কঠোর বার্তার পরেও ওয়ারীতে ঢিলেঢালা লকডাউন

ওয়ারী থেকে বের হওয়ার চেষ্টা

কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়নের কথা বলার পরও ওয়ারীতে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এখনও আগের মতোই ঢিলেঢালে ভাবে চলছে লকডাউন। অযথা কারণ দেখিয়ে স্থানীয়রা এলাকা থেকে বের হচ্ছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওয়ারী থেকে প্রবেশ ও বের হওয়ার দু’টি গেটে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকরা বলছেন,  মানুষকে বোঝানো কঠিন হয়ে উঠছে। তারা লকডাউন মানতে চাইছেন না।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ওয়ারীর সুমি’স হট কেক বেকারির সামনের গেটে দেখা গেছে, বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে স্থানীয়রা এলাকা থেকে বের হচ্ছেন। এসময় তাদেরকে লকডাউনের গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও কেউ তা বুঝতে চান না। এলাকার ভেতরের অলিগলিতেও মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। সেখানে দায়িত্বশীল কাউকে তদরকি করতে দেখা যায়নি।

৭ জুলাই নগরভবনে অনুষ্ঠিত লকডাউন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ডিএসসিসির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন,  ‘আমরা আরও একটু কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি। আমরা বুঝি, এলাকাবাসীর অনেক সমস্যা হচ্ছে। তাদের জীবিকা নির্বাহসহ ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাফেরার অনেক অসুবিধা হচ্ছে। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা ধৈর্য্য ও সহনশীলতার সঙ্গে সেটা পালন করবেন।’

এদিকে, ওয়ারী এলাকায় লকডাউন পালিত হলেও এলাকায় সংক্রমণের হারও বাড়তে দেখা দেখা গেছে। প্রথম সাত দিনে ৫১ জন আক্রান্ত হতে দেখা গেছে।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ এমদাদুল হক বলেন,  ‘আমরা কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে স্থানীয় কমিটিকে নির্দেশ দিয়েদিয়েছি। কারণ সেখানে সংক্রমণের হার নমুনা পরীক্ষার প্রায় অর্ধেক। এটা আমাদেরক ভাবিয়ে তুলছে। এরপরেও মানুষকে বোঝানো কষ্ট কর হয়ে যাচ্ছে। তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এলাকা থেকে বের হতে চেষ্টা করেন। কিন্তু কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।’

হট কেক গলির সামনে র‍্যাংকিং স্ট্রিটের বাসিন্দা সামলা ইসলাম বলেন,  ‘বনানীতে বোনের বাসায় যাবো। অনেক দিন বাসা থেকে বের হতে পারি না, তাই এসেছি।’ লকডাউন এলাকা থেকে তো বের হওয়া আইনগত অপরাধ– বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  ‘সারাদেশ উন্মুক্ত করে শুধু একটি এলাকাকে লকডাউন করে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এগুলো সরকারের লোক দেখানো পদক্ষেপ।’

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক মামুন বলেন,  ‘আমরা লোকজনকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। মাইকিং করছি। এরপরেও মানুষ এসে ভিড় করে। তবে ডাক্তার, নার্স, রোগী ও ফার্মাসিস্ট ছাড়া কাউকে এলাকা থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।’

 

 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: