থানা হেফাজতে আসামির মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট

হাইকোর্টচাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় পুলিশ হেফাজতে আফসার আলীর (৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ে করা হয়েছে। রিট আবেদনে আফসার আলীর মৃত্যর ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই) মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান ও শাহীনুজ্জামান শাহীন এ রিট দায়ের করেন। তারা জানান, রিট আবেদনটির ওপর বিচারপতি জেবিএম হাসানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে চলতি সপ্তাহে শুনানি হতে পারে।

এর আগে আফসার আলীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বেশ কিছু সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় রিমান্ডে আসামির মৃত্যু নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারাই ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। থানা হেফাজতে পৌর এলাকার টিকরামপুর মধ্যপাড়ার মহসীন আলীর ছেলে আফসার আলীর (৩৫) মৃত্যুর পর ওসি এটাকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে দাবি করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বাথরুমে ঢুকে সে গলার তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ডাক্তার বলেন, হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ পর বুকের ব্যথায় মারা গেছেন আফসার।’

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নিহতের স্ত্রী জুলেখা বেগম বলছেন, আফসারকে খুন করা হয়েছে। তবে রাতে হাসপাতাল মর্গে গিয়ে তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যার কোনও চিহ্ন লাশের গলায় দেখা যায়নি। যার ভিডিও ফুটেজ হাতে রয়েছে (একটি দৈনিক পত্রিকার)। আফসারের মৃত্যু নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেওয়ায় এ নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয় ‘গত ৫ জুলাই সদর উপজেলার সুন্দরপুর বাগডাঙ্গা শুকনাপাড়া এলাকা থেকে এক কেজি ১৯৫ গ্রাম হেরোইনসহ আফসার আলীকে আটক করে র‌্যাব। সদর থানায় মামলার পর গত ৬ জুলাই একদিনের রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ওই দিন রাত ১২টার দিকে আফসারের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। রাত ১টায় রাজারামপুরে আফসার আলীর ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকের মাতম।’

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘আফসারের স্ত্রীর অভিযোগ, অভাব-অনটনের সুযোগে সোর্স ওয়াসিম আর মোহন তার স্বামীকে কৌশলে মাদক দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে। পরে সে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ে। গত ৬ জুলাই থানায় দেখা করতে গেলে সন্তানদের সামনেই হাতকড়া পরা অবস্থায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে মারধর করছিলেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশই আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঈদুল ইসলাম জানান, আফসার আলী কর্মঠ আর নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। রিকশা-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন। ’

প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

 

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: