খামারটি যেন আমের রাজ্য

ফেনীর সোনাগাজীতে নিজের বাগানের আমের পরিচর্যা করছেন মো. সোলায়মান।  ছবি: প্রথম আলোশুরু করেছিলেন ছয় একর দিয়ে। এখন সেটি ৭০ একরের সমন্বিত খামার। খামারে বড় বড় পুকুরে মাছ চাষ হয়। পুকুরের চারপাশে দেশি-বিদেশি জাতের আমগাছ। আছে কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, নারকেল, ড্রাগন, জামরুলসহ নানা ফলের গাছ। এক পাশে গবাদিপশুর খামার, আরেক পাশে নার্সারি।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মুহুরী প্রকল্পের কাছে অবস্থিত এই খামারের নাম সোনাগাজী অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স। খামারটির উদ্যোক্তা সোনাগাজীর সাহাপুর এলাকার বাসিন্দা মেজর (অব.) মো. সোলায়মান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার বলেন, তিনি একাধিকবার বাগানটি পরিদর্শন করেছেন। এ বাগানে উৎপাদিত আমের গুণগত মান ভালো। বাগানটিও পরিচ্ছন্ন।

সম্প্রতি খামারে সরেজমিনে দেখা যায়, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাতি, রুপালি, তোলাপুলি, আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, লুবনা—এসব গাছে আম ঝুলছে। পুরো খামার যেন আমের রাজ্য। আমের ঘ্রাণে মাতোয়ারা নানা ধরনের কীটপতঙ্গ। এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী থেকে গাড়ি নিয়ে অনেকে এসেছেন বাগানটি দেখার জন্য, ধারণা নেওয়ার জন্য। কেউ এসেছেন চারা কিনতে। কেউ নিতে চান মধু ও শর্ষের তেল।

এখানকার কর্মীদের ভাষ্য, বাগানে দেশি-বিদেশি মিলে ৭৯ জাতের আম রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, ভুটান, চীনসহ কিছু বিদেশি জাতও আছে।

মো. সোলায়মান জানালেন, তাঁর বাগানে আমগাছের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। এ বছর আরও পাঁচ শতাধিক চারা গাছ লাগাবেন। এ বছর আম ধরেছে সাড়ে চার হাজার গাছে। জুন মাসে প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে ২০ হাজার কেজি আম বিক্রি করেছেন। বাগানে এখন দেশি জাতের আম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। তবে থাই জাতের আম পাকতে শুরু করেছে। প্রতি কেজি ১০০ টাকা করে বিক্রি করছেন। এ ছাড়া আফানসো, রুবি, দোসারি, রাঙগুয়াইসহ আরও কয়েকটি বিদেশি জাতের আম ধরেছে বাগানে।

এই কৃষি উদ্যোক্তার কথা, তিনি বাগানে কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। কেবল আমের মুকুল আসার দুই মাস আগে একবার কীটনাশক ছিটানো হয়। আর সারা বছর ব্যবহার করেন জৈব সার।

বাগানে স্থায়ী কর্মচারীর সংখ্যা ২৫। আর দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে আছেন আরও ১০ জন। খামারে কর্মরত শ্রমিক মাহীব গাজী বলেন, তাঁর বাড়ি বরিশাল। তিনি দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে মেজর সোলায়মানের সঙ্গে আছেন। বাগান ও খামার দেখাশোনা করেন। শ্রমিকদের কাজ বুঝিয়ে দেন।

মো. সোলায়মান ১৯৮৬ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসরে যান। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আম, মৎস্য চাষ, গবাদিপশু পালন, মধু, শর্ষে উৎপাদন ও নার্সারি তৈরি বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে ১৯৯২ সালে ৩ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে পারিবারিক জমিতে খামার প্রতিষ্ঠা করেন।

মেজর (অব.) সোলায়মান প্রথম আলোকে বলেন, সেনাবাহিনী থেকে অবসরে এসেও তিনি সার্থক হয়েছেন। নিজে শ্রমিকদের সঙ্গে বাগান ও খামার পরিচর্যার কাজ করেন বলে বৃদ্ধ বয়সেও সুস্থ, সবল আছেন।





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: