মানসিকতা পরিবর্তন করুন, চিকিৎসকদের প্রতি বঙ্গবন্ধু

ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি পরিহার করে মানবতার দুঃখমোচনে আত্মনিয়োগ এবং মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য চিকিৎসক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালের ৯ অক্টোবর পিজি হাসপাতালের (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারের উদ্বোধনকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
বঙ্গবন্ধু বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে যারা নিয়োজিত রয়েছেন তারা ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড-বয় অথবা ঝাড়ুদার যেই হোন না কেন—তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো রুগ্ন ব্যক্তির চিকিৎসা ও তার কষ্ট মোচন করা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আব্দুল মালেক উকিলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, কূটনীতিবিদ, রাজনৈতিক নেতা ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর চিকিৎসকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে জাতীয় চরিত্র গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় চরিত্র গঠন ব্যতীত সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব না।

শুধরে নিতে নির্দেশ

বঙ্গবন্ধু বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা, হাজারো মায়ের বুকফাটা ক্রন্দন, অসংখ্য ভাইবোনের আর্তনাদ, অগণন শিশুর ক্রন্দন ও রাস্তায় রাস্তায় রক্তের দাগ, দেওয়ালে দেওয়ালে এখনো রক্ত—এ সবই যেন আমরা ভুলতে বসেছি। অনেকেই অপরাধ ও দুর্নীতিতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে।  জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আমার অপরিমিত ভালোবাসায় অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে নিজেদের শুধরে ফেলেন। তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, যদি তারা অনতিবিলম্বে নিজেদের না শোধরায় তাহলে দেশের বৃহত্তম স্বার্থে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

গ্রামে যেতে হবে

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু বলেন, চিকিৎসকরা সমাজে বিশেষভাবে সম্মানিত। কিন্তু এই সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা চিকিৎসকদের কর্তব্য। এই প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেন, কোনও কোনও চিকিৎসক ব্যক্তিগত ক্লিনিকে যান। রোগীরা ফি প্রদান না করলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় না বলে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর মানবতার কল্যাণে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার জন্য চিকিৎসক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান। যেসকল চিকিৎসক গ্রামে যেতে অনীহা প্রদর্শন করছেন তাদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ ও সম্মানের জন্য লালায়িত। যে কোটি মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি তাদের কষ্টমোচনে আমরা যদি এগিয়ে না যাই তাহলে তারা আমাদের অভিশাপ দেবে। বঙ্গবন্ধু বলেন, বহু রোগীকে সঠিক চিকিৎসা বা তাদের প্রতি দৃষ্টি প্রদান করা হয়নি বলে তিনি জেনেছেন। ভবিষ্যতে প্রত্যেক থানায় একটি করে হাসপাতাল স্থাপন করা হবে বলেও জানান বঙ্গবন্ধু।

নার্সদের ভূমিকার প্রশংসা

এদিকে নার্সদের ভূমিকার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বঙ্গবন্ধু  শিক্ষিত তরুণীদের এই মহান পেশায় নিয়োজিত হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানবতার দুঃখ মোচনের চেয়ে মহান কাজ নারী সমাজের জন্য আর কিছুই নেই। যাতে গ্রাজুয়েট নারী এই পেশায় যোগদান করার জন্য এগিয়ে আসে সেজন্য নার্সিং সার্ভিস-এর পদমর্যাদা বৃদ্ধি করে একটি ব্যাপক পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও বঙ্গবন্ধু জানান।

শাসনতন্ত্র তৈরি শেষ

লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের জনগণ তাদেরই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা প্রণীত এটি শাসনতন্ত্র পেতে যাচ্ছেন। ওই সময় সেটিই ছিল বড় খবর। এইদিন সন্ধ্যায় ৭০তম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কমিটি এই সমাপ্তির বিষয়ে জানান। গণপরিষদের সংবিধানের খসড়া কমিটির সদস্যরা এরপর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। এদিকে শাসনতন্ত্রের বিল পেশের পর তিনদিন গণপরিষদ বৈঠক মুলতবি থাকতে পারে বলে খবরে প্রকাশ করা হয়। ৯ অক্টোবর স্থানীয় কারিগরি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। তাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতিত্ব করবেন। ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার গণপরিষদে শাসনতন্ত্র উপস্থাপনের তিন দিনের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা হতে পারে। চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের পূর্বে শাসনতন্ত্রটি গণপরিষদ সদস্যরা যাতে ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করতে পারেন সে কারণেই এই বিরতি দেওয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

 





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: