পরিবহনের ভাড়া না বাড়িয়ে তেলের দাম কমান: আল্লামা কাসেমী


ইমান২৪.কম: সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক করোনা পরিস্থিতির সময় গণপরিবহনের ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

তিনি বলেন, গণপরিবহনে চলাচল করে মধ্য ও নিম্নবিত্তের মানুষ। করোনা পরিস্থিতির কারণে এই শ্রেণীর মানুষগুলো যে ব্যাপক অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা করছে এটা সকলেরই জানা। সুতরাং ভাড়া বৃদ্ধি করে জনগণের জীবনযাপনকে আরো সঙ্কটগ্রস্ত করবেন না।

আজ (৩১ মে) রোববার এক বিবৃতিতে জমিয়ত মহাসচিব আরো বলেন, পাঁচ মাস আগে ডিসেম্বরে বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের ব্যারেল প্রতি দাম ছিল ৬৪ ডলার, আর সেই তেল বর্তমানে ২৬ – ২৭ ডলারে নেমে এসেছে।

সুতরাং গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি নয়, সরকারের কর্তব্য জ্বালানী তেলের দাম করোনাকালীন সময়ে অর্ধ্বেকে নামিয়ে এনে পরিবহন খাতের ব্যয় কমিয়ে আনা। তিনি বলেন, যখন বিশ্ববাজারে ২০১৩-১৪ সালের দিকে ব্যারেল প্রতি ১০০ থেকে ১১০ ডলার ছিল, তখন দেশে জ্বালানী তেলের যে দাম ছিল,

এখন আন্তর্জাতিক বাজারে তার চেয়ে তিন চতুর্থাংশ দাম কমা সত্ত্বেও সেই ২০১৩-১৪ সালের সময়ের চেয়েও জ্বালানী তেলের দাম বেশি রয়ে গেল কেন? কেন তেলের দাম দ্বিগুণ, তিন গুণ বেশী নেওয়া হচ্ছে? রাষ্ট্রের দায়িত্ব জনগণের সেবা করা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা, জনগণ থেকে দ্বিগুণ তিনগুণ মুনাফা করা নয়।

আল্লামা কাসেমী বলেন, পরিবহনমালিকদের দাবির মুখে তড়িঘড়ি করে মাত্র এক ঘণ্টার বৈঠকে ব্যয়-বিশ্লেষণ এবং গাড়ি চলাচল শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ না করেই বাড়তি ভাড়ার বোঝা যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কখনো যৌক্তিক আচরণ নয়।

কারণ, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিকেরা যেমন ক্ষতির মুখে পড়েছেন, সাধারণ মানুষও তো ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ ও সঙ্কটের মুখে আছেন। পরিবহন মালিকদের সঙ্কট সরকার দেখবে না সেটা বলছি না, তবে তার আগে তো জনগণের পরিস্থিতি ও স্বার্থটা দেখতে হবে।

জমিয়ত মহাসচিব সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রথমত: পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখুন পরিবহনগুলো কতটা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছে এবং এতে পরিবহন মালিকদের কতটা বাস্তবিক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। যদি বাস্তবিকই তাদের উপর আর্থিক চাপ পড়ে, তাহলে জ্বালানী তেল থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ মুনাফা না করে তেলের দাম অন্তত: করোনাকালে অর্ধেকে নামিয়ে এনে পরিবহন মালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিন।

এ পর্যায়ে বিভিন্ন সড়ক ও সেতুর টোল আদায় কয়েক মাসের জন্য স্থগিত করা যেতে পারে। পাশাপাশি সড়কে দ্বিমুখী, ত্রিমুখী চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিন। তিনি বলেন, কেবল পরিবহনগুলোর উপর থেকে সড়কের চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে অর্ধেক যাত্রী নিয়েও বর্তমান ভাড়ায় লাভ করা সম্ভব বলে পরিবহনখাত সংশ্লিষ্ট অনেকেই পত্রিকায় অভিমত দিয়েছেন।





Source link

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: