‘এন্ড্রু কিশোর যখন রাজশাহীতে গাইতেন, রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যেত’

এন্ড্রু কিশোর (৪ নভেম্বর ১৯৫৫-৬ জুলাই ২০২০)রাজশাহীর ছেলে এন্ড্রু কিশোর একাই যেন রাজত্ব করে গেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রে।
১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ দিয়ে তার গানের রেলগাড়ির যাত্রা। যে গাড়িটি থেমেছে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায়।
মাঝের সময়টুকুতে তিনি গেয়েছেন কমপক্ষে ১৫ হাজার গান। যার বেশিরভাগই চলচ্চিত্রে। এগুলো তো জানা কথা। এন্ড্রু কিশোর যখন ‘এন্ড্রু কিশোর’ হয়ে ওঠেননি, সেই কিশোর বয়স থেকেই জন্মস্থান রাজশাহীতে তিনি ছিলেন সবার মধ্যমণি।
যখন গাইতেন সময়টা এক লহমায় আটকে যেত। রাজশাহীর রানীবাজার, ভুবনমোহন পার্ক স্থবির হয়ে যেত তার কণ্ঠের মায়ায়।
তার বন্ধু ও একাধিক ঘনিষ্ঠজনদের মতে, কিশোর এন্ড্রু কিশোরকে একনামে চিনতো রাজশাহীর মানুষ।
ঘনিষ্ঠজন ও বন্ধু সরাফ আহমেদ ছাত্রজীবনের এন্ড্রু কিশোরের বিষয়ে গণমাধ্যমে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘‘রাজশাহী শহরে তখন খুব ধুমধাম করে দুর্গাপূজা হতো। পূজার সময় মিউজিক কনসার্ট হতো। রানীবাজারের অ্যারোহেড ক্লাব খুব জাঁকজমকের সাথে দুর্গাপূজা করতো। তাদের সেই পূজা মিউজিক কনসার্টে এন্ড্রু কিশোর গান গাইতো। কয়েকবার অলকা সিনেমা হলের কাছে সেই পূজা মিউজিক কনসার্টে গিয়েছি। সে এক এলাহি কাণ্ড। রাস্তার ধারে উঁচু মঞ্চে এন্ড্রু কিশোর গান গাইছেন আর হাজার হাজার মানুষ তার গান শুনছেন। তার গানের সময় রাস্তা বন্ধ হয়ে যেত। তখন দেখেছিলাম, তিনি নজরুলগীতির বাইরে কিশোর কুমারের জনপ্রিয় গানগুলিও খুব মুনশিয়ানা দিয়ে অবিকল গাইতেন। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর আমি রাজশাহী কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। আর আমাদের একটু সিনিয়র এন্ড্রু কিশোর ভর্তি হয়েছিলেন রাজশাহী সিটি কলেজে। ওই কলেজে আমাদের বন্ধুরা এন্ড্রু কিশোরকে নিয়ে গৌরববোধ করতো। বলতো, ‘আমাদের কলেজে রাজশাহী শহরের সেরা গায়ক পড়াশোনা করে।’’
প্রথমদিকে এন্ড্রু কিশোরের অন্যতম ওস্তাদ ছিলেন রাজশাহীর সুরবাণী সংগীত বিদ্যালয়ের আব্দুল আজিজ বাচ্চু। শুরুতে নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক, লোক ও দেশাত্মবোধক গান করতেন এন্ড্রু। তখনই তিনি রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।
১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে গেয়েছিলেন ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গান। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গান দিয়ে প্রথম জনপ্রিয়তা লাভ করেন এন্ড্রু কিশোর। এরপর আর পিছু ফিরে তাকানোর সময়ও পাননি আটবার চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই কিংবদন্তি।
বলা যায়, এন্ড্রুর পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আর কোনও গায়ক এতটা সময় কণ্ঠের দাপট দেখাতে পারেননি।
৬ জুলাই তিনি ক্যানসার নামের মরণব্যাধিতে চলে গেলেন। কিন্তু অসুস্থতার আগ পর্যন্ত ছিলেন গানের সঙ্গে। এমনকি চলতি বছর সিঙ্গাপুরের মঞ্চে উঠে গেয়েছিলেন ‘জীবনের গল্প, আছে বাকি অল্প’।
সেই অল্প সময়টা যে এত ছোট, তা তার ভক্তরা টেরও পাননি।





আরও পড়ূন বাংলা ট্রিবিউনে

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

%d bloggers like this: