করোনা রোগীর মৃত্যু, ডাক্তার-নার্সদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালনারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায়। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর ডাক্তার ও নার্সরা তার চিকিৎসায় অবহেলা করেছেন। 

হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যুর প্রমাণপত্রে লেখা হয়েছে নগরীরর আমলাপাড়া এলাকার ওই বাসিন্দা (৫৫) গত ১ জুলাই করোনার উপসর্গ নিয়ে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসাতালে ভর্তি হন। পরের দিন কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়। ৩ জুলাই রেজাল্টে করোনা পজিটিভ আসে। ৬ জুলাই রাত আড়াইটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির ভাগ্নে জানান, হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের থাকা, খাওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা স্থানীয় সংসদ সদস্য দায়িত্ব নিয়ে করে দিয়েছেন। তবু হাসপাতালে তারা রোগীদের প্রতি সেভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না।

তিনি অভিযোগ করেন, মামাকে এক জুলাই হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ভর্তি করান। কিন্তু হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে যে বেডে তাকে রাখা হয়েছিলো সেই বিছানায় কোনও চাদর ও বালিশের কাভার ছিল না। দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্সদের বার বার বলেও তা পাওয়া যায়নি। যে কারণে ফোম বের হয়ে যাওয়া বেডেই তাকে দুইদিন থাকতে হয়। এমনকি করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসার পর আইসোলোশন থেকে করোনা পজিটিভ ওয়ার্ডে নেওয়া হলে সেখানেও বিছানা-বালিশের কাভার মেলেনি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রবিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় মামা মারা যান। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি করোনা পজিটিভ ওয়ার্ডের বাইরে একটি ট্রলির মধ্যে মামার লাশ রাখা হয়েছে। লাশের শরীরে একটি চাদর থাকার পরও তা দিয়ে লাশটি ঢেকে দেওয়া হয়নি। করোনা পজিটিভ লাশ নেওয়ার জন্য পলিথিন দিয়ে মোড়ানো বা সুরক্ষা কভার বা ব্যাগও হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়নি। ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সকে লাশ কীভাবে নেবো জিজ্ঞাসা করলে তিনি ইমার্জেন্সি থেকে লাশ বহনকারী ব্যাগ নিয়ে আসার পরমর্শ দেন। কিন্তু ইমার্জেন্সিতে গিয়ে ব্যাগ না পেয়ে হতাশ হয়ে লাশ দাহ করার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় ওরা ১১ জন নামক সেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতা রিপন বাওয়ালকে খবর দেন। পরে সংগঠনের কর্মীরা হাসপাতালে লাশ বহনের ব্যাগ না পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস থেকে ব্যাগ সংগ্রহ করে ভোরে লাশ নিয়ে যান মাসদাইর শ্মশানে।

এ বিষয়ে সংগঠনটির দলনেতা রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসপাতালের করোনার লাশ ওয়ার্ডের সামনে খোলা অবস্থায় ট্রলিতে ফেলে রাখা ও কর্তব্যরত ডাক্তার-নার্সদের দায়িত্ব ও অবহেলার চিত্র তুলে ধরে লাইভ করেন। লাইভে তিনি এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। আর লাশ বহনের ব্যাগের বিষয়ে বলেন, এগুলো হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয় না। পুলিশ প্রশাসন বা স্থানীয় লাশ দাফনকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মৃতের দেহ ব্যাগে ভরে নিয়ে গিয়ে দাফন বা দাহ করার ব্যবস্থা নেয়।





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: