্ত আইনজীবী ও অভিযোগকারী পক্ষ এজলাস কক্ষ ত্যাগ করলে দুই মিনিট বিরতির পর পরবর্তী দরখাস্তের অভিযোগকারী পক্ষ ও আইনজীবী এজলাস কক্ষে প্রবেশ করবেন। এজলাস কক্ষে একত্রে ৬ জনের বেশি লোকের সমাগম করা যাবে না।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এজলাস কক্ষে প্রত্যেককে অবশ্যই মুখাবরণ (মাস্ক) পরিহিত অবস্থায় থাকতে হবে। আদালতে প্রবেশের সময় প্রত্যেক ব্যক্তির শারীরিক তাপমাত্রা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ শারীরিক দূরত্ব কঠোরভাবে বজায় নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক উদ্ভূত যেকোনও পরিস্থিতি বিবেচনায় বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনে নালিশি দরখাস্ত গ্রহণ ও শুনানি করা থেকে বিরত থাকাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।’

এর আগে গত ২৫ মার্চের পর থেকে করোনা বিবেচনায় দেশের অধস্তন আদালতে মামলা দায়েরের সুযোগ বন্ধ রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

 

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: