পাহাড়ি ঢলে ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙেছে, ডুবে গেছে নিম্নাঞ্চল

নালিতাবাড়িতে পাহাড়ি ঢলে ভোগাই নদীর বাঁধ বিলীন হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত।

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম। এছাড়াও ভোগাই ও চেল্লাখালী নদী দুটির পানি প্রবেশ করে তলিয়ে গেছে আমন ফসলের বীজতলা। এতে ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক হাজার মানুষের।

রবিবার (১২ জুলাই) উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের ভোগাই নদীর বাঁধ প্রায় ১শ মিটার এলাকাজুড়ে ভেঙে প্রবল বেগে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করছে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে। এতে ওইসব গ্রামের বেশকিছু ঘরবাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই মরিচ পুরান, খলাভাঙ্গা, কোন্নগর, ফকিরপাড়া এলাকার বেশ কিছু পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ওই এলাকার আমন বীজতলাসহ ফসলি জমি। ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুরের মাছ। এমনকি ঢলের পানির সঙ্গে বালি পড়ে বিনষ্ট হতে চলেছে ভাঙন তীরবর্তী বেশকিছু আবাদি জমি।

এদিকে, স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, সামান্য মাটির বাঁধের ফলে পাহাড়ি ঢল নামলেই প্রতিবছর ভোগাই নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। ফলে তারা স্থায়িত্বশীল বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় পোড়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আজাদ মিয়া জানান, উপজেলার অপর খরস্রোতা নদী চেল্লাখালীতে নেমেছে পাহাড়ি ঢল। টানা কয়েক দিনের বর্ষণ ও দুটি নদীর পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

ফলে ওইসব এলাকার মানুষও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ওইসব এলাকার মাছের খামার ও ফসলি জমি। দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ত্রাণ সহায়তার দাবি জানান।

রবিবার দুপুরে ভোগাই নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে করেছেন নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান। এসময় তারা দ্রুত ভোগাই নদীর বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থার কথাও জানান তারা।

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: