ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ

ইরফান সেলিম (ছবি: সংগৃহীত)নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় পুরান ঢাকার সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইরফান সেলিমসহ চার জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলাটি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৩০ নভেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার এজাহার পৌঁছালে বিচারক আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমান এই আদেশ দেন।

আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মামলায় আসামিরা হলেন- ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজী সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমান।

সোমবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ইরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাব। পরে তাদের এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় র‌্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, মাদক ও অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখার অপরাধে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দুই জনকে একবছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে দুই-তিন জন ব্যক্তি নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিম আহমেদ খানকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।

সোমবার দায়ের করা মামলার এজাহারে ওয়াসিফ আহেমদ অভিযোগ করেন, রবিবার (২৫ অক্টোবর) নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে করে তিনি মোহাম্মদপুরে তার বাসায় ফিরছিলেন। সঙ্গে তার স্ত্রীও ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি গাড়ি। ওয়াসিফ আহমদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে। তারা গাড়ি নিয়ে কলাবাগানের দিকে যায়। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমদও তাদের পেছনে পেছনে যান। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবিহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো’−এই কথা বলে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন-

‘সাম্রাজ্য চালাতে’ হাজী সেলিমের বাসায় কন্ট্রোল রুম

হাজী সেলিমের ছেলেসহ দুজনকে কারাদণ্ড

‘আমি মারধর করিনি, করেছে সিকিউরিটি গার্ড জাহিদ’

হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর একদিনের রিমান্ডে

আড়াই ঘণ্টার অভিযানে হাজী সেলিমের ছেলে র‌্যাব হেফাজতে

হাজী সেলিমের ছেলে ও দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা 

হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করেছে র‍্যাব

অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর 





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: