গ্রেফতারের পর বুক ধরফর করলে কী করবেন? জানাচ্ছেন ড. সাবরিনা আরিফ চৌধুরি

কথায় আছে বাঘে ছুঁলে ১৮ ঘা আর পুলিশে ছুঁলে ৩৬ ঘা। অন্যান্য দেশে পুলিশ জনগণের বন্ধু হলেও আমাদের দেশের জনগণ সম্ভবত পুলিশকে শত্রু ভাবে। কে জানে! সেজন্যই এমন প্রবাদের জন্ম কি না! আমাদের পুলিশকে তাই বুক ধরফর ক্রিয়েটরও বলা যায়। আমাদের পুলিশ ধরলে বুক ধরফর করে, ছেড়ে দিলে আরো বেশি ধরফর করে। যদি সামনের কোন চেকপোস্টে আমার ব্যাগ থেকে গায়েবী মাদক বের হয়!

সে যাই হোক। জীবন ও জীবিকা নির্বাহের জন্য কিংবা স্রেফ লোভ বা শখের বসে বড় অপরাধ করে ফেলার পর যদি গ্রেফতার হয়ে যান, আর শুরু হয় বুক ধরফর! কী করবেন? আমাদের আজকের বিশেষ পরামর্শ বিভাগে ড. সাবরিনা আরিফ জানাচ্ছেন সেসব।

বুক ধরফরের কারণ আসলে ভাবনা। গ্রেফতার হওয়ার পর জেলে কীভাবে থাকবেন? রিমান্ডে কী হবে? রিমান্ড কোথায় হবে? কয়জন থাকবে? তাদের ড্রেস কেমন হবে? খাবার দাবার কী দিবে না দিবে? রিমান্ড সহ্য করে কতক্ষণ পর্যন্ত গোপন থাকা অপরাধ গোপন রাখতে পারবেন? আরো কত রকম টেনশন, কত চিন্তা ভাবনা। তো, এমন ভাবনা থেকেই হতে পারে বুক ধরফর। গ্রেফতারের পর এমন বুক ধরফর থেকে সুস্থ্য থাকা অনেক জরুরি। অথচ এটা নিয়ে কেউ কি কখনো ভাবে বা এটা নিয়ে কি কেউ কখনো প্রিপারেশন নেয়? না, নেয় না।

থ্রি ইডিয়িটস মুভি তো দেখেছেন? সেখানে আতঙ্ক, ভয় কাটানোর জন্য রেঞ্চোর ‘আল ইজ ওয়েল’ থেরাপির কথাতো জানেন! আপনি যদি আসলেই অপরাধ করে থাকেন তবে এই থেরাপি খুব একটা কাজে দিবে না। সো এই থেরাপি প্রয়োগের কথা ভুলে যান।

গ্রেফতার হওয়ার সাথে সাথে যে সমস্যায় আপনি ভুগবেন তা হলো, কৃতকর্মের বিচ্ছুরণ। আপনার চোখের সামনে কোন ধরণের মনিটর ছাড়াই, জীবদ্দশায় করা সকল কৃতকর্মের হাইলাইট চলতে থাকবে। নিজের পছন্দে অপরাধ করুন কিংবা বাবা-মার পছন্দে, এক বছর অপরাধ করুন কিংবা ১০ বছর ধরে। কৃতকর্ম নিয়ে একটা টেনশন থেকেই যায়, সেই টেনশন থেকেই হতে পারে বুক ধরফর। সো, প্রথমে এই হাইলাইট ও টেনশন বন্ধ করতে হবে। কীভাবে করবেন তা আমরা জানিনা। আপনার মনের উপর নিশ্চই আমরা জোর করতে পারবো না!

ক্রায়িং এন্ড লাই থেরাপি প্রয়োগ করে দেখা যেতে পারে। কাঁদতে হবে। তবে যেখানে সেখানে না। কাঁদতে হবে একদম ক্যামেরার সামনে। টিভি ক্যামেরা। যেখানে সেখানে কেঁদে চোখের পানি অপচয় করার কোন মানে নাই। জানেনইতো, অপচয়কারী শয়তানের ভাই। শয়তানের বাপ থেকে শয়তানের ভাই হতে নিশ্চই আপনার ভালো লাগবে না। কেঁদে কেটে বলতে পারেন, আপনি জীবনেও কোন অনৈতিক কাজ করেননি। তবে এই ক্রায়িং এন্ড লাই থেরাপির একটা বড় পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে। আপনি যদি আসলেই বড় অপরাধী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার এই কান্না সোশ্যাল মিডিয়ায় কুমিরের কান্নার সমার্থক হয়ে যেতে পারে।

যেকোন ধরণের সমস্যা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করা বেশি শ্রেয়। না, ভয় পাবেন না। অপরাধ ছেড়ে দেয়ার কথা আপনাকে আমি বলবো না। আমি বলবো গ্রেফতারের প্রস্তুতির কথা। বাংলাদেশের মতো নিরাপদ একটা দেশে অপরাদ করে ধরা পড়ে যাওয়া দুর্ভাগা যদি আপনি হয়ে থাকেন, তাহলে প্রস্তুতি নিন। ধরা পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে, দিনে দুইবেলা ডেমো গ্রেফতার হন, ডেমো জেলে যান, ডেমো রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর শুনে নিন, দরকার হলে ডেমো রিমান্ডও নিন। এতে গ্রেফতারের আগেই গ্রেফতারের সাথে আপনি পরিচিত হতে পারবেন। ফলে সত্যিকার অর্থে গ্রেফতার হলে বুক ধরফর কিছুটা কমবে। তবে এক্ষেত্রেও ছোট একটা সমস্যা আছে। কী সমস্যা তা অবশ্য জানি না। অপরাদ করে ধরা পড়ার দুর্ভাগ্য নিয়া জন্মালে সমস্যার কী আর শেষ আছে!





আরও পড়ুন eআরকিতে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: