দুর্নীতিবাজরা কেউ ছাড় পাবে না: কাদের

obaidul-kader-newদুর্নীতিবাজ ও অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যখাতের অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অপরাধীদের পাকড়াও অভিযান সরকার নিজ উদ্যোগে নিয়েছে। স্বাস্থ্যখাতসহ সব খাতের দুর্নীতিবাজ, অন্যায়কারীদের সাবধান করে দিতে চাই, প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। কেউ ছাড় পাবে না।’ রবিবার (১২ জুলাই) সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

করোনা পরীক্ষায় বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতাল এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জেকেজির প্রতারণার প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনার পরীক্ষায় সম্প্রতি দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা মানুষকে বিস্মিত করেছে। মানুষের জীবন-মরণ, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কিংবা অসুস্থতা নিয়ে এমন প্রতারণা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। দ্রুততার সঙ্গে তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার জন্য আমি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিতে চাই, শেখ হাসিনা সরকার কোনও অন্যায়কারীকে ছাড় দেয়নি, দেবেও না। অপরাধীর কোনও দল নেই। অপরাধ লুকোতে তারা দলের আলখাল্লা পরে কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেদের রক্ষা করতে পারে না। দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থান সব সময়ের জন্য। দুর্নীতি যেখানেই যাবে সেখানেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার স্বাধীনতা দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) রয়েছে। এমনকি আমার নিজের মন্ত্রণালয়ের যেকোনও দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণে দুদকের কোনও বাধা নেই।’

তিনি বলেন, ‘একদিকে করোনা সংক্রমণ অপরদিকে বন্যা, তার পাশাপাশি কোরবানির পশুর হাট– ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে শেখ হাসিনার সরকার জনমানুষের জন্য কাজ করছে। জীবন-জীবিকার পাশাপাশি মানুষের সুরক্ষায় গ্রহণ করছে নানামুখী পদক্ষেপ। প্রতিদিন অসহায় কর্মহীন মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামে ফেরার ছবি আসছে পত্রিকার পাতায়। জাতীয় জীবনে এমন চ্যালেঞ্জিং সময়ে আমাদের প্রয়োজন পারস্পরিক শেয়ারিং এবং কেয়ারিং। জাতি হিসেবে আরও কঠিন সময় আমরা পার করেছি পারস্পরিক মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে। আমাদের মনবল রাখতে হবে দৃঢ়। আমাদের নেতৃত্বে আছেন মানবিক নেত্রী শেখ হাসিনা। তার প্রতি আস্থা রাখুন। অমানিশার এ সময় কেটে যাবে। সবকিছু অচিরেই স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব বরাবরের মতো অভিযোগ করেছেন, জনগণের জীবন-জীবিকার ওপর সরকারের নাকি কোনও দায়দায়িত্ব নেই। আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, জীবন ও জীবিকার চাকা সচল রাখতে শেখ হাসিনা সরকার যখন নানামুখী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন আপনারা সমালোচনা করেছিলেন কেন? লকডাউনের জন্য চাপ তৈরি করে এখন তিনি জনগণের জীবিকার কথা বলছেন। বিএনপির সুবিধাবাদী রাজনৈতিক চরিত্র এবং ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ইতোমধ্যে জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের অবহেলা আর অজ্ঞতার জন্য নাকি পরিস্থিতি এমন হয়েছে। আমি জানতে চাই, করোনা মহামারিতে বিশ্বের কোন দেশ বিদ্যমান সুবিধা দিয়ে সফলতা পেয়েছে? কোন দেশ হিমশিম খাইনি? সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংকট মোকাবিলার। আপনারা তো বলেছিলেন, রাস্তায় রাস্তায় মানুষ মরে পড়ে থাকবে। সেটি এখনও হয়নি বলে কি আপনাদের গাত্রদাহ? সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সরকার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ভিত্তিতে কাজ করছে। আপনারা বিষোদগার ছাড়া এ সংকটে কী করেছেন? সরকারকে সহযোগিতা দিয়েছেন জনকল্যাণে? যাদের সময় দেশ দুর্নীতিতে অতলে ছিল, দুর্নীতিবাজদের ছিল অভয়ারণ্য, যারা নিজেদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭-ধারা বিভক্ত করে দুর্নীতিবাজদের নেতৃত্বে এনেছেন। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন। ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতির বিচার করেননি, তাদের মুখে দুর্নীতির কথা বলা ভূতের মুখে রাম নাম। শেখ হাসিনার সততা সর্বজনবিদিত। তিনি পেয়েছেন নিজ উদ্যোগে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালাতে। শুদ্ধি অভিযান এগিয়ে নিতে। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। বিএনপি দুর্নীতি লালন, সৃজন, সংক্রমণ ও বিকাশ ছাড়া আর কী করেছে? জনগণের কাছে আজ সবই দিবালোকের মতো পরিষ্কার।’

 





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: