ফের তিস্তা বিপৎসীমার ওপরে

তিস্তা ব্যারাজ

নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তায় পানি প্রবাহ বাড়ছেই। রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা থেকে তিস্তা বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইদিন দুপুর ১২টায় এর উচ্চতা ছিল বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপরে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গেজ পাঠক (পানি পরিমাপক) নুরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত শুক্র ও শনিবারের চেয়েও আজ রাতে পানির প্রবাহ অনেক বেশি। শ্রকবার ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার সর্বোচ্চ ২৮ সে.মি. ও শনিবার সর্বোচ্চ ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। ফলে এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (পানি শাখা) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশিদ বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে রাখা হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইসগেট।

এদিকে, ডিমলার প্রায় ১৫টি চর ও চরগ্রাম হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়েছে।

তিস্তার পানি এখন বিপৎসীমার ৩০ সে.মি. ওপরে

আজ রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে ডিমলা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বন্যার প্রথম দফায় ৩ হাজার ২৪৫ পরিবার পানি বন্দি ও ৭৯ পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়। দ্বিতীয় দফায় এই পরিসংখ্যান বেড়ে ৪ হাজার ৮০০ পরিবার পানি বন্দি ও ৮৬ পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। এর বিপরীতে প্রথম দফায় ১ দশমিক ৭৭০ মেট্রিক টন চাল, নগদ এক লাখ ৫৮ হাজার টাকা ও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ৬০ মেট্রিক টন চাল, ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও এক লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিমলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ১৫টি চর ও গ্রামের পরিবারগুলো বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, শুক্রবার (১০ জুলাই) উজানের ঢলে পানির গতিবেগ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এলাকার উঁচু, নিচু স্থানে নদীর পানি প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে এলাকার ১ হাজার ৪০ পরিবারের বসত বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এলাকার ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর মৌজাটি তলিয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে সেখানকার মাটির রাস্তাগুলো। রাস্তার ওপর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হওয়ায় এলাকাবাসী বালির বস্তা দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিংশ্বর চরের বাসিন্দা বানভাসী জাকির হোসেন বলেন, গত তিনদিন ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে পানিবন্দি হয়ে আছি। তবে আজ সকাল থেকে বন্যার পানি নিচে নামতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, বানভাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ পাওয়া না যাওয়ায় কষ্টে দিন পার করছি।

তিস্তায় পানি বিপৎসীমার ওপরে ওঠায় ঘরের ভেতরে ঢুকে গেছে পানি

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামার চর, ফরেস্টের চর, সোনাখুলীর চর ও ভেন্ডাবাড়ি চরে দেড় হাজার পরিবারের বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বাঁধের ওপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় দক্ষিণ সোনাখুলী কুঠিপাড়া গ্রামের বসত ঘর ও আবাদি জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এই বাঁধটি বিধ্বস্ত হলে এলাকাটি বিলীন হতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু জায়গায় আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার ফসলি জমি ও বাদামের ক্ষেত বানের পানিতে তলিয়ে গেছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, তার এলাকার দক্ষিণ খড়িবাড়ি ও পূর্ব খড়িবাড়ি, একতার চর, টাবুর চর মৌজায় তিস্তার বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ইতোমধ্যে দুই হাজার পরিবারে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব পরিবারে দ্রুত ত্রাণ বিতরণের দাবি জানান তিনি।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে শনিবার তিস্তা নদীর পানি সকাল ৬টায় বিপদসীমা অতিক্রম করে ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে আজ রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় ২০ ও বিকাল ৩টায় ফের ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি মোকাববিলায় ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় বলেন, কিছু মানুষজন নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে আর কিছু পানিবন্দি অবস্থায় বাড়িতে রয়েছে। বন্যার প্রথম দফায় ৩ হাজার ২৪৫ পরিবার পানি বন্দি ও ৭৯ পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়।

তিনি জানান, দ্বিতীয় দফায় ওই পরিসংখ্যান বেড়ে ৪ হাজার ৮০০ পরিবার পানি বন্দি ও ৮৬ পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। এর বিপরীতে প্রথম দফায় ১ দশমিক ৭৭০ মেট্রিক টন চাল, নগদ এক লাখ ৫৮ হাজার টাকা ও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ৬০ মেট্রিক টন চাল, ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও এক লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। আগামীকাল থেকে দ্রুত বিতরণের কাজ শুরু হবে।

তিনি জানান, বানভাসীদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রয়েছে।

 

 





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: