মাইক্রোসফট সহকর্মীদের কাছে সত্য নাদেলার চিঠি

সত্য নাদেলা। ছবি: রয়টার্সসতীর্থরা 

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সারা পৃথিবীর সবাইকে প্রভাবিত করছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সব ক্ষেত্রেই প্রভাব তৈরি করছে। আমাদের সামাজিক সংযোগ থেকে শুরু আমাদের পরিবার, সমাজ আর আমরা যারা মাইক্রোসফটে কাজ করি—সবার ওপরই প্রভাব ফেলছে। এই সংকট সেই সময়ের কথা আমাদের মনে করায়, যখন প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু করার আছে। একসঙ্গে সংঘবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার গুরুত্ব বোঝায়। এখন সময়টাই যেন একটি বড় প্রতিবন্ধকতা আর অনিশ্চয়তার। যখন আমাদের উদ্দেশ্যকে বোঝা ও আমাদের পরিচয়ের প্রতি সৎ থাকাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রতিষ্ঠান ও সারা বিশ্বেই আমি কয়েক সপ্তাহ ধরেই এমন কাজের ছাপ দেখেছি।

এ বছরের শুরুতে আমি করপোরেশনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখেছিলাম এভাবে, ‘মানুষ ও পৃথিবীর সমস্যার জন্য লাভজনক সমাধান তৈরিই করপোরেশনের উদ্দেশ্য।’ আমাদের প্রতিষ্ঠানের মিশনও এই ধারণার সমান্তরাল। বর্তমানে এ কথাই বেশি সত্য, আমরা কাজ করে যাচ্ছি কোভিড-১৯-এর প্রভাব নিয়েই।

আমরা আমাদের লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা সব ব্যক্তি ও সব প্রতিষ্ঠানকে বেশি কাজে ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো একটি প্রতিষ্ঠান এককভাবে একটি চ্যালেঞ্জ সমাধান করতে পারে না। কোভিড ১৯-কে পরাজিত করতে আমাদের প্রাইভেট ও পাবলিক প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের প্ল্যাটফর্ম ও টুল হিসেবে ভূমিকা বিন্দুগুলোকে সংযুক্ত করতে কাজ করছে। আমরা নানান চ্যালেঞ্জ জয় করতে সব অংশীদার ও প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল দক্ষতা তৈরিতে কাজ করছি। এই অনন্য সময়ে এটা বলা যায়, বিভিন্ন সফটওয়্যার সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সব কাজে সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করা।

এ সময়ে কাজের আসলে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। কাজের গতি প্রতিমুহূর্তেই পরিবর্তিত হচ্ছে। বাড়ি থেকে আপনারা অনেকে প্রথমবারের মতো কাজ করছেন। অনেকেই বাড়িতে শিশুদের যত্ন নিচ্ছেন। আমি নিজেও শিখছি। আমি আমার বাড়ির অফিস আমার দুই কিশোরী কন্যার সঙ্গে ভাগাভাগি করছি। তাদের ইলার্নিংয়ের সময়সূচি আর আমার মিটিংয়ের মধ্যে সমন্বয় করে চলেছি। পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা ও বোঝাপড়া এই সময় অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে প্রয়োজন বেশি। আমি আমাদের প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য উদাহরণ দেখছি। প্রতিষ্ঠানের কাজকে গুরুত্ব দিয়ে সহকর্মীরা যেমন কাজ করছেন, তেমনি গ্রাহকদের কাজে এগিয়ে আসছেন।

আমরা যাদের সঙ্গে কাজ করছি, তাদের কাঠামোগত সহায়তা করছি। স্বাস্থ্য খাতে উদাহরণ হিসেবে আমাদের প্রযুক্তি টেলিমেডিসিনে ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার সেন্ট লুকস ইউনিভার্সিটি হেলথ নেটওয়ার্কের চিকিৎসকেরা ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে কোভিড-১৯-এ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর সঙ্গে ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে কথা বলেন। এই সময়ে সমন্বয়ের জন্য আমরা একটি মঞ্চ তৈরি করেছি, যেখানে গ্রাহকেরা তাঁদের তথ্য প্রকাশ করতে পারেন। বিশ্বের প্রায় দুই হাজারের বেশি গ্রাহক এই মঞ্চ চালু করেছে। সুইডিশ হাসপাতাল, সিয়াটলের স্থানীয় হাসপাতাল মাইক্রোসফটের পাওয়ার অ্যাপ ও পাওয়ার বিআই টুলসের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালের বেডসংখ্যা গণনা ও প্রয়োজনীয় রসদ গণনায় সহায়তা নিচ্ছেন। জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে যেকোনো সময়ে তাৎক্ষণিক সারা বিশ্বের কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হওয়ার চিত্র জানা যাচ্ছে।

পাবলিক সেক্টরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে জনগণের সমন্বয়ের জন্য আমরা কাজ করছি। ইতালি, কুয়েত, জাপান, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশে মাইক্রোসফট ৩৬৫ ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণকে তথ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে দূরশিক্ষণে কাজ করছি আমরা। ইতালির বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক তিন দিনের মধ্যে ৯০ শতাংশ কোর্স অনলাইনে চালু করার কথা জাপান। জাপানের একটি এলিমেন্টারি স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান মাইনক্র্যাফটে আয়োজন করা হয়।

আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাইরাসের কারণে বৃহৎ সামাজিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক প্রভাবের কথা নিয়ে কাজ করছি। আমরা রিটেইল স্টোর ও ঘণ্টা হিসেবে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের আর্থিকভাবে সহায়তা করছি।

ব্যাপকভাবে আমরা কোভিড-১৯ নিয়ে তথ্যসহায়তা গ্রহণে সহায়তা করছি। বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ ও তথ্য লিংকডইনের সদস্যের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। বিং সার্চ ইঞ্জিনে কোভিড–১৯ ট্র্যাকার চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিসংখ্যান জানা যাচ্ছে। আমরা ফেসবুক, গুগল, টুইটারসহ সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভাইরাস নিয়ে ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য বন্ধে কাজ করছি।

এই কথাগুলো শুধু কয়েকটি উদাহরণমাত্র। আমি সবাইকে কঠোর পরিশ্রম ও কঠিন সময়ে এমন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

আমরা যেন অপরিচিত এলাকায় আছি। বেশি বিষয়ই যেন অজানা। আমি জানি, অনিশ্চয়তা আর অস্থিরতা কেমন অনুভূত হয়। আপনাদের অনেকের মতোই কয়েক সপ্তাহ ধরেই আমি দ্বিধান্বিত। আমি আমার পরিবার, সহকর্মী ও বন্ধুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। আমার স্ত্রী ও আমি আমাদের বয়স্ক পিতা–মাতার জন্য চিন্তিত, যাঁরা আমাদের থেকে অনেক দূরে ভারতে অবস্থান করছেন। আমি এই সংগ্রাম আমার এলাকায় দেখছি, সারা পৃথিবীতেই দেখছি। জনশূন্য রাস্তা আর রেস্টুরেন্ট দেখছি। আমি ভাবছি, আবার সব কবে সামাজিকভাবে সক্রিয় হবে।

একটি সত্য আমাকে আশ্বস্ত করেছে। এই ভাইরাসের আসলে কোনো সীমানা নেই। এর চিকিৎসাও কোনো সীমানায় আটকে থাকবে না। আমরা সবাই মিলে একটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের অংশ। আমার কাছে অতীতের দুশ্চিন্তা কাটানোর ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিদিন আমি কীভাবে ছোট ছোট পরিবর্তন আনতে পারি, তার দিকে নজর দেওয়া। আমরা যে যা-ই হই না কেন, আমাদের সবার সামনে সুযোগ একই কিন্তু। আশা নিয়ে যেকোনো কাজ আর ভালোর জন্য ছোট ছোট পদক্ষেপ সবাই নিতে পারে। আর সবাই যদি পৃথিবীকে একটু করে ভালো করতে যেকোনো কাজ করি, তাহলে আমাদের সমন্বিত কাজ আরও বেশি পৃথিবীর ভালো করবে। আমাদের সমন্বিত কাজ আমরা যাদের ভালোবাসি, আমাদের সম্প্রদায় ও সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।

আমি মাইক্রোসফটে প্রতিদিন কাজ করে গর্ববোধ করি। আপনাদের সবাইকে আমার সহকর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি।

সম্প্রতি মাইক্রোসফটের কর্মীদের চিঠি লিখেছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলা

(সংক্ষেপিত অনুবাদ)

অনুবাদ: গোলাম রব্বানী





সম্পূর্ণ রিপোর্টটি প্রথম আলোতে পড়ুন

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: