ব্ল্যাকউডের ব্যাটে জিতে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

 ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার পথে ব্ল্যাকউড। ছবি:আইসিসিবোলার বেন স্টোকস। তার করা ৬৫তম ওভারের প্রথম বলটিকে স্ল্যাশ করে গালি অঞ্চল দিয়ে পাঠিয়ে চার মারলেন জন ক্যাম্পবেল। স্কোর সমান ১৯৯। পরের বলটি ভেতরে ঢুকে আসা লেংথ বল, সেটিকেই মিডউইকেটে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল। জন ক্যাম্পবেলের সঙ্গে জেসন হোল্ডারের মুষ্টিবদ্ধ হাত মেলানো দেখলো-সাউদাম্পটনের এজিয়্যাস বোল নীরব। করোনা-নিষেধাজ্ঞায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার উইকেটের এই ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী হতে পারলো না দর্শক। তবে টিভি পর্দার মাধ্যমে গোটা ক্রিকেট বিশ্বই হলো সাক্ষী। গোটা ক্রিকেট বিশ্বেরই অভিবাদন পেলো জেসন হোল্ডারের দল।

রবিবারের সকালে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস ৩১৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে জয়ের জন্য ঠিক ২০০ রানের লক্ষ্য পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পঞ্চম দিনের পিচ, ম্যাচের চতুর্থ ইনিংস। মোটেই সহজ ছিল না লক্ষ্যটা। তারওপর জফরা আর্চার ও মার্ক উডের পেসে ২৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। আর্চারের বলে পায়ের আঙুলে চোট পেয়ে মাত্র এক রান করেই মাঠ ছেড়ে যেতে হয় ওপেনার ক্যাম্পবেলকে। খুব, খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল লড়াই। এই জায়গা থেকেই লড়াই চালিয়ে গেছেন জার্মেইন ব্ল্যাকউড। প্রথমে সঙ্গী পেয়েছিলেন রস্টন চেজকে (৩৭ রান), তার সঙ্গে গড়েন ৬৩ রানের জুটি।  পরে শেন ডাওরিচকে (২০ রান), যার সঙ্গে  গড়েন ৬৮ রানের জুটি। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে মাত্র পাঁচ রান দূরে থাকতে যখন স্টোকসের বলে অ্যান্ডারসনের হাতে ক্যাচ হয়ে ফিরলেন, জয়টা মাত্র ১১ রান দূরে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে। অবশ্য ৫, ২০ ও ২৯ রানের মাথায় ক্যাচের সুযোগ দিয়েছিলেন ব্ল্যাকউড, কিন্তু ইংলিশ ফিল্ডাররা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

আবার মাঠে ফিরে এসে ক্যাম্পবেল অধিনায়ককে সঙ্গী করে তুলে ফেলেন কাঙ্ক্ষিত ওই ১১ রান। তিন টেস্টের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে। আর্চার ৪৫ রানে নিয়েছেন তিন উইকেট, ৩৯ রানে দুই উইকেট স্টোকসের, উডের ৩৬ রানে একটি। কিন্তু যার ওপর সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল ইংল্যান্ডের, সেই জেমস অ্যান্ডারসন উইকেটশূন্য।

গত বছর দেশের মাটিতে প্রবল প্রতাপান্বিত ইংল্যান্ডকে তিন টেস্টের সিরিজে ২-১-এ হারিয়ে চমকে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এক বছর পর আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের চার নম্বর দলকে তাদের ঘরের মাঠেই প্রথম টেস্টে হারিয়ে দিয়ে আট নম্বর দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ কী বার্তা দিলো? বার্তা এটাই যে, ঐতিহ্যের প্রতি অঙ্গীকারটা তারা ভোলেনি। ভোলেনি পূর্বসূরিদের কীর্তি। আবার ঘুরে দাঁড়ানোর একটা তাগিদ ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা অনুভব করছে হৃদয়ের গভীর থেকেই।

ইংল্যান্ড আরেকটা সিরিজ শুরু করলো হার দিয়ে। এই নিয়ে পঞ্চম সিরিজ। ম্যাচ টিকে থাকার জন্য কঠিন লড়াই করেছে ইংল্যান্ড। অনেকগুলো মুহূর্তে মনে হয়েছে ম্যাচ ইংল্যান্ডের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্নায়ু ধরে রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ ম্যাচের ব্যক্তিগত কীর্তি অনেকগুলো। প্রথমেই হোল্ডারের ৬ উইকেট। তারপর ইংল্যান্ডের হয়ে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্টোকসের ব্যাটে-বলে অবদান। ক্রেইগ ব্রাথওয়েটের দুইবছর পর টেস্ট ফিফটি পাওয়া, শেষদিনে আর্চারের আগুন ঝরানো বোলিং। কিন্তু প্রথম ইনিংসের চার উইকেটের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট- মোট ৯ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ শেষ পর্যন্ত শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। যে গ্যাব্রিয়েল গত হোম সিরিজের তৃতীয় টেস্টে জো রুটের সঙ্গে সমকামিতা নিয়ে বিতর্কিত বচসায় জড়িয়ে চারটি ওয়ানডে ম্যাচে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:-

ইংল্যান্ড: ২০৪ ও ৩১৩, ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩১৮ ও ২০০/৬ (ব্ল্যাকউড ৯৫, চেজ ৩৭, ডাওরিচ ২০, হোল্ডার অপ.১৪, ক্যাম্পবেল অপ.৮, আর্চার ৩/৪৫, স্টোকস ২/৩৯)

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে জিতে সিরিজে ১-০ এগিয়ে।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শ্যানন গ্যাব্রিয়েল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

 

 

 





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: