তাঁরাই এখন পজিটিভ

এস কে রাশেদ বিল্লাহ ও ফারুক হাসানতিন মাসে ২৮৩ জনের নমুনা সংগ্রহকারী এস কে রাশেদ বিল্লাহ নিজেই কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল রোববার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব থেকে আসা প্রতিবেদনে তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে।

একইভাবে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নমুনা সংগ্রহকারী স্বাস্থ্য সহকারী ফারুক হাসানেরও নমুনা পরীক্ষার ফলাফল (৪০) পজিটিভ এসেছে। তিনিও তিন মাস ধরে নমুনা সংগ্রহ করে আসছিলেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা জয়ন্ত সরকার রাশেদ বিল্লাহ ও ফারুক হাসানের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুজনেই বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। দুজনই ভালো আছেন।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এস কে রাশেদ বিল্লাহর (৩৯) বাড়ি সুন্দরবন ঘেঁষা উপজেলা শ্যামনগরের কাশিমাড়ি গ্রামে। দুই ছেলেমেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। পশ্চাৎপদ এ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের যেখানেই ডাক পড়ত সেখানেই ছুটে গেছেন তিনি। সংগ্রহ করেছেন উপসর্গ থাকা রোগীর নমুনা।

রাশেদ বলেন, তিনি গত ৬ এপ্রিল থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ২৮৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ৩৫ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন করোনা সংক্রমিত হওয়ায় ৯ জুলাই তৃতীয়বার তিনি নমুনা দিয়ে বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।

রাশেদ জানান, ৬ এপ্রিল প্রথম নমুনা নিতে গিয়ে প্রচণ্ড ভয়ের মধ্যে ছিলেন। নমুনা নেওয়ার পর সারা রাত ঘুম হয়নি। স্ত্রীসহ ছেলেমেয়েরা কোনো সমস্যা নেই বললেও তিনি এক অজানা শঙ্কার মধ্যে ছিলেন। তবে স্কুলশিক্ষক স্ত্রী রোকেয়া পারভিন সব সময় সাহস জুগিয়েছেন। বলেছেন কাউকে না কাউকে তো দায়িত্ব নিতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা নিতে হবে। তার উৎসাহ ও সাহসে কয়েক দিনের মধ্যে ভয় দুর হয়ে যায়। তারপর থেকে টানা তিন মাস সহকর্মী সফিকুল ইসলামসহ আরও দুজন মিলে তারা উপজেলার বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছেন।

রাশেদ বলেন, তাদের দলের সবাই মাঝেমধ্যে নমুনা পরীক্ষা করান। এর আগে তিনি দুবার নমুনা দেন। কিন্তু ফলাফল নেগেটিভ আসে। বৃহস্পতিবার তৃতীয়বার নমুনা দিয়ে গতকাল রোববার ফলাফল হাতে পান। বৃহস্পতিবার থেকে তিনি বাড়িতে আছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য সহকারী ফারুক হাসানের বাড়ি জেলা শহরে। গত এপ্রিল থেকে তিনিও নমুনা নেওয়া শুরু করেন। ফারুক জানান, সদর উপজেলায় কারওর করোনা উপসর্গ দেখা দিলে কিংবা মারা গেরে তাদের পাঁচ সদস্য দলের ডাক পড়ে। তাঁরা তিন মাসে ২০৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ৮৬ জনের ফল পজিটিভ এসেছে।

ফারুক হাসান বলেন, নমুনা সংগ্রহের প্রথম দিকে তার ভয় করত। স্ত্রী ও সন্তানেরা আপত্তি করতেন। তার ওপর ছিল না প্রশিক্ষণ ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী। একপর্যায়ে ভয়কে জয় করে কাজ চালিয়ে যান। স্ত্রী ও সন্তানদের বোঝান যে কাউকে না কাউকে এ কাজ করতে হবে। তাঁরাও আর বাধা দিলেন না।





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: